বিরোধী জোটের সমাবেশ-সরকার কেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে?

তিন মাস আগে ১২ মার্চ বিএনপি জোটের 'চলো চলো ঢাকা চলো' মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই কর্মসূচি সামনে রেখে ধরপাকড়, রাজধানীমুখী যানবাহন ও ফেরি চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি, আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিথি রাখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ এমন কিছু পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করে যা অনভিপ্রেত এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


অন্যদিকে সরকার বলছিল, বিরোধীরা সমাবেশকে নাশকতামূলক তৎপরতা চালানোর আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশ থেকেই খালেদা জিয়া সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য তিন মাসের আলটিমেটাম দেন। সরকার এ দাবি মানেনি। তারা নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ দেখালেও সার্বিকভাবে বিরোধীদের প্রতি অবস্থান নমনীয় নয় বলেই প্রতীয়মান হয়। ইতিমধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়েছেন, প্রতিবাদে বিএনপি কয়েক দফা হরতাল পালন করেছে এবং অগি্নসংযোগ-ভাংচুরের অভিযোগ এনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নবগঠিত ১৮ দলীয় জোটের অনেক শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই ১১ জুন নয়াপল্টন এলাকায় বিএনপি জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এবারেও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে; কিন্তু ১২ মার্চের পূর্ববর্তী দিনগুলোর মতো না হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়াবাড়ির কারণে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ক্ষমতাসীন দলের ইঙ্গিতে ঢাকার বাইরে অনেক স্থানে 'অঘোষিত হরতাল' পালিত হয়েছে। লঞ্চ-বাস চলাচল বিঘি্নত হয়েছে। এসব শুধু অনৈতিক নয়, বেআইনিও। শাসক দল ও তাদের জোট কি এটা বুঝবে না যে এ ধরনের পদক্ষেপে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নয়, সাধারণ মানুষেরও অধিকার গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়? ঢাকা এবং অন্যান্য স্থানে যানবাহনের অভাবে লাখ লাখ নারী-পুরুষের অবর্ণনীয় ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে এতে। এ ধরনের আচরণ জনগণ পছন্দ করে না এবং সরকারের সমালোচনা করে। যারা বিরোধীদের কর্মকাণ্ড তেমন পছন্দ করে না তারাও সরকারের এ মনোভাবে নাখোশ হয় এবং প্রকারান্তরে যা বিরোধীদের প্রতি এক ধরনের সহানুভূতি সৃষ্টি করে। এটা ঠিক যে, গণতান্ত্রিক দেশে রাজপথে শক্তি পরীক্ষা বাঞ্ছনীয় নয়। এখন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলছে। বিরোধীদের উচিত সেখানে গিয়েই তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার তাতে কর্ণপাত না করে আপসহীন মনোভাব নিয়ে চললে জনগণ বিষয়টিকে ভালোভাবে গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না। ১১ জুনের সমাবেশ থেকে বিএনপি জোট নতুন করে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করেনি, বরং সরকারও আরও সময় দিয়েছে। এ অবস্থান ইতিবাচক। উভয়পক্ষই এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। তাদের মনে রাখতে হবে যে, জনগণ আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সংকটের নিরসন চায়। দেশের বাইরে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরাও একই মনোভাব প্রকাশ করে চলেছেন। সবার প্রত্যাশা যে, আলোচনা হবে খোলামেলা পরিবেশে এবং এর একটাই লক্ষ্য থাকবে_ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি উপযুক্ত পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নির্বাচন। এর অন্যথা হলে রাজনৈতিক অঙ্গন আরও অস্থির হবে এবং তাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হবে। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
 

No comments

Powered by Blogger.