শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা বিকেএমইএ’র : দু’দিন ধরে চার শতাধিক পোশাক কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

য়েক মাস আগে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে বিদেশি ক্রেতাকে শিল্পকারখানা পরিদর্শন করিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিট পোশাক রফতানিকারী প্রতিষ্ঠান ফকির অ্যাপারেলস লিমিটেড। উদ্দেশ্য ছিল কম সময়ে কারখানায় পৌঁছানো এবং ক্রেতার সন্তুষ্টিতে রফতানি বৃদ্ধি। সেই ফকির অ্যাপারেলের কারখানাটি গত দু’দিন ধরে বন্ধ। তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ দিতে পারছে না।এমবি নিট ফ্যাশন দেশের শীর্ষস্থানীয় আরেক রফতানিকারক। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করে কয়েক হাজার শ্রমিক। তবে গত দু’দিন এসব শ্রমিক বসেই অলস সময় পার করছে। কারখানায় গ্যাসের সংযোগ আছে, বিলও বকেয়া নেই। শুধু নেই গ্যাসের সরবরাহ।


শুধু ফকির অ্যাপারেল বা এমবি ফ্যাশনই নয়, নারায়ণঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটি থেকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর পর্যন্ত শ’ শ’ নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে গ্যাসের অভাবে। এসব কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিদ্যুত্ না থাকলে বিকল্প হিসেবে গ্যাস জেনারেটর দিয়ে কারখানা চলে। আবার বিদ্যুত্ থাকলেও তৈরি পোশাকের ফিনিশিং কাজে যে বয়লার ব্যবহার হয় তা চলে গ্যাস দিয়ে। তবে গত রোববার দুপুরের পর থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত চার শতাধিক নিটওয়্যার কারখানায় প্রায় তিন লাখ শ্রমিক কাজ করে। অধিকাংশ শ্রমিক পিস রেটে (ঘণ্টা হিসেবে উত্পাদনের ভিত্তিতে মজুরি) কাজ করে। গ্যাসের অভাবে উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এ শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা না গেলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। তিনি জানান, এই এলাকার বেশিরভাগ কারখানাই গ্যাস-নির্ভর। বৃহত্ শিল্প কারখানাগুলোতে সরকারের উত্পাদিত বিদ্যুতের সংযোগ নেই। কারখানা কর্তৃপক্ষ গ্যাসের সাহায্যে বিদ্যুত্ উত্পাদন করে চাহিদা পূরণ করে। বস্ত্র শিল্পের ডায়িং কারখানার বয়লারও গ্যাসের সাহায্যে চলে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে যেসব রফতানি আদেশ নেয়া হয়েছে, সময় মতো তা সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এতে সার্বিকভাবে ক্ষতি হবে দেশের রফতানিমুখী নিটওয়্যার খাত।
এ বিষয়ে গতকাল টেলিফোনে কথা হয় তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি’র এমডি আবদুল আজিজ খানের সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয় হঠাত্ কী কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জবাবে তিনি জানান, এটি সাময়িক সমস্যা। সব ঠিক হয়ে যাবে। আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

No comments

Powered by Blogger.