এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ), চট্টগ্রাম-উচ্চশিক্ষার নতুন ঠিকানা

২০০৮ সাল থেকে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্বমানের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ)। এশিয়ার নারীদের বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রয়াসে ১২৯ জন দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় এর কার্যক্রম।


সম্পূর্ণ আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীসংখ্যা ৪৩৮। এর মধ্যে বাংলাদেশি ১৯৭ জন, বিদেশি ২৪১ জন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। সরকার চট্টগ্রাম শহরে প্রায় ১৩০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে, যেখানে তৈরি হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঠ্যক্রম
চার বছর মেয়াদি স্নাতক পর্যায়ে যে বিষয়গুলোতে ডিগ্রি দেওয়া হয় সেগুলো হলো: ১. এশিয়ান স্টাডিজ (বিএ), ২. বায়োলজিক্যাল সায়েন্স (বিএসসি), ৩. এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (বিএসসি), ৪. পলিটিকস, ফিলোসফি, ইকোনমিকস (বিএ), ৫. পাবলিক হেলথ স্টাডিজ (বিএসসি)। এখানে সব বিষয়ে ইংরেজিতে পাঠদান করানো হয়। এইউডব্লিউর প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্নাতক শেষ করবেন ২০১৩ সালে।

ভর্তির তথ্য
প্রার্থীকে অবশ্যই নারী এবং বয়সসীমা ১৭ থেকে ২১ বছরের মধ্যে হতে হবে। এইচএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। যারা এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করেছে, তারাও আবেদন করতে পারবে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। প্রতিবছর গড়ে ১০০ ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়, তবে এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। ন্যূনতম ২৫ শতাংশ আসন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।

বৃত্তির সুবিধা
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ) সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। আবাসনসুবিধা, আহার, একাডেমিক কার্যক্রম, চিকিৎসাসুবিধা, লাইব্রেরি, ব্যবহারিক চার্জসহ সব মিলিয়ে এখানে পড়তে বছরে একজন শিক্ষার্থীর খরচ হয় ১২ হাজার মার্কিন ডলার। কিন্তু এখানে প্রায় ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি এবং বিদেশি শিক্ষার্থী বিনা খরচে পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীর পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়। বিদেশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচও বহন করে এইউডব্লিউ কর্তৃপক্ষ।

লিবারেল আর্টস্ শিক্ষাপদ্ধতি
লিবারেল আর্টস্ শিক্ষা এমন একটি শিক্ষাপদ্ধতি যা একজন শিক্ষার্থীকে জটিলতা, বৈচিত্র ও পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায় এবং সর্বোপরি তার ক্ষমতায়নে সহায়তা করে। এই শিক্ষাপদ্ধতি পৃথিবীর বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার (যেমন বিজ্ঞান, সমাজ ও সংস্কৃতি) নিয়ে সাধারণ ধারণার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নিবিড় শিক্ষালাভের সুযোগ করে দেয়। এই শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধের জন্ম দেয়। এটি শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং ব্যবহারিক দক্ষতা যেমন: লিখিত ও মৌখিক যোগাযোগ এবং বিশ্লেষণী ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরি করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার সামর্থ্য অর্জন করে।

অ্যাকসেস একাডেমি
অ্যাকসেস একাডেমি, এক বছরব্যাপী প্রাক-স্নাতক প্রোগ্রাম, যা শিক্ষার্থীদের লিবারেল আর্টস শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করে। যারা ইংরেজি, গণিত কিংবা কম্পিউটারে অপেক্ষাকৃত দুর্বল, তাদের অ্যাকসেস একাডেমিতে কোর্স করা বাধ্যতামূলক। অ্যাকসেস একাডেমি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দক্ষতার বিকাশ ঘটায় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে। এই প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানের দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং শারীরিক শিক্ষার উন্নয়ন সাধন করে। এখানেও সব বিষয়ে ইংরেজিতে পাঠদান করানো হয়।

শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রম
লেখাপড়ার বাইরে অবসরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্লাব নিয়ে। তাঁদের জন্য আরও আছে ২১টি ক্লাব—পোয়েট্রি ক্লাব, পাবলিক হেলথ লিডারশিপ ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব, কমিউনিটি সার্ভিস ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, ফিল্ম ক্লাব, ক্রিয়েটিভ রাইটিং ক্লাব, ইয়ারবুক কমিটি, মডেল ইউএন অ্যান্ড লিডারশিপ ক্লাব, ফিল্ম ক্লাব, গিটার ক্লাব, এইউডব্লিউ অনট্রাপ্রেনিয়রশিপ ক্লাব, ড্রামা ক্লাব। সারা বছর চলে এসব ক্লাবের কার্যক্রম। এখানে তাঁরা মতবিনিময় করেন, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। ছাত্রীবিষয়ক দপ্তর এ কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করে।

গ্রীষ্মকালীন শিক্ষাকার্যক্রম ও ইন্টার্নশিপ
এইউডব্লিউয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক গবেষণামূলক প্রকল্প, বিভিন্ন দেশে শিক্ষা কার্যক্রম এবং ইন্টার্নশিপে অংশ নিয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালীন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী, প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যবহারিক গবেষণামূলক প্রকল্পে অংশ নেয়, যা শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে প্রাপ্ত জ্ঞান এবং বাস্তবজীবনে তা প্রয়োগের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। দ্বিতীয় বর্ষে শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নেয়। তৃতীয় বর্ষে, শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপে অংশ নেয়। বিশ্ব ব্যাংক, টাটা, নমপেন পোস্ট, ইউএনএইচসিআর, ক্লিফরড চান্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-ইউএস এইড, স্টারবাকস, ইউনিভার্সিটি অব ট্রেনটো, শেভরন, এজিলিটি লজিস্টিকস, রবি এক্সিয়াটা এবং এইচএসবিসি ব্যাংকসহ অনেক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে এইউডব্লিউয়ের আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হয়।

সীমানা ছাড়িয়ে
২০১১ সালে ২৭ জন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্রীষ্মকালীন শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। দুবাইয়ের ‘সীমানা ছাড়িয়ে শিক্ষা’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নেন ছয়জন। শিক্ষার্থীরা আরও অংশ নেন কাতারের দোহায় আয়োজিত আইসিটিডি সম্মেলনে, কানাডায় সাংবাদিকতাবিষয়ক কর্মশালায়। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এর চ্যান্সেলর শেরি ব্লেয়ারের সঙ্গে ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের শিক্ষার্থী কুয়েতের একটি সম্মেলনে যোগ দেন। ২০১০ সালে দিল্লির পরিবেশবাদী সম্মেলনে নিজেদের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনজন শিক্ষার্থী। জাপানে জেন্ডার-বৈষম্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখান তাঁরা।

বিস্তারিত তথ্য
এইউডব্লিউ ক্যাম্পাস: ২০/জি এম এম আলী রোড, চট্টগ্রাম। এ ছাড়া অনলাইনে যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে এই ওয়েবসাইটে www.asian-university.org। যোগাযোগ করা যেতে পারে addmission@auw.edu.bd ঠিকানায়।

No comments

Powered by Blogger.