হিসাব ব্যবস্থাপনায় পেশাগত ডিগ্রি

ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানেরই সঠিক হিসাব ব্যবস্থাপনা ছাড়া সফলতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। যে কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের হিসাব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পেশাগত ডিগ্রিধারীদের বেশ চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (আইএফএসি) সদস্য হিসেবে স্বীকৃত


প্রতিষ্ঠানে হিসাব ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সর্বোচ্চ পেশাগত ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে সিআইএমএ বা সিমা। সিআইএমএ বিষয়ে পড়াশোনা ও এই পেশার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রথম আলোকে বিস্তারিত জানান সিআইএমএ বা সিমা বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জারিফ তামান্না মতিন।

সিআইএমএ কী: দ্য চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস সিআইএমএ বা সিমা হলো হিসাবরক্ষণ, ফাইন্যান্স ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে একটি পেশাগত ডিগ্রি। যা বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্য।১৯১৯ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম এটি চালু হয়। বাংলাদেশে ২০১০ সালে সিমার যাত্রা শুরু হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে সিআইএমএর আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের মধ্য দিয়ে। বর্তমানে দেশের প্রায় কয়েকটি ইনস্টিটিউটে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও একমাত্র কোয়ালিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘এলসিবিএস ঢাকা’।

যে ধরনের ডিগ্রি দেওয়া হয়: সিমায় তিন ধরনের ডিগ্রি দেওয়া হয়। একজন শিক্ষার্থীকে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক গুণাবলি বিষয়েও ধারণা দেওয়া হয়। চারটি লেভেলে মোট ১৫টি বিষয় নিয়ে সিআইএমএ বা সিমাি পড়তে হয়। প্রথম লেভেল সার্টিফিকেট ইন বিজনেস অ্যাকাউন্টিং (সিবিএ)। সিবিএ কোর্সে মোট পাঁচটি বিষয়ে এবং বাকি লেভেলগুলোয় তিনটি বিষয় নিয়ে পড়তে হয়। দ্বিতীয় অপারেশন লেভেলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং সনদ দেওয়া হয়। তৃতীয় ম্যানেজমেন্ট লেভেলে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং সনদ পান। চতুর্থ লেভেলে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মেম্বার অব দ্য চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস সনদ পান। তবে সিআইএমএ সদস্য হতে হলে সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়ে তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। এ ছাড়া একজন শিক্ষার্থী সিআইএমএর সদস্য হওয়ার পাশাপাশি চার্টার্ড গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিজিএমএ), সিএমএ (কানাডা) ও সিপিএ (অস্ট্রেলিয়া) সনদ পাবেন।

ভর্তির যোগ্যতা: সিআইএমএতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক বা ‘এ’ লেভেল পাস হতে হবে। এ ছাড়া ‘ও’ লেভেল পাস শিক্ষার্থীদেরও ভর্তির সুযোগ আছে। অনুমোদিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা সরাসরি দ্বিতীয় লেভেল থেকে পড়তে পারবেন। এমবিএ বা অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস শিক্ষার্থীরা এবং সিএ, আইসিএমএ, এসিসিএর সদস্যরা সিআইএমএতে ভর্তির ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট লেভেলে শুধু ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী লেভেলে পড়তে পারবেন। বছরে দুবার মে ও নভেম্বর মাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মে মাসে পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রার্থীকে ৩১ জানুয়ারি এবং নভেম্বরের পরীক্ষার জন্য ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। সরাসরি সিআইএমএ বাংলাদেশের অফিসে গিয়ে কিংবা অনলাইনের মাধ্যমেও রেজিস্ট্রেশন করা যায়। সিআইএমএ পড়তে একজন প্রার্থীর সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়।

কাজের ক্ষেত্র যেখানে: এ কোর্স শেষে চাকরির অপেক্ষায় কাউকে বসে থাকতে হয় না। দেশ-বিদেশে সব জায়গায় রয়েছে কাজের প্রচুর সুযোগ। একজন সিআইএমএ সদস্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে, যেমন—প্রকল্প বিশেষজ্ঞ, চেয়ারম্যান, ম্যানেজমেন্ট কনসালন্ট্যান্ট, আইটি পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, বিজনেস অ্যানালিস্ট, ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রধান নির্বাহীসহ বিভিন্ন শীর্ষ পদে অনায়াসেই নিয়োগ পেতে পারেন। তা ছাড়া কয়েকটি পার্ট শেষ করেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা যায়।

পেশার চাহিদা: যাঁরা সিআইএমএ বা সিমার সদস্যপদ লাভ করেন, তাঁদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যাংক, এনজিওতে কাজের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিশ্বের ১৭৬টি দেশে সিআইএমএ বা সিমার কার্যক্রম বিস্তৃত। ফলে বিদেশে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিআইএমএর শিক্ষার্থী ও সদস্যসংখ্যা এক লাখ ৯৫ হাজার।

বিস্তারিত জানতে পারেন: সিআইএমএ বাংলাদেশ—আরএম সেন্টার, ১০১ গুলশান এভিনিউ, ঢাকা। ফোন: ৮৮১৫৭২। ওয়েব: www.cimaglobal.com।

No comments

Powered by Blogger.