চোরাই পণ্য ধরতে সহায়তা করায় রেলকর্মীকে মারধর!

আখাউড়া রেলজংশন স্টেশনে ট্রেন থেকে ভারতীয় চোরাই পণ্য আটকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সহায়তা করায় রেলওয়ের এক পরিছন্নতাকর্মীকে রেলওয়ে পুলিশ ও চোরাকারবারিরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই রেলকর্মীকে মারধরের পর হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ থানায় নিয়ে আটকে রাখে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ রেলওয়ের শ্রমিক-কর্মচারীরা মিছিল করেন।
রেলওয়ে পুলিশ ও কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর মহানগর ট্রেনে চোরাচালানের পণ্য রয়েছে উল্লেখ করে ওই ট্রেনে অভিযান চালানোর জন্য বিজিবি রেলওয়ের স্টেশনমাস্টারের কাছে আবেদন করে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি আখাউড়া স্টেশনে পৌঁছার পর বিজিবি তল্লাশি শুরু করে। ট্রেনের একটি কামরার বাথরুমের দরজা খুলতে না পেরে বিজিবি রেলওয়ের যান্ত্রিক বিভাগের পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রকাশ হরিজনকে (২২) ডেকে আনে। তাঁর সহায়তায় ওই বাথরুম থেকে ৫০ কেজি ভারতীয় জিরা ও ২০ কেজি কিশমিশ উদ্ধার করে বিজিবি।
রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, বিজিবিকে সহায়তা করার কারণে সাদা পোশাকে থাকা আখাউড়া রেল পুলিশের হাবিলদার আসাদুজ্জামান ও চোরাকারবারি শাহাবুদ্দিন প্রকাশ হরিজনকে মারধর করেন। এরপর রেল পুলিশের ওই সদস্য প্রকাশকে আহত অবস্থায় হাতকড়া পরিয়ে রেলওয়ে থানায় নিয়ে আটকে রাখেন।
ওই ঘটনার পর স্টেশন প্ল্যাটফর্মের পুলিশ কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন। একপর্যায়ে তাঁরা ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। পরে স্টেশনের মাইকে আখাউড়া জংশনের সর্বদলীয় রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন ঘোষণা দেন, সন্ধ্যায় এই বিষয়ে জরুরি বৈঠক হবে। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
রাতে আখাউড়া রেলওয়ে লাল হোসেন ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে রেলওয়ের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ সভা করে। সভা শেষে পরিষদের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি চোরাকারবারিদের কাছ থেকে অনৈতিক ফায়দা নেন। তাই পুলিশ চোরাচালানের পণ্য উদ্ধারে বিজিবিকে সহায়তাকারী রেলকর্মীর ওপর অমানসিক নির্যাতন করে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে অপসারণ করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পূর্বাঞ্চলে রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে রেল পুলিশই দায়ী থাকবে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত খন্দকার বলেন, বিজিবির সোর্স (তথ্য প্রদানকারী) ভেবে চোরাকারবারিরা ওই রেলকর্মীকে মারধর করে। পুলিশ তাঁকে রক্ষা করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের কেউ তাঁকে মারধর করেনি।

No comments

Powered by Blogger.