বিস্ফোরণে নয়, চার শ্রমিক মারা গেছেন জাহাজের গ্যাসে

বিস্ফোরণ নয়, আগুন নেভানোর গ্যাসেই (কার্বন ডাই-অঙ্াইড) শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের চার শ্রমিক। গতকাল সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ তথ্য দিয়েছেন।
পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া জাহাজ গ্যাসমুক্ত করার কাজ করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ইয়ার্ডের অবস্থানগত ছাড়পত্র কেন বাতিল করা হবে না, সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে।


কর্মকর্তারা বলছেন, আগুন নেভানোর গ্যাস সিলিন্ডার অক্ষত অবস্থায় খুলে নেওয়ার কথা, কিন্তু শ্রমিকরা সিলিন্ডারের ওজন কমাতে মুখ খুলে গ্যাস ছেড়ে দেওয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের বারো আউলিয়া ফুলতলা এলাকার জিরি সুবেদার শিপইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আরো দুই শ্রমিক চিকিৎসাধীন।
চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ জাফর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, নিরাপত্তা পোশাক ছাড়া কারো ইয়ার্ডে কাজ করার বিধান নেই। আর আগুন নেভানোর গ্যাস বাতাসে ছাড়াও আইনত নিষিদ্ধ। গ্যাসটি বাতাসে ছেড়ে দেওয়ার কারণেই চার শ্রমিক শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
পরিবেশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘটনার দুই ঘণ্টা আগেও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জাহাজটি পরিদর্শন করে গেছেন। তাঁরা জাহাজে কোনো বিস্ফোরক-জাতীয় গ্যাস বা জ্বালানির অস্তিত্ব পাননি। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'আমি কনটেইনার জাহাজটি দেখে গেছি। এতে কোনো সমস্যা ছিল না। শ্রমিকদের অজ্ঞতার কারণে তাঁরা মারা গেছেন।'
ইয়ার্ডে এনে যেসব পুরনো জাহাজ কাটা হয়, সেগুলোতে আগুন নেভানোর কয়েক শ গ্যাস সিলিন্ডার থাকে। সেগুলো অক্ষত অবস্থায় অপসারণের পর জাহাজ কাটার কাজ করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রায়ই নিয়মটি মানা হয় না।
দুর্ঘটনার বিষয়ে শিপইয়ার্ডের মালিক মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, 'শ্রমিকদের ভুলে আগুন নেভানোর গ্যাসে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।' তিনি জানান, দেড় বছর পর তিনি ইয়ার্ডে জাহাজ এনেছেন। গত বৃহস্পতিবারই জাহাজটি ভিড়েছে। ৩০০ টন ওজনের এমভি ফাটরাবুম নামের জাহাজটি ইন্দোনেশিয়া থেকে কেনা হয়েছে।
ইয়ার্ডের মালিক বলেন, কয়েক দিন ধরে জাহাজটি গ্যাসমুক্ত করার কাজ চলছিল। রবিবার একসঙ্গে সব সিলিন্ডারের গ্যাস ছেড়ে দেওয়ায় জাহাজের ভেতরে অঙ্েিজন শূন্যতা দেখা দেয়। এতেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়।

No comments

Powered by Blogger.