মহান বিজয় দিবস আজ by অমরেশ রায় ও আবু সালেহ রনি

জাতির বহু কাঙ্ক্ষিত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর প্রেক্ষাপটে আবারও ফিরে এসেছে বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন। আজ ১৬ ডিসেম্বর। ৪১তম মহান বিজয় দিবস।এবারের বিজয় দিবস জাতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।


গোটা জাতি ৪০ বছর আগেকার একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তির জন্য যে অধীর আগ্রহে এতদিন অপেক্ষায় ছিল, সেই কলঙ্কতিলক মোচনের সম্ভাবনাকাল প্রায় সমাগত। তাই এবারের বিজয় দিবস বাঙালির জন্য মুক্তিযুদ্ধ জয়ের মতো আরেকটি বিজয়ের আনন্দে উদ্বেলিত হওয়ারও দিন। এ বছর দিবসটির গুরুত্ব অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। একদিকে যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে জাতিকে একটি কলঙ্ক থেকে মুক্তিদানের উদ্যোগ এগিয়ে
চলেছে, আরেকদিকে তেমনি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী শক্তি আওয়ামী লীগসহ মহাজোট সরকারের নেওয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষা, সঠিক ইতিহাস প্রণয়ন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদানের নানা উদ্যোগও অগ্রসর হচ্ছে। এতে নতুন আশা জেগেছে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষের মনে।
চলতি বছরই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের পথেও অগ্রসর হয়েছে জাতি। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও এর নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত বিজয়ের ফসল রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি সংবিধানে পুনঃসনি্নবেশিত হয়েছে। যদিও পঁচাত্তরের পর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম এবং ধর্মাশ্রয়ী দল ও সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকারের যে কলঙ্কতিলক এঁকে দিয়েছিল, তা থেকে এখনও সংবিধানকে পুরোপুরি মুক্ত করা যায়নি। এর পরও জাতির প্রত্যাশা_ একদিন এ কলঙ্ক থেকেও জাতির মুক্তি ঘটবে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের আত্মত্যাগের কথা, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছিল।
আজ বিজয়ের দিন :আনন্দ-উৎসব এবং শোক-শ্রদ্ধার অপূর্ব সম্মিলনে দেশজুড়ে আজ উদযাপিত হবে ৪১তম বিজয় দিবস। মুক্তিযুদ্ধে সুমহান বিজয়ের ৪০তম বার্ষিকী।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের আজকের দিনটিতেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। ঢাকায় দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এদিনই স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার স্পৃৃহায় জেগে ওঠা বাঙালিকে স্তব্ধ করতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ২৫ মার্চ কালরাতে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যায় মেতে ওঠে। সেই গণহত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষের ভাগ্যাকাশে নেমে এসেছিল ঘোর অমানিশা।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে এগিয়ে আসে বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজীর নেতৃত্বে আত্মসমর্পণ করে ৯১ হাজার ৫৪৯ জন হানাদার সেনা। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকারের উপস্থিতিতে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল জ্যাকবের তৈরি করা আত্মসমর্পণ দলিলে সই করেন পাকিস্তানের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী এবং মিত্রবাহিনীর পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। আর অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তেই বিশ্ববাসীকে অবাক করে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাঙালি জাতি পায় লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং মানচিত্র। রক্তাক্ত পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধের এই বিজয় অর্জন ছিল ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি।
আজ তাই বিজয়োল্লাসে ভাসবে দেশ; আনন্দে উদ্বেলিত হবে গোটা জাতি। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত উদযাপিত হবে বিজয়ের দিনটি। উৎসবের সমারোহে জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকে।
মুক্তির জন্য ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাস : বাঙালির এ স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় অর্জনের ইতিহাস কেবল একাত্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের এক বছরের মধ্যেই রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে পাঞ্জাবি শাসকগোষ্ঠী আঘাত করে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার ওপর। শুরু হয় শোষণ-বঞ্চনা আর বৈষম্যের করুণ ইতিহাস। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সেই শোষণ থেকে মুক্তি পেতে বিক্ষুব্ধ বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম স্ফুরণ ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনার ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা তথা স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন, ১৯৬৯-এ গণতন্ত্র ও জাতীয় অধিকারের জন্য গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এ নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ ঘটে। কিন্তু গণতান্ত্রিক সে বিজয় পাকিস্তানি সামরিক শাসকচক্র মানতে পারেনি।
ফলে অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ঘনিয়ে আসে ৭ মার্চ। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালি জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয় স্বাধীনতার অমোঘ বাণী_ 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'।
বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মূলত সেদিন থেকেই গোটা জাতির মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন দেশের স্বাধীনতা। ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু তার স্বাধীনতার ঘোষণায় শত্রু সেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে দেশবাসীকে অনুরোধ ও নির্দেশ দেন।
শুরু হয় হানাদারদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার চূড়ান্ত প্রতিরোধ লড়াই_ মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাস ধরে চলা সেই যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ আর লুটতরাজের কলঙ্কিত অধ্যায়ের বিপরীতে রচিত হয়েছিল ইতিহাসের আরেকটি মহান অধ্যায়। সে অধ্যায়ে ছিল মুক্তিকামী বাঙালির অসম সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের বীরত্বগাথা।
১৭ এপ্রিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী স্বাধীন বাংলা প্রবাসী সরকার। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয় ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে হানাদার বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে। জন্ম নেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র 'বাংলাদেশ'।
বিজয় দিবসের কর্মসূচি
বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
ভোরে ঢাকার তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর এলাকায় ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষও জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
সকালে তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড, কারারক্ষী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এতে সালাম গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এ সময় বিমানবাহিনীর ফ্লাইপাস্ট, উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে রজ্জু বেয়ে অবতরণ, প্যারাস্যুট জাম্প ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কিত যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধন প্রকাশ করবে। সরকারি-বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। রাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন পতাকায় সজ্জিত করা হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা, পোস্টার প্রদর্শনী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দু'দিনব্যাপী বিজয় উৎসবের শেষ দিনে বিজয় দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
জেলা-উপজেলা পর্যায় এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
আওয়ামী লীগের দু'দিনব্যাপী কর্মসূচিতে রয়েছে সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, একই সময়ে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, বিকেল ৩টায় বিজয় শোভাযাত্রা সহকারে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের 'শিখা চিরন্তনে' শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং আগামীকাল শনিবার বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপি আজ ভোরে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে। ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৮টায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোনাজাত, দুপুর ২টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আগামী রোববার বিকেল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা এবং সোমবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিজয় শোভাযাত্রা করবে দলটি।
রবি-চ্যানেল আইয়ের দিনব্যাপী 'বিজয়মেলা' আজ চ্যানেল আই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে সঙ্গীত, আবৃত্তি, সাক্ষাৎকার, চিত্রাঙ্কন, স্মৃতিচারণ, নাটক এবং মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থ, মুক্তিযোদ্ধাদের ডায়েরি, চিত্রমালা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা সকাল সাড়ে ১০টায় কচি-কাঁচা মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা, এলডিপি, গণফোরাম, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, নগর বিএনপি, মহিলা আওয়ামী লীগ, মহিলা দল, শ্রমিক লীগ, শ্রমিক দল, কৃষক লীগ, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবলীগ, যুবদল, যুব ইউনিয়ন, যুব মহিলা লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলা একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, নজরুল একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, জাতীয় মহিলা সংস্থা, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, মহিলা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বিশ্ব কবিতাকণ্ঠ পরিষদ, শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, দৃক, জয়িতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

No comments

Powered by Blogger.