যা নিয়ে আছি-আত্মজীবনী লিখতে চাই

সারাহ্ বেগম কবরী, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। বর্তমানে সাংসদ। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথম ছবি সুভাষ দত্ত পরিচালিত সুতরাং। বইয়ের নেশায় শুটিং করিনি ছোটবেলা থেকেই আমার বই পড়ার প্রচণ্ড নেশা। টানা বই পড়ি। পড়ার সময় নাওয়া-খাওয়া ভুলে যাই, অনেকবার সময়মতো শুটিংয়ে হাজির হতে পারিনি।


মিথ্যে করে বলেছি, শরীর খারাপ, আসতে পারব না। প্রিয় বই রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ, বারবার যা পড়তে ইচ্ছা করে। নীহাররঞ্জন, জরাসন্ধ, শীর্ষেন্দু, আশাপূর্ণা দেবী, বিমল মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ শামসুল হক, সমরেশ বসু প্রমুখের লেখা আমি পড়ি। আত্মজীবনী লেখার ইচ্ছা আছে।

বঁধুয়া আমার চোখে
আমি গানপাগল মানুষ। সতীনাথ, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার, শ্রীকান্ত, লোপামুদ্রা, লতা মুঙ্গেশকর প্রমুখ শিল্পীর গান আমার ভালো লাগে। প্রতিদিন সকালে তারা মিউজিক চ্যানেলের গান শুনি।
এ আর রহমানের মিউজিকও আমার ভীষণ প্রিয়। স্প্যানিশ ট্যাঙ্গো, মোজার্টের সিম্ফোনি, রবিশঙ্করের সেতার, চৌরাশিয়ার বাঁশি—সবই শুনি। বারবার শুনতে ইচ্ছা করে ‘বঁধুয়া আমার চোখে জল এনেছে’।

ইচ্ছা করে সিলেটে ছুটে যাই
ঘুরতে ভালো লাগে, যখন মনের মতো সঙ্গী থাকে। বিশেষ করে, আমার বাচ্চাদের কেউ। দেশের মধ্যে সিলেট আমার ভীষণ প্রিয়। সেখানে নগরের রূঢ় রূপ এখনো প্রকট হয়নি। তা ছাড়া নৈসর্গিক দৃশ্যগুলোও চমৎকার। চট্টগ্রামও প্রিয়। আমার নিজের এলাকা হওয়ায় আলাদা আকর্ষণও বোধ করি। দেশের বাইরে বারবার যেতে ইচ্ছা করে স্পেন।

আড্ডায় আমি কেন্দ্রবিন্দু
নির্মল আনন্দ পাই আড্ডা থেকে। বাচ্চাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ভালো লাগে। আমার পাঁচ ছেলে। ছোটটা এখানে, বাকিরা বাইরে। আমেরিকায় মেজো ছেলে রেজওয়ানের বাসায় যখন সবাই মিলিত হই, তখন ভীষণ আড্ডা দিই। তখন আমাদের নাওয়া-খাওয়ার সময় পর্যন্ত পাল্টে যায়। আমি নাকি তখন ওই আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠি। এ ছাড়া ঢাকায়ও মাঝেমধ্যে আড্ডা দিই।

মিরা নায়ারের ‘ওয়াটার’
আমার জীবনই তো চলচ্চিত্রকে ঘিরে। যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, চলচ্চিত্র দেখি। মিরা নায়ারের ওয়াটার আমার প্রিয় চলচ্চিত্র। দিলীপ কুমারের মুঘল-ই-আজম বারবার দেখি। সুতরাং, সুজন সখি, তিতাস একটি নদীর নাম এখনো মাঝেমধ্যে দেখি।

রাজনীতি নিয়ে চলচ্চিত্র
আমি সারা জীবন যা কিছু করেছি, তার যোগফল হলো রাজনীতি। আমার সংসার, চলচ্চিত্র, দেশ, সমাজ ও আত্মীয়স্বজন—সবকিছুর যোগফল হলো রাজনীতি। এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে সবকিছু খুঁজে পাওয়া যায়। রাজনীতি নিয়ে একটি চলচ্চিত্র বানাব। দুঃখ হলো, আমরা সময় থাকতে সবকিছু পাই না। যখন পাই, তখন আর সময় থাকে না।
 সাক্ষাৎকার গ্রহণ: আহমেদ হোসেন

No comments

Powered by Blogger.