ওলামা লীগ কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে by মাসুদ মজুমদার

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ওলামা লীগ
শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি নিয়ে জাতি এখনো কোনো উপসংহারে পৌঁছেনি। বারবার দাবি উঠলেও সার্বজনীন দাবির ভিত্তিতে কোনো একক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তাদের মর্জি ও দলীয় ভাবনার প্রতিফলন ঘটানো হয়। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে ব্যাপক সাফল্য দাবি করে, কিন্তু শিক্ষানীতি নিয়ে মৌলিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন, পাঠ্যসূচি রদবদলই এ সরকারের কাছে প্রাধান্য পেয়েছে। প্রশ্নপত্র সৃজনশীল হবে কি হবে না, তাই গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সরকার কোনো দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি, বরং দলীয়করণ হয়েছে যাচ্ছেতাইভাবে। তারা জোর দিয়েছে দলীয় মর্জির প্রতিফলন ঘটানোর দিকে। তাই ধর্মনিরপেক্ষ হতে গিয়ে ধর্মহীন হতে চলেছে। মূলধারার আলেম-ওলামাদের মৌলবাদী, জঙ্গি ও চরমপন্থী সাজাতে গিয়ে ধর্মীয় নেতার চেয়ে খলনায়কের মতোই উপস্থাপন করেছে। বাংলা ভাই ও শায়খ রহমানসহ ক’জন ব্যতিক্রম চরিত্রের মানুষের সাথে সব আলেম-ওলামা ও পীর, মাশায়েখদের শ্রেণী চরিত্র গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। ধর্মশিক্ষা সঙ্কোচন করে, ইতিহাস পাল্টে, জাতির শিকড় ও ঐতিহ্য উপড়ে ফেলতে সচেষ্ট রয়েছে। ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিপক্ষে তুলে ধরতে গিয়ে এক ধরনের বজ্জাতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারই কিছু প্রতিক্রিয়া এখন দৃশ্যমান। অনেক প্রতিক্রিয়া বাদ রেখে আজ না হয় ওলামা লীগ প্রসঙ্গে আসা যাক।
‘বর্তমান শিক্ষা সিলেবাসের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষাদানের নামে কোমলমতি মুসলিম শিশু-কিশোরদের এমন সব বিষয় শেখানো হচ্ছে, যা বিস্ময়কর। এসব বিষয় পড়ে কোমলমতি মুসলিম শিক্ষার্থীরা সঠিক আকিদা থেকে ভ্রষ্ট হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে তাদের ঈমান-আকিদা, যা ৯৫ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ সিলেবাস দিয়ে জামায়াতি-হেফাজতিদের আন্দোলনের ইস্যু করার সুযোগ সৃষ্টির পথ খোলাসা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ কাজ বন্ধ করতে হবে এবং সরকারকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রও প্রতিহত করতে হবে।’
একটি জাতীয় দৈনিকের বরাতে ওপরের তথ্যটি উদ্ধৃত করলাম। এ বক্তব্যগুলো বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ কথিত সমমনা ১৩টি ইসলামি সংগঠনের। তাদের আরো যেসব বক্তব্য রয়েছে তা তুলে ধরা আমরা সমীচীন মনে করিনি। কারণ তাতে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ ফুটে উঠবে। কিছু কথিত প্রগতিশীল ভাবনা আক্রান্ত হবে। আমরা মনে করি, কোনো ব্যাপারে পক্ষে বলাটাই যথেষ্ট। বিপক্ষে বলা সব সময় জরুরি নয়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ওলামা লীগের এত সব রগড়ে মন্তব্যধর্মী বক্তব্য নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ, জবাবী বক্তব্য, ব্যাখ্যা, ভিন্নমত কিছুই চোখে পড়েনি। তাহলে আমরা কী বুঝব? এটা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ‘উৎপাত’, এবং সাম্প্রদায়িকতার চাষবাস মাত্র। তা না হলে ধরে নিতে হবে- এসব অভিযোগ সত্য এবং আমলে নেয়ার মতো। উপমা হিসেবে ওলামা লীগের পক্ষ থেকে তথ্য দেয়া হয়েছে : ‘প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত গল্প ও কবিতার সংখ্যা ১৯৩টি। এর মধ্যে হিন্দু ও নাস্তিকদের লেখার সংখ্যা হলো ১৩৭টি, যা সর্বনিম্ন শতকরা ৫৭ ভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৮২ ভাগ প্রাধান্য পেয়েছে। অবশিষ্ট ১৮ থেকে ৪৩ ভাগের মধ্যেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে হজরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম এবং আওলিয়ায়ে কেরামগণের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’ একই সংগঠন থেকে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র পালের প্রশ্রয়ে অধিকাংশ পাঠ্যপুস্তকে অন্য ধর্মীয় তত্ত্ববাদ ঢোকানো হয়েছে। ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানি রীতি-ঐতিহ্য বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার ছদ্মাবরণে পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম ও মুসলমানবিদ্বেষী প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, শব্দ প্রাধান্য দিয়ে ইসলামবিরোধী চেতনা প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমান সিলেবাস ও পাঠ্যসূচি দেখলে মনে হয়, এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এ দেশের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের তাদের আত্মপরিচয় ভুলিয়ে অন্য ধর্মের আদর্শে প্রবেশ করানো।’ একই সভায় বলা হয়, ‘সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এ দেশে প্রত্যেকটি নাগরিক সাংবিধানিকভাবে তার ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণ করে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সব মুসলিম ছাত্রছাত্রীও তাদের সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণ করার দাবি রাখে। পড়ালেখার মাধ্যমে তারা এমন কোনো কিছু শিখবে না, যা দিয়ে তাদের ঈমান ও আকিদা ধ্বংস হয়, এটা অবশ্যই তাদের সাংবিধানিক অধিকার। অথচ পাঠ্যপুস্তকের নামে অবুঝ ছাত্রছাত্রীদের যা শেখানো হচ্ছে তা নির্মম ধোঁকাবাজি ছাড়া অন্য কিছু নয়, এটা অবশ্যই তাদের সাংবিধানিক ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল।’
এদের সব বক্তব্য হয়তো সমর্থনযোগ্য নয়। তারা কোন ‘আকিদা’ বুঝায় তাও জানি না। তবে তাদের বক্তব্যে কিছু দিক আছে, যেসব কথায় কিছু রূঢ় বাস্তবতা দৃশ্যমান। আবার অনেক অসঙ্গতিও দৃষ্টি এড়ায় না।
রেসক্লাবের সামনে ওলামা লীগের সংঘর্ষ
এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট ও খোলামেলা। তাদের দেয়া তথ্যগুলো কতটা হাওয়াই, কী পরিমাণ বস্তুনিষ্ঠ তা খতিয়ে দেখতে দোষ কী? এ প্রসঙ্গে আমাদের জিজ্ঞাসা ওলামা লীগ কি সত্যি আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন! সরকার পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। এরা মূল দলের অনুমোদন নিয়ে এসব বক্তব্য দিচ্ছে তো! প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা, মাইক লাগিয়ে জনসভা করে এসব বক্তব্য দেয়া সরকারের অগোচরে কিভাবে হতে পারে! গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোথায়! পুলিশ কেন নির্লিপ্ত! ওলামা লীগের বক্তব্যের ধরন আলাদা, কিন্তু হেফাজতসহ অপরাপর ধর্মপন্থী দলগুলো এসব বক্তব্য আরো গোছালোভাবে যুক্তিনির্ভর করে উপস্থাপন করে। বরং তাদের বক্তব্য কারো বিরুদ্ধে হয় না, তাদের দাবির সপক্ষের হয় যেমন হেফাজতের দাবিগুলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন একজন সুশীল প্রকৃতির মন্ত্রী। তিনি এক সময় মস্কোপন্থী ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। বাম ধারার রাজনীতি করেছেন। তাতে কি; তিনি তো বাঙালি মুসলমানের গড়পড়তা শ্রেণী চরিত্র পাল্টাননি। এখন তো তিনি বাম ঘরানার সাথে শখ্য বজায় রেখেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছেন। মন্ত্রণালয় চালাচ্ছেন তারই তত্ত্বাবধানে। যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা তো প্রকারান্তরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই তোলা হচ্ছে। তা হলে কেউ কি সর্প হয়ে দংশন করছে, আবার ওঝা হয়ে ঝাড়ফুঁক দিচ্ছে? যারা এসব বক্তব্য দিচ্ছেন তারা শেখ হাসিনার ‘হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মুনাজাত করেন’, আবার তার সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলছেন- এই স্ববিরোধিতা কেন, কারা তাদের মাঠে নামিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে ‘নাটক’ করাচ্ছেন।
একজন আলেম ব্যক্তিগতভাবে দফতরে এসে জানিয়েছেন, কুরআনি মক্তবগুলো আগের মতো চালু নেই। কওমি মাদরাসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে। জঙ্গি অর্থায়নের ভীতি ছড়িয়ে দিয়ে দান-সদকা অনুদান খয়রাতি সাহায্য নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। আলিয়া ধারা না স্কুল, না মাদরাসা। স্কুলেও ধর্মশিক্ষার বিষয়টি এখন সঙ্কুচিত। ধর্মীয় শিক্ষার জন্য আলাদা মৌলভি মাওলানা কিংবা হিন্দু পণ্ডিত রাখা হয় না। হিন্দু শিক্ষকও ইসলাম ধর্ম শিক্ষা পড়ান। মুসলিম শিক্ষকও হিন্দু ধর্ম শিক্ষার পাঠদান করেন। আমাদের স্কুলজীবন শেষ হয়েছে ১৯৬৬-৬৭ সালে। তখন স্কুলে দ্বীনিয়াত ও ইসলাম ধর্ম শিক্ষার জন্য আলাদা হুজুর ছিলেন। ফেনী পাইলট হাইস্কুলে আমরা বড় হুজুর, ছোট হুজুর নামে দু’জন ধর্মীয় শিক্ষক পেয়েছি। হিন্দু ছাত্ররা ব্যাকরণ শিক্ষক ভট্টাচার্য স্যারের কাছে হিন্দু ধর্ম শিক্ষার পাঠ নিত। কখনো কখনো ব্রজলাল স্যারও হিন্দু ধর্মের ক্লাস নিতেন।
ওলামা লীগের দুই অংশে সংঘর্ষ
এখন স্কুলগুলোতে নারী শিক্ষক নেয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। এটি অনেক দিনের প্রত্যাশিত। তবে স্কুল পর্যায় ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মোটেও প্রাধান্য পাচ্ছে না। অথচ দেশে হাজার হাজার মাদরাসাপড়ুয়া লোক রয়েছেন। যাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলে ছাত্রছাত্রীরা যেমন উপকৃত হবে, মাদরাসাপড়ুয়াদের যোগ্যতা অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল স্রোতে তাদের আত্তীকরণ কল্যাণকরও বিবেচিত হবে। আলেম সমাজের দীর্ঘ দিনের একটি দাবিও পূরণ করা সম্ভব হবে। আমরা পরিবারের গণ্ডির বাইরে মক্তবে কুরআন শিক্ষার সবক নিয়েছি। এর বাইরে স্কুলজীবনের শুরুতেই ধর্মশিক্ষার প্রাথমিক ধারণা পেয়েছি। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় আমরা সিলেবাস অনুযায়ী ৪০টি হাদিস মুখস্থ করেছিলাম। মদিনা সনদের মৌলিক কথাগুলো পড়ানো হয়েছে। বিদায় হজের ভাষণ আমরা পড়েছি অষ্টম শ্রেণীতেই। জানি না ধর্মশিক্ষা এখন এতটা উপেক্ষিত কেন। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান যে যার ধর্ম জানুক, মানুক, নৈতিক জ্ঞান অর্জন করুক, এটা তো সবার চাওয়া হওয়া উচিত। এখন ধর্মের বিকৃত উপস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। ধর্মশিক্ষা এড়ানোর কথা বলা হয়। এরই ফলে ব্লগার নামে একটা ধর্মবিদ্বেষী শ্রেণী জন্ম নিয়েছে। ধর্ম-কর্ম কটাক্ষ করলে নাকি প্রগতিশীল হয়। সব ধর্ম প্রগতির মশাল জ্বালিয়ে শুরু হয়েছে। শাসকেরাই ধর্মকে জীবন থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছে, জনগণ নয়। ধর্ম না জানার সাথে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সম্পর্ক ও বৈপরীত্য কোথায়- এখনো জানলাম না। এখন পর্যন্ত সব ধার্মিক মানুষ যে ধর্মেরই হোক তারা ভালো মানুষ। তাদের নীতি-নৈতিকতাও উন্নত মানের। ধর্ম যারা জানে ও মানে, তারা আর যাই হোক অন্য ধর্ম নিয়ে বিদ্বিষ্ট হন না। সাম্প্রদায়িকতাও পোষণ করেন না। তারা এখনো বেশি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন। আমানতের হেফাজত করে। সহজেই পাপ করতে ও অপরাধে জড়াতে চান না। বলেন তো সত্য বলেন। অবশ্য বকধার্মিক এবং মুনাফিকদের কথা এবং লেবাছধারী ভণ্ডদের কথা আলাদা।
ওলামা লীগ সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ একেবারেই কম। এর প্রধান কারণ আমরা এদের শ্রেণী চরিত্র বুঝি না। মাইন্ডসেট জানি না। তারপরও আমরা বিবেচনায় নিতে চাই তাদের বক্তব্যগুলো সত্য কি না। যদি সত্য হয় সরকার দায় নেবে না কেন। মিথ্যা হলে ধর্মের নামে রাজনীতি করার অধিকার তাদেরও থাকা উচিত নয়। শাসকেরা সাধারণত তাদের অনুগত ও আশ্রিত একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী লালনপালন করে। অনেক দেশেই দরবারি আলেম, ধর্মগুরু ও পাদ্রি থাকে। এখনো আছে। বিশেষত ধর্মনিরপেক্ষ ধারণায় এটাকে অপরিহার্য ভাবা হয়। এদের মাধ্যমে শাসকেরা জনগণের ধর্মপ্রীতিকে এক্সপ্লয়েট করে। এরা এক দিকে শাসকদের বৈধতা দেয়। অন্য দিকে ধর্মের পিউরিটার্ন কনসেপ্টকে ঠেকাতে শাসকদের সাহায্য করে। বাংলাদেশের শাসকেরা ব্যতিক্রম নন। সরকার যখন কোনো ইস্যুতে বক্তব্য দিতে চায় না, কিন্তু ভারসাম্য রক্ষার জন্য কিছু একটা করা দরকার, তখন এদের অনুগত ও আশ্রিতদের ব্যবহার করে। চেতনার সওদাগররা যেমন অনুগত এবং পোষ্য, তেমনি দরবারি আলেমরাও তাই। শাসকেরা সাধারণত একই ঝুড়িতে সাপ ও বেজি রাখে। একই ঘরে মুরগি ও শিয়াল পোষে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য, ভাগ করে শাসন করার জন্য এমনটি করা হয়।
ইতিহাস যতটা পড়েছি, জীবনের যে বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছি, তাতে নিশ্চিত হয়েছি শাসকেরা ধর্ম মানেন না, মানার ভান করেন। ম্যাকিয়াভেলিও শিখিয়েছেন, ধর্ম মানো বা নাই মানো, মানার ভান করো। শিয়ালের মতো ধূর্ত, বাঘের মতো হিংস্র না হলে তাদেরকে ম্যাকিয়াভেলি শাসকের যোগ্য ভাবেননি। বাংলাদেশের মানুষ যে ধর্মেরই অনুসারী হোক, তারা চরমপন্থায় যায় না। কেউ গেলে ঠেকায়। তাদের সাম্প্রদায়িক চৈতন্য ষোলআনা চাঙা, কিন্তু সামান্য সাম্প্রদায়িকতাকেও এরা ঘৃণা করে। ধর্মীয় সংখ্যানুপাত বিসর্জন দিয়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিলে কিংবা ভোটব্যাংক হিসেবে আনুগত্য আদায় করতে অনৈতিক ছাড় দিলে বাংলাদেশের মানুষ টের পায়। সুযোগের অপেক্ষা করে। এর জন্য প্রতিশোধের খাজনা ট্যাক্স শাসকদেরই শোধ করতে হয়।
masud2151@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.