ইউপি চেয়ারম্যানকে অপহরণ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কাসেম অপহূত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে উপজেলার পোদ্দার বাজার এলাকা থেকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে অপহরণ করে।
অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল রোববার উপজেলার বালাইশপুর এলাকা থেকে দুজনকে আটক করেছে


পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন: জহির উদ্দিন ও কামাল হোসেন। তাঁদের বাড়ি বালাইশপুর এলাকায়।
এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপহূত চেয়ারম্যানকে উদ্ধারের দাবি জানানো হয়। এ সময়ের মধ্যে তাঁকে উদ্ধার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্ধারের দাবিতে গতকাল সকালে লক্ষ্মীপুর শহর এবং সদর উপজেলার মান্দারী, জকসিন ও চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধ করে। অবরোধকালে বেশ কয়েকটি বাস, টেম্পো ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার রাত ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান কাসেম (৫৫) বাড়ির কাছে পোদ্দার বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস ওই চায়ের দোকানের সামনে এসে থামে। মাইক্রোবাস থেকে মুখোশ পরা ৮-১০ জন সশস্ত্র যুবক নেমে আসেন। একটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে কয়েকজন যুবক ইউপি চেয়ারম্যান কাসেমকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তোলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি উপজেলার সোমপাড়া-চাটখিল সড়কের দিকে যায়।
অপহূত চেয়ারম্যানের ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম (১৮) গতকাল গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, উপজেলার দত্তপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান নূর হোসেন ও স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী মাসুমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাবার বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরেই তাঁর বাবাকে অপহরণ করা হয়েছে। মুজাহিদুল আরও জানান, চার-পাঁচ মাস আগে তাঁর বাবার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন নূর হোসেন। পরে নূর হোসেন লোকজন নিয়ে বাড়িতে এসে বন্দুক দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। ওই ঘটনায় নূর হোসেন ও মাসুমের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করা হয়।
এ ব্যাপারে গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

No comments

Powered by Blogger.