প্রচ- ঠা-া উপেৰা করে দেশে দেশে বর্ষবরণ, ফিলিপিন্সে হত ৫ আহত ছয় শ' আকাশে আতশবাজির খেলা

নববর্ষ ২০১০ আনন্দ উচ্ছ্বাসে বরণ করে নিয়েছে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ। ইউরোপ-আমেরিকা জুড়ে এখন প্রচ- ঠা-া। তুষার ঝড় বইছে সর্বত্র। কিন্তু এই হিমশীতল তাপমাত্রা উপেৰা করেই ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানে নানা আয়োজনে নববর্ষকে স্বাগত জানিয়েছে মানুষ।


রাত ১২টার দিকে নিউইয়র্ক, বার্লিন, মস্কো, লন্ডন, প্যারিসের আকাশ জুড়ে চলে আতশবাজির মনোহর খেলা। নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে কড়া নিরাপত্তা ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্র উপেৰা করে নববর্ষের অনুষ্ঠান প্রত্যৰ করতে জড়ো হয় বিপুল সংখ্যক মানুষ। মস্কোর রেড স্কোয়ারেও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে উচ্ছ্বসিত মানুষের ভিড় দেখা গেছে। জাপানে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ২০১০ সালকে স্বাগত জানায় জাপানীরা। এদিকে ফিলিপিন্সে বর্ষবরণ উৎসবে আতশবাজি ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ৬শ' লোক আহত হয়েছে। খবর এনা, এএফপি, এপি ও রয়টার্স অনলাইনের।
নিউইয়র্কে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপলৰে কর্তৃপৰ আগেই হাই এলার্ট জারি করে। টাইমস স্কোয়ারমুখী সড়কগুলোতে বেশ কয়েকটি চেকপয়েন্ট বসানো হয়। আকাশে টহল দেয় পুলিশের হেলিকপ্টার। বড়দিনে আমস্টারডাম থেকে মিশিগানগামী একটি বিমানে আল কায়েদার সদস্যের সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা নস্যাত হওয়ার পর নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানের জন্য কর্তৃপৰ সতর্ক ব্যবস্থা অবলম্বন করার কথা জানায়। তবে সম্মিলিতভাবে যে কোন সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র রম্নখে দিয়ে মন্দামুক্ত নিরাপদ আমেরিকার প্রত্যয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় আমেরিকানরা। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারসহ বিভিন্ন সিটিতে বর্ষবরণের উৎসব শুরম্ন হয়। টাইমস স্কোয়ারে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ২ হাজার ৬শ' ৮৮টি ওয়াটারফোর্ড ক্রিস্টাল বাল্বের নিচে ৩২ হাজার ২শ' ৫৬টি ফিলিপস বাল্ব দিয়ে ২০১০ ঘচিত একটি বল তৈরি করা হয়। ঠিক রাত ১২টায় এটি ৭৭ ফুট উপর থেকে নিচে নামানো হয় এবং তা ২০১০ সালে মিশে যায় উলস্নসিত লাখো জনতার 'হ্যাপি নিউ ইয়ার' ধ্বনিতে। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীকেও আনন্দে মেতে উঠতে দেখা গেছে।
এদিকে নববর্ষ বরণকালে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে ফিলিপিন্সে। শুক্রবার কর্তৃপৰ জানিয়েছে আগের দিন রাত ১২টার দিকে মিন্দানাও দ্বীপের একটি শহরে আতশবাজির দোকানে আগুন ধরে গেলে পাঁচ বছরের এক শিশু ও তার মা মারা যায়। এতে ওই দোকানের এক কমর্ীও প্রাণ হারিয়েছে। জিম্বোয়াঙ্গা শহরে আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে একটি সাঁকোতে কিছু লোক উঠলে তা ভেঙ্গে পড়ে দু'জন নিহত ও পাঁচ জন আহত হয়। আরেকটি আতশবাজি পোড়ানো ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার সময় ৫৭১ জন আগুনে এবং ২৬ জন গুলিতে আহত হয়।

No comments

Powered by Blogger.