আতঙ্কে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা-আত্মসমর্পণ করলেই কারাগারে!

নগরে তিনটি প্রাইভেট কার পোড়ানোর মামলায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের বেশির ভাগ নেতা-কর্মীর উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এবার পর্যায়ক্রমে তাঁদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে।


গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা ছয়টি মামলার মধ্যে তিনটি অজামিনযোগ্য ধারায় হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে কারাগারে যাওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে আমাদের অনেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে জামিন পেয়েছেন। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে কারাগারে যেতে হবে। এ কারণে অনেক নেতা-কর্মীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সরকার আমাদের পেছনে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। আমরা সবাই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছি। অনেক নেতা-কর্মী বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না। পুলিশ প্রত্যেক নেতা-কর্মীর বাড়িঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা সন্ত্রাসী। এভাবে হয়রানি করে কোনো স্বৈরাচারী সরকার টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও পারবে না।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে চট্টগ্রামে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত বিচার আইনে তিনটিসহ মোট ছয়টি মামলা করে। এতে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ আড়াই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, ২৩ মে কোতোয়ালি ও খুলশী থানার পুলিশ দ্রুত বিচার আইনের তিনটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে আদালতে। এর মধ্যে একটি মামলায় বিএনপির নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন ও উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আরেকটি মামলায় নগর জামায়াতের আমির ও সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলামসহ ২৩ জনকে আসামি করে একই দিন অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, জামায়াতের সাংসদ শামসুল ইসলাম দ্রুত বিচার আইনের মামলায় আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই মামলায় বাকি ২২ জন আত্মসমর্পণ করেননি। গত মঙ্গলবার আরেকটি মামলায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত এবং মরিয়মনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদেরও জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয় বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার আদালতের সাবেক কৌঁসুলি (পিপি) কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুধবার (গতকাল) দুপুরে উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরী ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হাশেমসহ চারজনের হাজিরার দিন ধার্য ছিল। অন্যদের আগামী রোববার আদালতে হাজির হতে হবে। আদালত কী করবেন সেটা তাঁদের এখতিয়ার। তবে আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী।’
বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, দ্রুত বিচার আইনের তিনটি মামলার কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল কিছুটা ভেঙে পড়েছে। পুলিশি হয়রানির কারণে মামলার আসামিরা ঘরে থাকতে পারছেন না। এমনকি দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারছেন না। আইনি লড়াই চালিয়ে সব ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করা হবে বলেও নেতারা মন্তব্য করেন।

No comments

Powered by Blogger.