শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা by হায়দার আকবর খান রনো

গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারি মাসজুড়ে শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক দরপতনের খেলা চলেছে। পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম ওঠানামা করবে এটা স্বাভাবিক। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় এক ধরনের জুয়ার কারবার যে আছে, তা নতুন কিছু নয়। শেয়ারবাজারের দর অধিকাংশ সময় স্বাভাবিক অর্থনৈতিক অবস্থাকে অনুসরণ করে চলে না।


এর মধ্যে একটা ফটকাবাজি প্রবণতা আছে। এই প্রবণতা এখন বিশ্ব পুঁজিবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশের পুঁজিবাজার ছোট এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সর্বদা বিশ্ববাজার দ্বারা অতখানি প্রভাবিত হয় না। আমাদের স্টক-বাজারে আবার কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এমনভাবে প্রধান্য আছে যে তারা ম্যানুপুলেট করতে পারে। করেও থাকে। একে তো পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ফটকা কারবারের প্রাধান্য রয়েছে, তার সঙ্গে যদি ম্যানুপুলেট করার ঘটনাটি যুক্ত হয়, তাহলে তার পরিণতিতে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এই পরিণতি বড় ভয়ংকর। লাখ লাখ খুদে বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়েছে। আর এই সুযোগে অল্প কিছু লোক হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। কারা তারা, সেটা লোকের মুখে মুখে শোনা যায়। কিছু তথ্য-ভিত্তিও আছে। কিন্তু তারা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
এই অবস্থাটাকে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, 'গোদের উপর বিষফোড়া'। পুঁজিবাদের স্বাভাবিক ও সহজাত যে দুরারোগ্য ব্যাধি ফটকাবাজির প্রবণতা তাকে তিনি 'গোদ' রোগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার ওপর বাংলাদেশে সম্প্রতি যা হয়েছে তা হলো আরেক ব্যাধি, সেটা হলো 'বিষফোড়া'। কিছুসংখ্যক লোকের যে জোচ্চুরি কারবার সেটাকেই তিনি 'বিষফোড়া' বলে অভিহিত করেছেন। একে তো পুঁজিবাদ নিজেই শোষণমূলক এবং ঠগবাজি ব্যবস্থা, তার ওপর আমাদের দেশে সরকারের অনুগ্রহপ্রাপ্ত কিছু লোকের যে ধরনের জোচ্চুরি কারবার চলছে, তাতে পরিণাম হয়ে উঠেছে ভয়াবহ।
এই পরিণাম যে কত ভয়াবহ তার চিত্র পত্রপত্রিকা তুলে ধরেছে। কালের কণ্ঠেও বেশ কয়েকবার এই ধরনের হিসাব ও সংখ্যাতথ্য প্রকাশ হয়েছে। কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম একটি দৈনিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছেন, 'গত এক মাসের মধ্যে পর পর দুই দফায় আবার শেয়ারবাজারে রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। প্রথম দফায় কয়েক দিনে দেড় হাজার পয়েন্ট এবং পরের বার প্রায় দুই হাজার পয়েন্ট দরপতন ঘটেছে। শেয়ারবাজারে মোট লোকসান হয়েছিল প্রথম দফায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। ১০ জানুয়ারি এক দিনে ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের সূচক পড়ে গিয়েছিল ৬৬০ পয়েন্ট। ভয়াবহ দরপতনের পরদিন ১১ জানুয়ারি ঘটেছে মূল্যসূচক উত্থানের বিস্ময়কর চমক। সূচক এক দিনে লাফিয়ে এক হাজার ১২ পয়েন্ট বেড়েছিল।' কিন্তু আমরা সবাই জানি, তারপর আবারও ক্রমাগত দরপতন চলছে।
সবটাই যে কয়েক ব্যক্তির পরিকল্পিত খেলার অংশ, তা আর অজানা নয়। এই লোকগুলোর নামও শোনা যায়। কিন্তু তারা যে বড় ক্ষমতাবান। অসহায় ভুক্তভোগী ৩০ লাখ ছোট বিনিয়োগকারীর রাস্তায় বিক্ষোভ করা ছাড়া তাঁদের আর কিছুই করার নেই।
অন্য এক পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধ থেকে (লেখক হারুন অর রশীদ) কয়েকটি তথ্য নিচে তুলে ধরছি_
'পত্রিকায় উঠেছে (১১-১-১১) দেশের শেয়ারবাজারে এখন প্রতিদিনই দরপতনের রেকর্ড ভাঙছে। ৯-১-১১ রবিবার ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৬০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়েছিল। ১০-১-১১ সোমবার মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় আগের দিনের রেকর্ড ভেঙে মূল্যসূচক ৬৬০ পয়েন্টেরও বেশি কমেছে। ৯ জানুয়ারি রবিবার কমেছিল ৬০০ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ৫৫২ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছিল। আর ৮ ডিসেম্বর এক ঘণ্টায় সাড়ে ৫০০ পয়েন্টের বেশি কমেছিল মূল্যসূচক। ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সময় ৫ নভেম্বর একদিনে সর্বোচ্চ ২৩৩ পয়েন্ট বা ৬ শতাংশের মতো সূচক কমেছিল।'
বোঝাই যাচ্ছে, এই ধরনের দরপতন স্বাভাবিক নয়। এর মধ্যে কারসাজি আছে। যারা বড় বিনিয়োগকারী তারা নানা ধরনের জালিয়াতি করে শেয়ারবাজারের দর ওঠা-নামা করাতে পারে। খুদে বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করতে পারে, তারপর মাথায় হাত দিয়ে বসিয়ে দেয়। মাঝখান থেকে লুটে নেয় কয়েক লাখ খুদে বিনিয়োগকারীর সর্বস্ব।
শেয়ারবাজার জিনিসটি কী? এটি এক ধরনের প্রতিষ্ঠান যা পুঁজিবাদের বিকাশের একটি পর্যায়ে উদ্ভব হয়েছিল। একক ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পত্তি থেকে জয়েন্ট স্টক কম্পানির উদ্ভবের কালে শেয়ারবাজার দেখা দিল। শেয়ারবাজার বহু খুদে পুঁজিকে একত্রিত করে বড় পুঁজির মালিকের হাতে তুলে দেয়। খুদে পুঁজির মালিক যদি দেখে যে ওই অল্প পুঁজি নিজস্ব কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করার সামর্থ্য তার নেই অথবা করলেও তেমন মুনাফা আসবে না অথবা যদি দেখে যে ওই টাকা ব্যাংকে রাখলে যা সুদ পাবে তার চেয়ে কোনো কম্পানির ডিভিডেন্ট বেশি তবে সে শেয়ারবাজারে গিয়ে শেয়ার কিনবে। অন্যদিকে বড় পুঁজির মালিক অর্ধেকেরও বেশি পুঁজি সংগ্রহ করতে পারছে জনগণের কাছ থেকে। এতে দুই পক্ষেরই লাভ হতে পারে। বিশুদ্ধ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় তাই হওয়ার কথা। কিন্তু পুঁজিবাদ কখনোই তেমন বিশুদ্ধ নয়। কার্ল মার্কস 'পুঁজি' গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে যদিও 'স্টকের আকারে সম্পত্তি'র কথা উল্লেখ করেছেন, তবে একই সঙ্গে তিনি দেখিয়েছেন যে 'স্টক হস্তান্তর'-এর ভেতর দিয়ে জুয়া খেলাও থাকে। দুই জুয়া খেলায় মার্কসের ভাষায়, 'হাঙর গিলে খায় ছোট মাছকে, আর ভেড়ার পালকে গ্রাস করে স্টক এঙ্চেঞ্জের নেকড়ের দল।'
পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটাই হচ্ছে শোষণমূলক ব্যবস্থা, সেখানে কিছু নেকড়ের দল ভেড়ার পালকে খাবে। এখানে ধনীরা আরো ধনী হবে, ছোট পুঁজির মালিক পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হবে এবং সর্বহারারা তাদের শ্রমশক্তি বিক্রি করবে অতি সস্তায়। এটিই পুঁজিবাদের নিয়ম। এটিই বাজার অর্থনীতির মূল কথা। এর প্রকৃত সমাধান হলো পুঁজিবাদ ও বাজার ব্যবস্থা উচ্ছেদ। তখন স্টক মার্কেটের জোচ্চুরিরও কোনো জায়গা থাকবে না।
আমরা বর্তমান সরকারের কাছ থেকে এতটা আশা করছি না। যদিও 'সমাজতন্ত্র' আমাদের সংবিধানে বিধৃত অন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি, তবু বিএনপির মতো বর্তমানে আওয়ামী লীগও পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদনির্ভর নিকৃষ্ট পুঁজিবাদের পথই অনুসরণ করে চলেছে। কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম যে 'গোদ' রোগের কথা বলেছেন, তার চিকিৎসা বর্তমান সরকারের ক্ষমতা ও ইচ্ছার বাইরের বিষয়। তাহলে অন্তত 'বিষফোড়া'টা অপারেশনের ব্যবস্থা করুক। অর্থাৎ জোচ্চুরির যে কারবার চলছে সেটা বন্ধের ব্যবস্থা করুক। হায়! তা-ও যে দুরাশা মাত্র।
এই আওয়ামী লীগের আরেক আমলে ১৯৯৬ সালে আমরা দেখেছিলাম, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা। কিছু ব্যক্তি কৃত্রিমভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছিল। এমনকি যেসব কম্পানি চালু হয়নি অথবা লাভ করছে না, তাদের শেয়ারে দামও হু হু করে বাড়তে লাগল। সরকার কোনো সতর্কবাণী উচ্চারণ করল না, কোনো ব্যবস্থা নিল না। সকালে একটা কাগজ কিনে বিকেলে ডবল দামে বিক্রি এবং অতি দ্রুত বিনা পরিশ্রমে মুনাফা অর্জনের এমন ঘটনা আগে কেউ দেখেনি। মধ্যবিত্তরা জায়গা-জমি, গহনা ও সম্পত্তি বেচে হাওয়ায় উড়ে বেড়ানো টাকা ধরার মোহে ছুটল পাগলের মতো। তারপর একদিন কিছু দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে সব শেয়ার উচ্চ দরে বিক্রি করে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিল। তারপর থেকে দ্রুতগতিতে মূল্যের পতন ঘটল। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল কয়েক লাখ মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ। সেদিন এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা যাঁরা কিছু খবর রাখেন তাঁরা ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু ১৪ বছরেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবারও শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে সেই একই গোষ্ঠী এবং প্রায় একই ব্যক্তিরা জড়িত আছে বলে জানা গেছে। শাস্তি যে তাদের হবে এমন লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
অথচ গত ডিসেম্বর মাসেই যখন শেয়ারবাজারে ধস নামা শুরু হয়, তখন অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন একটি চক্র কারসাজি করে শেয়ারবাজারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলেছে। মন্ত্রী আরো বলেন, কারা এ কাজ করছে তা-ও নাকি তিনি জানেন। তিনি দুটিই সত্য কথা বলেছেন। কিছু অসৎ লোক এই কারসাজি করেছে এবং সে লোকগুলো মন্ত্রীর অজানা বা অচেনা নয়। তাহলে মন্ত্রী কেন ব্যবস্থা নিলেন না। কেনই বা জানুয়ারিতে একই ঘটনার বড় আকারে পুনরাবৃত্তি হতে দিলেন?
মাননীয় অর্থমন্ত্রী অবশ্য এর মধ্যে একেকবার একেক কথা বলেছেন। ডিসেম্বরে ঘটনার পর তিনি বলেছিলেন, কোনো টাকাই নাকি বাজার থেকে বেরিয়ে যায়নি। তাহলে আর উদ্বেগ কিসের? বস্তুত এখনো উদ্বেগের কোনো চিহ্ন দেখছি না সরকারের আচরণে। অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান তো বলেই বসলেন, শেয়ারবাজারে ধস নামলেও অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। কথাটা কি সত্যি? এক অর্থে সত্যি, আরেক অর্থে নয়। শেয়ারবাজার একটি প্রতিষ্ঠান, একটি কৌশল_যার মাধ্যমে ছড়ানো-ছিটানো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি সংগৃহীত হয়, যা বিনিয়োগ হয় শিল্পে। সে ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যদি সব হারানোর ভয়ে বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকে, তবে তাতে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে নিশ্চিতভাবেই। কিন্তু যদি তা না হয়, এটা যদি কেবল হাত বদল ও স্রেফ জুয়া খেলাই হয়, তাহলে অবশ্য বাস্তব অর্থনীতিতে তার প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হবে না। কিন্তু তা-ই বা বলি কিভাবে? ৩০ লাখ মানুষের সম্পত্তি যদি খোয়া যায়, আর গুটিকতক লোকের হাতে গিয়ে পড়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, সেটা শিল্পে বিনিয়োগ হবে না। ফলে এর অর্থনৈতিক ফল খারাপ না হয়ে পারে না। মধ্যবিত্ত ক্রয়ক্ষমতা হারাচ্ছে। শিল্প বিকাশ নেই। একে বলে ক্যাসিনো অর্থনীতি, যা ধনী দেশ কিছুটা হজম করতে পারলেও বাংলাদেশের জন্য তা চরম সর্বনাশ ডেকে আনবে, আনতে বাধ্য।
এমনিতে সারা বিশ্বে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ফটকা কারবার প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। আর্থিক পণ্যের সন্দেহজনক বিকাশ বা উদ্ভাবন থেকে তৈরি নানা ধরনের কাগুজে পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে যার মূল্য বিশ্ব অর্থনীতির আয়তনের ১০ গুণ।
সারা পৃথিবীতেই শেয়ারবাজারের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানো-কমানোর ব্যবসা খুব জমজমাট। এ রকম ঝঢ়বপঁষধঃরাব ব্যবসা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট মুনাফার ৪০ শতাংশ আসে, যেখানে ৪০ বছর আগে এই হার ছিল মাত্র দুই শতাংশ।
এটা গেল বিশ্ব পুঁজিবাদী অর্থনীতির কথা। যা ইতিমধ্যেই অযৌক্তিক ও দেউলিয়া প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ও বাজার অর্থনীতি যে ব্যর্থ তা-ও প্রমাণিত হচ্ছে। তার সঙ্গে পুঁজিবাদেরই অবধারিত নিশ্চিত অনুষঙ্গ হিসেবে যে জোচ্চুরির কারবার চলছে, তাতে রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী গুটিকতকের ভাগ্য খুললেও কপাল পুড়ছে ৩০ লাখ সাধারণ মধ্যবিত্তের। একই সঙ্গে কপাল পুড়বে দেশবাসী ও জাতীয় অর্থনীতির। অবশ্য এই খুদে বিনিয়োগকারীদের দুর্দশা সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের মনে কোনো দাগ কাটে না। হ্যাঁ, তিনি নিজেই এ কথা বলেছেন। কারণ তাঁর ভাষায়, 'এরা সবাই চোর'। অবশ্যই 'চোর' আছে, তবে তারা সাধারণ বিনিয়োগকারী নয়। তারা হচ্ছে মাকর্সের ভাষায়, যারা স্টক-বাজারের নেকড়ে বা হাঙরের গ্রুপ। তাদের জন্য মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাঁদতে বলব না। বরং বলব সেই বড় চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। কালো টাকার শর্তহীন বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে চোরদের চুরি করার আরো সুযোগ দেবেন না।
পরিশেষে বলব, পুঁজিবাদী লুটপাটের ঘটনা তো অনেক হয়েছে। আর না। এবার অর্থনীতির গতিমুখ অন্যদিকে ঘোরান। যে বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে আপনাদের এত গর্ব এবং যে সংবিধান রচিত হয়েছিল মহান রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, যে সংবিধান আবার পুনর্জীবিত হয়েছে, সেই সংবিধানে বিধৃত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে সমাজতন্ত্রকে বাস্তবে কার্যকরী করার দিকে মন দিন। পদক্ষেপ গ্রহণ করুন সমাজতন্ত্র অভিমুখী, গণমুখী, লুটেরা পুঁজিবাদবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী পরিকল্পিত অর্থনীতির জন্য। সরকারের কথা ও কাজের কতটা মিল ও অমিল রয়েছে, বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি কতটা আন্তরিক এবং সর্বোপরি কোন শ্রেণীকে তারা প্রতিনিধিত্ব করছে, তা-ও পরিষ্কার হয়ে উঠবে। হায়রে! দুরাশা!

লেখক : রাজনীতিক ও কলামিস্ট

No comments

Powered by Blogger.