পাঁচ মাসে ২০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন

তি পাচ্ছে না বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। বৈদেশিক সহায়তার অর্থের ব্যয় বাড়াতে না পারায় মূলত এডিপি বাস্তবায়নে এ ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্প সাহায্যের মাত্র ১৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের এডিপি বাস্তবায়ন গত ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের সমান।


গত অর্থবছরের একই সময়ে ২০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়। তার আগের বছরের একই সময়ে ২৩ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) গতকাল বৃহস্পতিবার পাঁচ মাসের এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সরকারের জন্য সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে বৈদেশিক ঋণের অর্থ খরচ কমে যাওয়া। কারণ বৈদেশিক ঋণের অর্থ খরচ করতে পারছে না বাস্তবায়নকারী সংস্থা। অর্থবছরের শুরু থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিভিন্ন বৈঠকের মাধ্যমে বৈদেশিক ঋণের ব্যবহার বাড়াতে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে তাগিদ দিলেও তা কাজে আসছে না। পরিকল্পনা কমিশনও বৈদেশিক ঋণের খরচ বাড়াতে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে তাগিদ দিয়ে আসছে। এ ছাড়া গত মাসে বরাদ্দের শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) নিয়ে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। বৈঠকে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ব্যবহার বাড়াতে জোর তাগিদ দেওয়া হয়; কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।
অর্থবছরের পাঁচ মাসে এডিপিতে মোট ৯ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা ব্যয় হলেও প্রকল্প সাহায্য বাবদ মাত্র ২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি কোষাগার থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হলেও বৈদেশিক ঋণ থেকে খরচ হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ১৩ শতাংশ, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের একই সময়ে ১৫ শতাংশ ও এর আগের বছর ২৩ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ খরচ হয়েছিল। ২০০৮-০৯ অর্থবছরের একই সময়ে ১৫ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ খরচ হয়েছিল।

বৈদেশিক ঋণ খরচ না হওয়া প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বৈদেশিক অর্থ খরচ করতে পারে না। তাই দাতাগোষ্ঠী প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করতে চায় না। মন্ত্রণালয়গুলো বৈদেশিক ঋণ খরচ করতে পারলেই অর্থ ছাড় হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পের ডিজাইনে ত্রুটি থাকায় দাতাগোষ্ঠীর পরামর্শে ফের ডিজাইন পরিবর্তন করতে হয়। দাতাগোষ্ঠীর দেওয়া গাইডলাইন অনুসরণ করা হয় না। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দক্ষ নয়। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের অর্থে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা করতে হয়। এসব কারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বৈদেশিক ঋণের টাকা খরচ করতে পারে না।
এদিকে এডিপিতে বৈদেশিক ঋণের টাকা খরচ না হওয়ার পেছনে আইএমইডি কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে_ দাতা সংস্থার ক্রয় গাইডলাইন নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অনভিজ্ঞতা, দাতাগোষ্ঠীর কাছে বহুবার যাতায়াত, দাতাগোষ্ঠীর দেওয়া পরামর্শক পরিবর্তন এবং সরকারি তহবিলের (জিওবি) অর্থ সঠিক সময়ে না পাওয়া।
আইএমইডি সূত্র জানায়, বরাদ্দপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সেতু বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নের হার খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ২ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে সেতু বিভাগ অর্থবছরের পাঁচ মাসে অর্থ খরচ করেছে মাত্র ৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে সেতু বিভাগ ৭২ কোটি টাকা ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক হাজার ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১১৯ কোটি বা ১২ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২ হাজার ১২৪ কোটি টাকার বিপরীতে ৩৩১ কোটি টাকা বা ১৬ শতাংশ অর্থ খরচ করতে সক্ষম হয়েছে।
অর্থবছরের পাঁচ মাসে বিদ্যুৎ বিভাগ ৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ২ হাজার ৫০১ কোটি টাকা (৩৫ শতাংশ) ব্যয় করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ৯ হাজার ২০১ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ২ হাজার ৭৭০ (৩০ শতাংশ) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৬২৫ কোটি টাকা (২৬ শতাংশ) অর্থ খরচ করেছে।
আইএমইডি সূত্র জানায়, অর্থবছরের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপি বাস্তবায়নে খুব খারাপ অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ২, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১, শিল্প মন্ত্রণালয় ১ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। তবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এডিপিতে বরাদ্দকৃত এক টাকাও ব্যয় করতে পারেনি।

No comments

Powered by Blogger.