পাকিস্তানের আদালতে গিলানির সাজা

আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। এ জন্য কোনো কারাদণ্ড না দিলেও তাঁকে ৩০ সেকেন্ডের প্রতীকী দণ্ড দেন আদালত। বিচারপতি নাসির-উল-মুলুকের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের সাত সদস্যের বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।


প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা আবার চালু করার ব্যাপারে আদালতের নির্দেশ থাকলেও তা না করায় গিলানিকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হওয়ায় গিলানি প্রধানমন্ত্রী থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন উল্লেখ করে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। তবে মন্ত্রিপরিষদ গিলানির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
রায়ের পর গিলানির আইনজীবী আইতজাজ আহসান বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের উচ্চতর বেঞ্চে আপিল করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিচারপতি নাসির-উল-মুলুক বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করায় পাকিস্তানের সংবিধানের ৬৩(১)(জি) ধারায় প্রধানমন্ত্রী আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এরপর প্রতীকী দণ্ডে গিলানিকে ৩০ সেকেন্ড আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
রায় শেষে গিলানি হাসিমুখেই আদালত ত্যাগ করেন। আদালতে গিলানির সঙ্গে তাঁর ছেলে, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'আমরা বিচারপ্রার্থী। এ সিদ্ধান্ত যথার্থ নয়।'
রায়ের পর প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) নেতা নওয়াজ শরিফ বলেন, গিলানিকে অবশ্যই পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। জিও টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নওয়াজ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আর কোনো সংকট সৃষ্টি না করে তাঁর উচিত সরে যাওয়া।' তিনি আরো বলেন, 'সত্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তাঁর নিজেরই সেটা বোঝা উচিত। কেননা তিনি নিজেই এ পরিস্থিতি ডেকে এনেছেন।'
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা ইমরান খান সামাজিক যোগাযোগ সাইট টুইটারে গিলানির পদত্যাগ দাবি করেছেন। এ ছাড়া জামায়াতে-ই-ইসলামী নেতা মুনাওয়ার হুসেনও গিলানির পদত্যাগ দাবি করেন।
রায়ের পর গিলানির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের এক জরুরি বৈঠক বসে। এতে মন্ত্রিরা টেবিল চাপড়ে গিলানির প্রতি সমর্থন জানান। তাঁরা বলেন, গিলানি কোনো ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হননি। তাই নৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর পদত্যাগ করার কোনো দরকার নেই।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী গিলানি পার্লামেন্টের সদস্য থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। এ কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ হারাতে পারেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে গিলানি আপিল করার সুযোগ পাবেন। তা ছাড়া আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না পাওয়া পর্যন্ত গিলানির ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা আবার চালু করার অনুরোধ জানিয়ে আদালত সুইজারল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী গিলানিকে। তবে গিলানি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলেন সুপ্রিম কোর্ট। গত ফেব্রুয়ারিতে গিলানির বিরুদ্ধে ওই মামলা হয়। সূত্র : এএফপি, দ্য হিন্দু, জিনিউজ অনলাইন।

No comments

Powered by Blogger.