দীপিকার ককটেল

তাঁকে বলা হতো ‘প্লাস্টিক বেবি’। প্রথম ছবি ওম শান্তি ওম মুক্তির পর সমালোচক অনুপমা চোপড়া লিখেছিলেন—ছবির নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন দেখতে সুন্দরী। তবে অভিনয় নির্জীব, নিথর, নিষ্প্রাণ। দ্বিতীয় ছবি বাঁচনা অ্যাই হাসিনো মুক্তির পর সমালোচক তরুণ আদর্শ লিখেছিলেন—ছবির একমাত্র ‘মাইনাস’ পয়েন্ট দীপিকা


পাড়ুকোন। দীপিকার আরেকটি বড় হিট লাভ আজকাল মুক্তির পর প্রশংসার বন্যায় স্নাত হয়েছিলেন পরিচালক, প্রযোজক, সংগীত পরিচালক, ছবির নায়ক। নায়িকা নিয়ে সবার তখনো ঢিলেঢালা মন্তব্য, ‘ভা-লো! তবে মন ছুঁয়ে যায় না।’
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া থেকে সোনম কাপুর অনেকেই দৈনিক পত্রিকা পড়া ছেড়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। দীপিকা ব্যতিক্রম। তিনি তাঁর সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা সব সময়ই মন দিয়ে পড়েন, নিজেকে বিশ্লেষণ করেন। তাঁর নিজের ভাষ্যমতে, ‘আমি এখনো অভিনেত্রী হয়ে উঠতে পারিনি। আমাকে অনেকদূর যেতে হবে।’ নিজের সম্পর্কে এতটা বিনয়ী হতে দেখা যায় না খুব বেশি অভিনয়শিল্পীকে। এই সততা ও ধৈর্যের পরীক্ষায় দীপিকা অবশেষে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ককটেল-এ সবাই দীপিকার অভিনয় দেখে তাজ্জব বনে গেছেন। প্রশংসার বৃষ্টিতে ভিজে একাকার দীপিকা পাড়ুকোন আর তাঁর কট্টর সমালোচকেরাও পানসে হাসি হেসে দীপিকার অভিনয়ের স্তুতি গাইছেন। অভিনেত্রী শাবানা আজমী নতুন প্রজন্মের কাজের প্রশংসা করতে ভোলেন না। ককটেল দেখে তাঁর মন্তব্য, দীপিকা এ ছবির প্রাণ। অভিষেক বচ্চন আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, এ ছবির জন্য দীপিকা পাড়ুকোন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পাবে। ওদিকে সমালোচক-পরিচালক খালিদ আহমেদ বলেন, কুচ কুচ হোতা হ্যায় যেমন কাজলকে, জাব উই মেট যেমন কারিনাকে নতুন জীবন দিয়েছিল, দীপিকার জন্য সেই জীবনের নাম ককটেল। কেউ ভাবেননি দীপিকা সবাইকে এতটা চমকে দেবেন।
এ ছবি প্রসঙ্গে দীপিকা বলেন, লাভ আজকাল-এর পরিচালক ইমতিয়াজ আলী এ ছবির পাণ্ডুলিপি লিখেছেন। একই ছবির প্রযোজক সাইফ আলী খান এ ছবির প্রযোজক। পাণ্ডুলিপি পড়ে দীপিকা বুঝতে পারছিলেন না মীরা নাকি ভেরোনিকা, কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন। কারণ দুটি চরিত্রই তাঁর পছন্দ হয়ে যায়। মীরা চরিত্রটি ঠিক যেন তাঁর মতোই, লাভ আজকাল-এর মীরা চরিত্রের সঙ্গেও এ ছবির মীরার অনেক মিল। সুতরাং এ চরিত্রে খুব সহজেই দুর্দান্ত অভিনয় করা যাবে। ওদিকে ভেরোনিকা চরিত্রটি ব্যক্তি দীপিকার তুলনায় ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত মেরুর। এ চরিত্রে অভিনয় করতে কষ্ট হবে। তবে চ্যালেঞ্জ নিয়ে জয়ী হলে সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়া যাবে। দীপিকা পরিচালককে অনুরোধ করেন, দ্বৈত চরিত্রে তিনি অভিনয় করতে চান। কিন্তু পরিচালক-চিত্রনাট্য দুজনই চান, দীপিকা কঠিন রাস্তায় হাঁটুক। মীরা নয়, ভেরোনিকা চরিত্রে অভিনয় করুক। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজেকে পরিচালকের কাছে সঁপে দিয়েছিলেন দীপিকা। ফলাফল, ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য।
অনেকেই এখন বলছেন, দীপিকা সাইফ আলী খানের জন্য লাকি। কারিনা কাপুর বরাবরই সাইফের ছবিতে ফ্লপ হয়েছেন। তাশান থেকে কুরবান, সর্বশেষ সাইফ প্রযোজিত এজেন্ট বিনোদ—সব কটিই ডাহা ফ্লপ। সে তুলনায় দীপিকা-সাইফ জুটির লাভ আজকাল ব্লকবাস্টার হিট, আরকষণ ফ্লপ হলেও প্রশংসিত এবং সর্বশেষ ককটেল সুপারহিটের পথে। দুজনার এই রসায়নের রহস্য কী? দীপিকা বলেন, যখন লাভ আজকাল করি, তখন তো সাইফকে ঠিকমতো জানতামও না। তবে কাজ করতে গিয়ে দুজনের পছন্দ-অপছন্দের জায়গাগুলো ধরতে পেরেছি। হয়তো এটাই রহস্য। দীপিকা-সাইফ এখন আব্বাস মাস্তানের রেস ২ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করছেন। এ ছবিটিও হতে পারে দুজনের ক্যারিয়ারের মাইলফলক।
ককটেল-এর পর দীপিকার পরবর্তী ছবি ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি। করণ জোহর প্রযোজিত, অয়ন মুখার্জি পরিচালিত এ ছবিতে দীপিকার নায়ক সাবেক প্রেমিক রণবীর কাপুর। রণবীর-দীপিকা নাকি আবারও প্রেমের ভেলায় ভাসছেন? এ প্রসঙ্গে দীপিকা বলেন, ‘কানাঘুষা করতে থাকুন। তাহলে অন্তত আমাদের ছবির বিনা মূল্যে প্রচারণা হয়ে যাবে। সত্যি যদি জানতে চান, রণবীর এবং আমি দুজনই ভীষণ স্বার্থপর। প্রেম করে আর সময় নষ্ট করতে চাই না। বন্ধু হিসেবে রণবীর অসাধারণ। ওর বন্ধুত্ব উপভোগ করতে চাই।’
খুব শিগগিরই নাকি দীপিকা ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে ইন্ডিয়াস নেক্সট টপ মডেল রিয়েলিটি শো-এর বিচারকের কাজ করতে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে দীপিকার সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘অপেক্ষায় থাকুন। আর কদিন পর এ বিষয়ে মুখ খুলব। আপাতত আমি মন-প্রাণ দিয়ে ককটেল-এর সাফল্য উপভোগ করতে চাই।’
 রুম্মান রশীদ খান
ইন্ডিয়া টুডে, জি নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, এক্সপ্রেস ট্রিবিউট, ফিল্মিক্যাফে,বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে

No comments

Powered by Blogger.