এই ক্যাম্পটা যদি প্রতি মাসে করা যেত! by সুস্মিতা বিশ্বাস

প্রথমেই আমি ধন্যবাদ জানাব গ্রামীণফোন এবং প্রথম আলোকে এমন একটা সাহসী উদ্যোগ হাতে নেওয়ার জন্য। ৬৪টি জেলাসহ সারা দেশের ৯২টি অঞ্চলের ২৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত এই ক্যাম্পের ফলে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের প্রতি যেন আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে।


মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট নিয়ে যে কতটা আগ্রহ, এটা হয়তো বা আমি আই-ক্যাম্প ও সেপ্রড দ্য লাইটের কার্যক্রম না করলে বুঝতেই পারতাম না। একটা মানুষ তখনই সার্থক হয়, যখন সে অন্য আরেকটা মানুষকে নতুন কিছু শেখাতে পারে। আমি হবিগঞ্জের আই-জিনিয়াস, যখন এই জিনিসটা উপলব্ধি করতে পারলাম, তখনই আমার ওপর একটি দায়িত্ব পড়ল যে ইন্টারনেটকে নিজের জেলার প্রতিটি কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিতে হবে। সেপ্রড দ্য লাইটের কার্যক্রম যখন করছিলাম, তখন এক রিকশাওয়ালা আমার এই কার্যক্রম দেখে বলেন, তাঁর মোবাইলেও আমি যেন ইন্টারনেট চালু করে দিই। তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমাদের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। আই-ক্যাম্পে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা উন্মাদনা দেখে বারবার মনে হচ্ছিল, যদি এই ক্যাম্পটা প্রতি মাসে করা যেত!
বর্তমানে আমাদের দেশে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই এখন ইন্টারনেটের ব্যবহারটাকে প্রয়োজনের একটা অংশ হিসেবেই ধরছেন। আসলে মানুষ আরেকটু সুযোগ চায় ইন্টারনেটকে বোঝার, ইন্টারনেট সম্পর্কে জানার। আই-ক্যাম্পের মোবাইলে ব্রাউজিংয়ের সেশনের যখন সময় এল, তখন সবাই যেন পাগল হয়ে পড়ল। মোবাইলে ব্রাউজের জন্য এই উন্মাদনা দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ!
মোবাইলে ব্রাউজিংয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আগ্রহও ছিল বাঁধভাঙা। কুইজ রাউন্ডে শিক্ষার্থীদের উত্তর দেওয়ার প্রবণতা দেখে আমি হতবিহ্বল হয়ে পড়লাম। যখন জিজ্ঞেস করলাম, ওরা এত প্রশ্নের উত্তর জানে কীভাবে, তখন সবার উত্তর, আই-ক্যাম্প আমাদের সবকিছুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
আসছে আবার ইন্টারনেট উৎসব-২। এ কথা ক্যাম্পে যখন ঘোষণা দিলাম, তখন সবার চোখেমুখে সে অন্য রকম এক উত্তেজনা!
যতই দিন যাচ্ছে, মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে ততটাই জড়িয়ে পড়ছে। সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে তার পরিবার আর বন্ধুমহলে ইন্টারনেটের ভালো দিক এবং অপার সম্ভাবনাকে সামনে তুলে আনতে হবে। তবেই সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

No comments

Powered by Blogger.