সাপ্তাহিক পর্যালোচনা-মূল্য-আয় অনুপাত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন by সুজয় মহাজন

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ারের গড় মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।  গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইতে পিই রেশিওর গড় (ভারিত) দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৮১-এ। এর আগে ২০০৬ সালের জুলাই মাস শেষে ডিএসইর এই অনুপাত ছিল ১১ দশমিক ৩৭। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


বাজার বিশ্লেষকেরা জানান, যে বাজারের পিই অনুপাত যত কম সেই বাজার বিনিয়োগের জন্য ততটাই উত্তম। একই সঙ্গে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ। সেই বিবেচনায় দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের খুবই ভালো সময় পার হচ্ছে।
এমতাবস্থায় বাজারে নিয়মিত দরপতনের জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, পুঁজিবাজার সম্পর্কে সম্যক বোঝাপড়ার ঘাটতি ও অযাচিত হস্তক্ষেপকে দায়ী করছেন তাঁরা।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও বাজারমূল্য বিবেচনায় পিই অনুপাত নির্ধারণ করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের শেয়ারবাজারের বর্তমান পিই অনুপাত আশপাশের দেশগুলোর চেয়ে অনেক কম। বাজারে যাঁরা নতুন বিনিয়োগে আসবেন তাঁদের জন্য এটি খুবই ভালো খবর। তবে সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ট্রেডিং (দৈনিক কেনাবেচার) মানসিকতা পরিহার করে ভালো শেয়ার বাছাই করতে হবে।’
শাকিল রিজভী আরও বলেন, ‘বাজারের গড় পিই অনুপাত ১১ দশমিক ৮১ হলেও এমন অনেক কোম্পানি আছে, যাদের পিই অনুপাত এক অঙ্কের ঘরে রয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।’
ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে ঢাকার বাজারে শেয়ারের মূল্য-আয়ের অনুপাত বেড়ে সর্বোচ্চ ৩১-এ উঠেছিল। আর দুই বছরের ব্যবধানে সেটি এখন ১১ দশমিক ৮১-তে নেমে এসেছে।
এদিকে দেশের শেয়ারবাজার দরপতনের আরেকটি সপ্তাহ পার করল। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই বাজারে দরপতন ঘটেছে। এর ফলে সপ্তাহ শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক নেমে এসেছে সাড়ে চার হাজার পয়েন্টের নিচে। এটি গত প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা বিনিয়োগ নিয়ে জারি হওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন প্রজ্ঞাপন ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনিয়োগকে ঘিরে চলতি মাসের মাঝামাঝি শেয়ারবাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাজারে টানা দরপতন চলছে। মুদ্রানীতিকে ঘিরেও কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয় ।
তবে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক-নেতিবাচক কোনো কিছুই নেই। বরং শেয়ারবাজারকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সুতরাং নতুন মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগকারীদের ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
সপ্তাহ শেষে ঢাকার বাজারে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ আড়াই শ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহেও এই পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি টাকায়। সেই হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে।

No comments

Powered by Blogger.