এর নাম চিকিৎসাসেবা?

দালালচক্রের হাতে জিম্মি রমেক হাসপাতাল, মরেও শান্তি নেই রোগীদের' শিরোনামে ১৬ এপ্রিল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির মধ্য দিয়ে দেশের চিকিৎসাসেবার সার্বিক বিবর্ণ চিত্র পুনর্বার ফুটে উঠেছে। ওই প্রতিবেদনে শুধু রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের কথা বলা হলেও প্রশ্ন ওঠে_দেশের অন্য মেডিক্যাল কলেজ কিংবা


হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান চিত্র কি এর চেয়ে পৃথক কিছু? কিছুটা হেরফের হতে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে দেশের চিকিৎসাসেবার চিত্র এখনো বেহাল। অথচ স্বাস্থ্য সেবাখাতে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) লাশ নিয়ে টানাহেঁচড়া, ঘাটে ঘাটে টাকা দেওয়ার পর দালালচক্রের নির্ধারিত গাড়িতেই লাশ নিতে বাধ্য করা, সরকারি হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজগুলোতে চিকিৎসাসেবার দীনচিত্রের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অসাধুদের সহায়তায় যে স্বেচ্ছাচারিতা প্রায় নিত্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। যে দেশের সিংহভাগ মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরায় এবং চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির প্রত্যাশা সংগত কারণেই সরকারি হাসপাতালগুলোকে ঘিরে, সে দেশের চিত্র যদি এই হয় তাহলে মৌলিক অধিকার শব্দটি কতটা অপাঙ্ক্তেয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
দেশের একেকটি সরকারি হাসপাতাল কিংবা মেডিক্যাল কলেজ যেন নিজেই অসুস্থ। সব ক্ষেত্রে শুধু নেই আর নেই। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব কেন্দ্র জিম্মি হয়ে আছে অপশক্তির কাছে। চিকিৎসাসেবা পাওয়া মানুষের যেমন অধিকার, তেমনি যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদান রাষ্ট্রের দায়। কিন্তু রাষ্ট্রশক্তির অসহায়ত্বের কারণে সাধারণ মানুষের পীড়নের অন্ত নেই। দেশে বেসরকারি পর্যায়ে একের পর এক প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে মেডিক্যাল কলেজ কিংবা হাসপাতাল, যেখানে সাধারণ মানুষের ঢোকার সাধ্য নেই। নিম্নবিত্তের কথা তো আলাদাই, কজন মধ্যবিত্তের পক্ষেও সেসব কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব_এটি খুবই সংগত প্রশ্ন। সরকার স্বাস্থ্যসেবার বিবর্ণ চিত্র মুছে মানুষের অধিকারের বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে বটে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ এখনো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে লাশ নিয়ে টানাহেঁচড়া চলে, রোগীর ওষুধপত্র থকে শুরু করে খাবার নিয়ে চলে তুঘলকি কাণ্ড। রোগীকে কেন্দ্র করে ঘাটে ঘাটে চলে নানা রকম বাণিজ্য কিংবা হীন তৎপরতা। এসব চিত্র নতুন কিছু নয়। কালের কণ্ঠে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়।
রাষ্ট্র যেখানে তার নাগরিকদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে দায়বদ্ধ, সেখানে এই নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কিংবা স্বেচ্ছাচারীদের এমন আস্ফালন সরকার, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল সহ্য করে চলেছে কিভাবে? এসব নিয়ে এযাবৎ কথাবার্তা কম হয়নি, কিন্তু সাধারণ মানুষ জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। এমনটি চলতে পারে না, চলতে দেওয়া যায় না। দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল কিংবা মেডিক্যাল কলেজে বিদ্যমান এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে সরকারকে সব কিছুর ঊধর্ে্ব উঠে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষের অধিকার নিয়ে একটি মহল অব্যাহতভাবে ছিনিমিনি খেলে যাবে আর এর কোনো প্রতিকার হবে না, তা হতে পারে না।

No comments

Powered by Blogger.