মিডিয়া ভাবনা-গণতন্ত্রে স্বাধীন সংবাদপত্রের বিকল্প নেই by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কয়েকজন সাংসদ, মন্ত্রী ও স্পিকার প্রথম আলোসহ কয়েকটি সংবাদপত্রের যেভাবে সমালোচনা করেছেন, তা নজিরবিহীন। বিশেষ করে মাননীয় স্পিকার যে ভাষায় ও ভঙ্গিতে সংবাদপত্র সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, তা তাঁর পদ বা চেয়ার-উপযোগী হয়নি।


পাঠক, ২২ সেপ্টেম্বরের পত্রিকায় এই সমালোচনার বিশদ বিবরণ পড়েছেন। অনেকে রাতের টিভির খবরে এর সচিত্র বিবরণ, স্পিকার, মন্ত্রী ও এমপিদের স্বকণ্ঠে এই সমালোচনা শুনেছেন। এই কলামে তা পুরোপুরি উদ্ধৃত করার প্রয়োজন আছে মনে করি না।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এর আগেও সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এ রকম নাম ধরে দেশের বহুল প্রচারিত চারটি জনপ্রিয় দৈনিক ও একজন আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত খ্যাতনামা সম্পাদকের নাম নিয়ে তীব্র সমালোচনা এর আগে হয়েছে বলে মনে পড়ে না। এটাকে আমার অশনিসংকেত মনে হয়। গণতন্ত্রমনা নাগরিক সমাজ এ ব্যাপারে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করার জন্য এখনই এগিয়ে না এলে এই ‘সংসদ’ স্বাধীন মতামত প্রকাশের বিরুদ্ধে নানা আইন পাস করতে পারে। কারণ, দেশে আইন তৈরি ও আইন পাস করার সর্বময় ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। কাজেই সাধারণ মানুষ তথা নাগরিক সমাজের একটা রক্ষাকবচ রাখার জন্য এখনই চিন্তাভাবনা শুরু করতে হবে। আমরা জানি, জনগণই প্রকৃত ক্ষমতার মালিক। আর জনগণের ভোটেই সাংসদেরা নির্বাচিত হয়ে থাকেন। কিন্তু অতীতে আমরা দেখেছি, অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচারী শাসক, স্বৈরাচারের দোসর—এ রকম বহু অপকর্মের হোতারা জনগণের ভোটে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কাজেই ‘জনগণের ভোটে’ নির্বাচিত হলেই তিনি সব অভিযোগের ঊর্ধ্বে, এমন কথা বলা যায় না।
সম্প্রতি প্রথম আলো পত্রিকায় জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভূমিকার মূল্যায়ন করে একাধিক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানত সেই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই এই সমালোচনার ঝড়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি পত্রিকায় সাংসদদের সাম্প্রতিক কিছু ভূমিকার কথা উদ্ধৃত করে কয়েকটি প্রতিবেদন ও কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে। সম্মানিত সাংসদেরা এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ক্ষুব্ধ হতেই পারেন। যেকোনো ব্যক্তিই তাঁর অপকর্মের কথা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন। এটাই স্বাভাবিক। তবে সাংসদদের ক্ষোভ প্রকাশের নানা গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রীতি রয়েছে। মানুষও তাঁর বয়স, সম্পর্ক, সামাজিক অবস্থান, শিক্ষা, রুচি ও সৌজন্যবোধের আলোকে ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকেন। এগুলো সামাজিক রীতি। নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রথম আলো ও অন্যান্য পত্রিকা যদি সাংসদদের সম্পর্কে ভুল তথ্য পরিবেশন করে থাকে, তাহলে রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা ভুল সংশোধনী ও প্রকৃত তথ্য জানিয়ে প্রতিবাদলিপি পাঠাতে পারত। আশা করি, সংবাদপত্রে তা প্রকাশিত হতো। প্রতিবাদ ও সংশোধনী ছাপা হলে তো আর ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ থাকত না। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রতিবাদ ও সংশোধনী পাঠানো হয়েছিল কি? মাননীয় স্পিকার কি তা খোঁজ করেছিলেন? যদি সংশোধনী না পাঠানো হয়, তাহলে সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে তা একটা ঘাটতি বলতে হবে। অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজের দায়িত্বটা তো আগে পালন করতে হবে।
প্রতিবাদ বা সংশোধনী শুধু ‘তথ্যের’ হতে পারে, মতামতের নয়। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। এ দেশে প্রত্যেকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। প্রতিদিন সংবাদপত্রে (কলাম) ও টিভিতে (টক শো) অনেক সম্মানিত (যদিও নির্বাচিত নন) ব্যক্তি দেশের নানা বিষয়ে তাঁদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করে থাকেন। এটাই গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য। এই মতামত প্রকাশে সম্মানিত সাংসদেরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন। কিন্তু একতরফাভাবে সেই ক্ষোভ সংসদ অধিবেশনে প্রকাশ করাটা কতটা সুবিবেচনাপ্রসূত হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলা যায়। কারণ, যাঁদের বিরুদ্ধে সম্মানিত সাংসদেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ছিল না। এই একতরফা অভিযোগ উত্থাপন করাটা সাংসদদের পক্ষে ঠিক কাজ হয়নি। তাঁরা তাঁদের পদের অপব্যবহার করেছেন। তাঁরা যদি কোনো সেমিনারে, যেখানে সংবাদপত্রের সম্পাদক বা তাঁদের প্রতিনিধিদের জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকত, সেখানে এ রকম অভিযোগ করতেন, সেটাই ঠিক হতো। জাতীয় সংসদ অনেক সম্মানের ও উঁচু জায়গা। সেখানে প্রধানত দেশের আইন ও জাতীয় নীতি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। অবশ্য ‘জাতীয় নীতি’ নিয়ে কতটা বিতর্ক হয় এবং নেতা-নেত্রীদের কতটা স্তুতি হয়, তা টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদপত্রবিষয়ক সাম্প্রতিক সমালোচনার পটভূমিতে টিআইবির ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি কোনো সংবাদপত্র ধারাবাহিকভাবে আবার প্রকাশ করলে ভালো হয়। সম্মানিত সাংসদেরা সংসদ অধিবেশনে কী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তা টিআইবির প্রতিবেদনে আংশিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তিন মাস পরপর এ রকম মনিটরিং প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া উচিত। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে, স্থায়ী কমিটির সভায় কী কাজ হয়, তা জাতির জানার অধিকার রয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করতে চাই, টিআইবির প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে সেই সময় সরকারের উচ্চপদে আসীন কয়েকজন ব্যক্তিও এর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, সম্মানিত সাংসদেরা তাঁদের কাজের কোনো পর্যালোচনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন পছন্দ করেন না। পছন্দ না করতে পারেন, কিন্তু বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার সাংসদদের নেই; বিশেষ করে গণমাধ্যম, মনিটরিং প্রতিষ্ঠান, নাগরিক ফোরাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যবেক্ষণের কাজ নিয়মিত করে যাবে। যেতেই হবে। কারণ, জনগণের করের টাকায় জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশ্বব্যাংকের অনুদানেও নয় বা ক্ষমতাসীন দলের টাকায়ও নয়।
২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সম্মানিত মন্ত্রী, সাংসদ ও স্পিকারের বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, তাঁরা জাতীয় সংসদকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করছেন। এ ধারণা ঠিক নয়। সংসদীয় কার্যক্রম ও সাংসদের কোনো আচরণ বা সিদ্ধান্তের সমালোচনাকে তাঁরা ‘আদালত অবমাননার’ মতো একটি বিষয় ভাবছেন। আদালত অবমাননা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সম্প্রতি আদালত অবমাননা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্রিটিশ আমলের আইনে ও ইংরেজ শাসকদের দৃষ্টিতে আদালত অবমাননা আর স্বাধীন দেশের আদালত অবমাননা এক হতে পারে না। আদালত প্রসঙ্গে এখন আলোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে। এর একটা সমাধান নিশ্চয়ই হবে।
‘জাতীয় সংসদ’ আদালত নয়। সংসদের সম্মানিত সদস্যরা জনগণের (ভোটার) নির্বাচিত প্রতিনিধি। কাজেই জনগণের জানার অধিকার রয়েছে, তাঁদের প্রতিনিধিরা সংসদে আইন প্রণয়নে কী ভূমিকা পালন করছেন, তিনি বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন কি না, তিনি কত দিন অধিবেশনে উপস্থিত থাকছেন, অধিবেশনে উপস্থিত না হয়েই বেতন-ভাতা নিচ্ছেন কি না—এ রকম বহু প্রশ্ন রয়েছে, যা জনগণ জানতে চায়। সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম হচ্ছে জনগণের কণ্ঠস্বর। গণমাধ্যম জনগণের হয়ে এসব প্রশ্ন উত্থাপন করে। তবে শুধু ‘সংসদ’ কেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সম্পর্কেই ভুল তথ্য বা অর্ধসত্য তথ্য প্রকাশ অথবা প্রচার করার অধিকার গণমাধ্যমের নেই। গণমাধ্যমে ভুল বা বিকৃত তথ্য পরিবেশন করলে সাংবাদিকের শাস্তির বা অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা থাকা দরকার। সে ব্যবস্থা তো করবে প্রেস কাউন্সিল। তথ্যমন্ত্রী তো প্রেস কাউন্সিলকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠান করে রেখেছেন। সম্মানিত সাংসদেরা তথ্যমন্ত্রীকে একবার জিজ্ঞাসা করুন না, প্রেস কাউন্সিলের এই দুরবস্থা কেন? আজ প্রেস কাউন্সিল কার্যকর প্রতিষ্ঠান হলে সম্মানিত সাংসদদের সংসদে প্রতিবাদ জানাতে হতো না।
সংবাদপত্রের সমালোচনার সূত্রে মাননীয় স্পিকার ও সম্মানিত সাংসদেরা একটা কথা বলেছেন, যা প্রতিবাদযোগ্য। তাঁরা বলেছেন: সংবাদপত্র সাংসদদের সমালোচনা করে জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করতে চায়, সাংসদদের জনসমক্ষে হেয় করতে চায়, অন্য কোনো শক্তিকে ডেকে আনতে চায় ইত্যাদি। এ বক্তব্য তীব্রভাবে প্রতিবাদযোগ্য। যাঁরা এ ধরনের কথা বলেন, তাঁরা গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ‘সমালোচনাকে’ অস্বীকার করতে চাইছেন। তাঁরা ‘জি হুজুর’ ছাড়া আর কোনো কিছুতে বিশ্বাস করেন না। গণতান্ত্রিক দেশে সমালোচনা একটি স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য। তবে তা শালীন ভাষায় হতে হবে। তা ব্যক্তিগত আক্রমণ হতে পারবে না। সমালোচনার পেছনে যুক্তি ও তথ্য থাকতে হবে। সমালোচনা করলেই তার পেছনে ‘ষড়যন্ত্র’ খোঁজা অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস গণতন্ত্রচর্চায় সহায়ক নয়। গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়ার তীব্র সমালোচনা হয়ে থাকে। কেউ এ কথা আজ পর্যন্ত বলেনি যে এসব সমালোচনা করে গণমাধ্যম আওয়ামী লীগ বা খালেদা জিয়ার জায়গায় অন্য শক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে চাইছে। বরং আমি বলব, গঠনমূলক সমালোচনাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। সমালোচনার ভয় থাকলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত হয়।
আর ‘অন্য শক্তিকে’ ক্ষমতায় বসানোর অভিযোগ সম্পর্কে শুধু এটুকুই বলব: অন্য শক্তিকে ডেকে আনার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীরাই যথেষ্ট। গণমাধ্যমের প্রয়োজন হবে না। ১/১১-এর পটভূমি একবার স্মরণ করুন। আমাদের কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট ১/১১-এর সৃষ্টির জন্য বড় দুই দলের ‘অবদানকে’ খাটো করে দেখতে চান। এটা ঠিক নয়। তাঁরা দুটি সংবাদপত্রকে এ জন্য প্রায়ই দায়ী করেন। সংবাদপত্র এত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নয়। প্রকৃত তথ্য হলো: ১/১১ সৃষ্টির জন্য দেশের বড় দুটি দলই প্রধানত দায়ী। সে সময়ের সংবাদপত্র দেখলে তা প্রমাণিত হবে। ১/১১ ছাড়া অতীতেও রাজনৈতিক সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অপশাসনের জন্যই বিশেষ শক্তি ক্ষমতা দখল করেছিল। কোনো সংবাদপত্রের কারণে বিশেষ শক্তি ক্ষমতা দখল করেনি। যাক, সেটা ভিন্ন বিতর্ক।
২১ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশনে সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ দেখে আমার আশঙ্কা হয়েছে: এ দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আবার হুমকির মুখে। সম্মানিত সাংসদেরা মনে হয় দলকানা সংবাদপত্র ছাড়া আর কিছু চান না। তাঁদের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য অবশ্য ১১টি দলীয় টিভি চ্যানেল শিগগিরই আসছে। ১৯৭৫-এর ‘বাকশালের’ মতো ‘জি হুজুর সংবাদপত্র’ রাখাই কি তাঁদের কাম্য? তাঁরা স্বাধীনচেতা সম্পাদক পছন্দ করতে পারছেন না। মনে হয়, তাঁরা বঙ্গবন্ধু আমলের ‘কদমবুসি সম্পাদক’ চাইছেন। তাঁদের সমালোচনার ভাষায় তা-ই মনে হয়। কাজেই এখন স্বাধীন গণমাধ্যম, দলনিরপেক্ষ নাগরিক ফোরাম, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়—সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সংসদে মহাজোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগে আবার বাকশালের মতো কিছু ঘটে যাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। অত্যধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা গণতন্ত্রের জন্য কখনো কখনো হুমকি হয়ে দেখা দেয়। ১৯৭৫ সালে আমরা তা দেখেছি। কাজেই এখন সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতি আমার অনুরোধ: জাতীয় সংসদের কার্যাবলির ওপর প্রতি মাসে একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করুন। জাতীয় সংসদ আমাদের প্রধানতম প্রতিষ্ঠান। জনগণের ভোটে সাংসদেরা নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের করের টাকায় জাতীয় সংসদ পরিচালিত হয়। কাজেই জনগণের স্বার্থ দেখা গণমাধ্যমের পবিত্র দায়িত্ব। শুধু মনিটরিং নয়, জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়নের কেন্দ্র হিসেবে আরও কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে লেখালেখি ও অনুষ্ঠান প্রচার করতে হবে। বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ‘সংসদ’ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাও জনগণকে জানানো দরকার। শত সমালোচনা ও আক্রমণ হলেও গণমাধ্যমকে তার দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকতে হবে। গণমাধ্যমকে উপলব্ধি করতে হবে, এটা তার দায়িত্ব।
জাতীয় সংসদ যেমন গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য, তেমনি স্বাধীন সংবাদপত্রও। পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশেই একে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের নেতা-নেত্রীরা কি স্বাধীন সংবাদপত্রহীন গণতন্ত্রই চান?
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।

No comments

Powered by Blogger.