খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় রোডমার্চ আজ রাজশাহী বিভাগে : ৮ জেলায় ৬শ’ কি.মি. ঘুরবে : ২ সমাবেশ ৪ পথসভা by মাহাবুবুর রহমান

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজশাহী অভিমুখে দুইদিনের রোডমার্চ শুরু হচ্ছে আজ। চারদলীয় জোটের দেশব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় রোডমার্চে আটটি জেলায় জনজোয়ার সৃষ্টি করতে চান আয়োজকরা। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথে হাজার হাজার গাড়ির মার্চে বেগম খালেদা জিয়া চারটি পথসভা ও দুইটি জনসভায় বক্তৃতা করবেন। এতে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানাবেন তিনি। জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চারদলীয় জোট দেশব্যাপী রোডমার্চ করছে।


এর আগে ১০ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে রোডমার্চ হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ময়মনসিংহে জনসভা এবং ঈদের পর চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও রংপুরে রোডমার্চ হবে।
সিলেটের রোডমার্চে কোনো ধরনের বাধা না দিলেও দ্বিতীয় রোডমার্চে সরকার নানাভাবে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলসহ যেসব স্থানে সরকার বাধা দিচ্ছে, সেসব ছাপিয়ে জনগণ রোডমার্চ, পথসভা ও জনসভা সফল করবে। রোডমার্চের সমন্বয়কারী বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। আমাদের নিরীহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। জনজোয়ার দেখে সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ায় এসব অনাচার করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, আজ সকাল ১০টায় উত্তরা থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রোডমার্চ শুরু হবে। প্রথমেই গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকালে বগুড়া পৌঁছে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় বক্তৃতা করবেন বেগম খালেদা জিয়াসহ চারদলীয় জোট ও সমমনা দলের শীর্ষ নেতারা। বগুড়ায় রাতযাপন শেষে আগামীকাল সকাল ৯টায় ফের রোডমার্চ শুরু এবং নওগাঁয় পথসভা শেষে বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে জনসভায় মিলিত হবে। সেখানে শীর্ষ নেতাদের বক্তৃতা শেষে রোডমার্চের গাড়িবহর রাজশাহী-নাটোর হয়ে আবার ঢাকায় ফিরবে।
এদিকে পথসভা ও জনসভা সফল করতে পৃথক প্রস্তুতি কমিটি এরই মধ্যে তাদের সার্বিক কাজ শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল বিকালে তিনি ঢাকা থেকে প্রতিটি পথসভা ও জনসভাস্থল ঘুরে দেখা শেষে বগুড়া পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন তার সফরসঙ্গী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল হোসেন। এই টিমে আরও রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আসলাম চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
এদিকে গতকাল বিকালে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নজরুল ইসলাম খান এক সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও গাড়িতে চড়ে এক সময় রোডমার্চ করেছেন। আসলে আওয়ামী লীগের চরিত্রই হলো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। কোনো কাজ তারা যখন করে তখন অন্যায় হয় না, অন্যরা করলে সেটা দোষের হয়। জামায়াতকে নিয়ে তারা আন্দোলন করলে কিছু হয় না, কিন্তু জামায়াত যখন আমাদের সঙ্গে আসে তখন যুদ্ধাপরাধী হয়ে যায়। তিনি বলেন, আগামীকালের রোডমার্চে তিন হাজারের উপরে গাড়ি যাবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, সিলেটের রোডমার্চে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। তাদের আমরা ধন্যবাদ জানিয়েছি। উত্তরাঞ্চলের রোডমার্চ শেষেও তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।
তিনি অভিযোগ করেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল সরকারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাকে আদালত টাউন জামিন দিয়েছে। অর্থাত্ সিরাজগঞ্জের পথসভায় সে আসতে পারবে না। উত্তরা থানা এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগালে তা-ও পুলিশ খুলে নিচ্ছে। গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের আচরণ অন্যায়। আশা করব, সরকার এ আচরণ থেকে ফিরে আসবে।
তিনি বলেন, টঙ্গী, গাজীপুর চৌরাস্তা পার হয়ে কালিয়াকৈরে প্রথম পথসভা হবে। দ্বিতীয় পথসভা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা সেতুর পূর্ব স্টেশনের পাশের মাঠে। তৃতীয় পথসভা সিরাজগঞ্জের এরিস্টোক্রেট হোটেলের সামনের মাঠে। সেখান থেকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সরাসরি বগুড়া শহরে চলে যাবে। বগুড়া আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিকাল তিনটায় জনসভা হবে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। অন্যদের মধ্যে চারদলীয় ঐক্যজোটের নেতাসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা বক্তৃতা করবেন। বগুড়া শহরে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে সমস্যা বলে তিনি গাড়ি নিয়ে শহরে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, রাতে বগুড়ায় অবস্থান করে পরদিন বুধবার সকালে রোডমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হবে। সকাল এগারোটায় নওগাঁ এটিম হাইস্কুল মাঠে একটি পথসভা করে সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে যাবেন। বিকাল তিনটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জনসভা হবে। রাতে সরাসরি নাটোর রাজশাহী হয়ে ঢাকায় ফিরবেন খালেদা জিয়া।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন নাকি গাড়ির মধ্যে থাকা মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। যদি গাড়ির মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চান তাহলে বলব, গাড়ির ভেতরে যারা থাকেন তারা তো বিএনপির কর্মী। তারা তো অন্য কেউ নন যে তাদের চেনা যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানুল্লাহ আমান, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
ভিন্ন সাজে বগুড়া : রোডমার্চ ও খালেদা জিয়ার জনসভাকে ঘিরে ভিন্ন সাজে সেজেছে বগুড়া। আমাদের ব্যুরো আসাদুজ্জামান ফিরোজ জানান, শহর ও গ্রাম পর্যায়ে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুনে ভরে গেছে। শহরের প্রতিটি পোস্টে ঝুলছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি। এখন দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে একটাই স্লোগান—কখন আসবেন বগুড়ার বধূ বেগম খালেদা জিয়া।
বেগম খালেদা জিয়া বগুড়া জেলার প্রবেশদ্বার শেরপুরের চান্দাইকোনায় পৌঁছলে বিএনপি নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন রোডমার্চে। বগুড়া থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে চান্দাইকোনা থেকে মহাসড়কের দু’পাশে বিএনপি ও সাধারণ জনতা লাইনে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন। চান্দাইকোনা ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। এছাড়া জেলার ধুনট, শেরপুর, শাজাহানপুর, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, শিবগঞ্জ, কাহালু, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তোরণ নির্মাণ ও ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং ও শুভেচ্ছা মিছিল হচ্ছে।
জনসভায় যোগদান করতে বগুড়ায় এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও জাগপার কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল আলম প্রধানসহ বেশ কিছু সিনিয়র নেতা। গতকাল শফিউল আলম প্রধান শহরের পৌর পার্কে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে জনসভা সফল করতে সমাবেশ করেন। এছাড়া জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নেতারাও অবস্থান করছেন বগুড়ায়।
জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন তিনি। প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় ৫ শতাধিক কর্মী নিয়োজিত থাকবে। প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম, এমপি মোস্তফা আলী মুকুল, বিএনপি নেতা মাহবুবর রহমান বকুল, মাহাবুবর রহমান হারেছ, সিপার আল বখতিয়ার, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুল আলম পিপলু প্রমুখ।
বগুড়া জেলা বিএনপি নেতারা জানান, ৫ থেকে ৬ লাখ লোকের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বড়গোলা, পিটিআই মোড়, জলেশ্বরীতলা, কোর্ট এলাকা, ফতেহ আলী মোড়, সেউজগাড়ি মোড়সহ ১২-১৩টি স্থানে পর্দা টানিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে জনসভা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া দুই কিলোমিটার এলাকায় মাইক লাগানো হবে। যুবদল ও মোটর শ্রমিক দল বিকালে শুভেচ্ছা মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে যুবদলের সভাপতি খায়রুল বাসার, মিজানুর রহমান রাজা, আরাফাতুর রহমান আপেল, মোটর শ্রমিক দলের কামরুল আলম রাজু উপস্থিত ছিলেন।
উত্সবমুখর চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জনসভা ও রোডমার্চকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উত্সবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বসিত। গতকাল শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছিল রোডমার্চকে স্বাগত জানানো ও অংশ নেয়ার স্লোগান। আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট জানান, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রোডমার্চ ও মহাসমাবেশ সফল করতে গত ১৫ দিন বিএনপি নেতাকর্মীরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে প্রস্তুতি পর্ব দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগামীকাল (বুধবার) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠের মহাসমাবেশে প্রায় ৩ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতারা।
বেগম খালেদা জিয়ার রোডমার্চ সফল করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে স্থানীয় বিএনপি। সব ধরনের দ্বন্দ্ব ও বিভেদ ভুলে ১৫ দিন ধরে বিরামহীন কাজ করছেন দলীয় কর্মীরা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে শোভা পাচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের বড় বড় ছবি। পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় নেতাদের ছবি শোভা পাচ্ছে। সমাবেশস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠও সেজেছে নতুন সাজে। সভামঞ্চ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। সোমবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ মাঠ পরিদর্শন করে দলীয় কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বিকালে রোডমার্চ সফল করতে শহরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে বিএনপি।
টাঙ্গাইলে ব্যাপক প্রস্তুতি : আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, বিএনপির রোডমার্চকে ঘিরে টাঙ্গাইলে সাজ সাজ রব। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা বিএনপি। রাজশাহী যাওয়ার পথে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে পাথাইলকান্দি ময়দানে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।
গতকাল দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপি নেতারা রোডমার্চ কর্মসূচি সফল করতে জেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও বিএনপি নেতা লুত্ফর রহমান মতিন প্রমুখ। পথসভায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে পাথাইল কান্দিকান্দি ময়দানে মঞ্চ তৈরি থেকে শুরু করে সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। গতকাল সকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা পথসভাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া রোডমার্চ সফল করতে ও স্বাগত জানিয়ে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা সভা-সমাবেশ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। রোববার বিকালে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় বিএনপি ও দলের সহযাগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিছিল-সমাবেশ করে। টাঙ্গাইলের গোড়াই থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে যমুনার অপর পাশে সায়েদাবাদে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়ার রোডমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, সেখানে বিশ হাজার টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা বেগম জিয়াকে উত্তরাঞ্চলে স্বাগত জানাবেন।
রোডমার্চ ঘিরে রাজশাহীতে উত্সব আমেজ : রাজশাহী অফিস জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোডমার্চকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলে এখন উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে। মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, পথসভা, মাইকিং, পোস্টারিংসহ নানা কর্মসূচিতে এখন ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি চলছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চকে স্বাগত জানানোর সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপি শেষ করেছে। রোডমার্চ সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করার জন্য নেয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা ও কর্মসূচি। এ রোডমার্চ থেকে রাজশাহী অঞ্চলের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাবে। গতকাল রাজশাহীতে বিএনপি মহানগর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ফাইসুল ইসলাম ফারুকী, ইবির সাবেক ভিসি প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, সাবেক বাউবি ভিসি প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম দুলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলনেত্রী শহিদুন নাহার কাজী হেনা প্রমুখ।

No comments

Powered by Blogger.