ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করুন-তৈরি পোশাক খাত

রোজা এলেই পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অতিরিক্ত উৎসাহ ও অসন্তোষ—দুই-ই দেখা যায়। তাঁরা অতিরিক্ত সময়ে কাজ করা বাড়িয়ে দেন ঈদের বেতন ও বোনাস ঈদের আগেই পাওয়ার আশায়। কিন্তু গত এক যুগে এমন ঈদ কমই গেছে, যেখানে টালবাহানা ছাড়া সময়মতো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে।


এমনকি সরকার-মালিক-শ্রমিক এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত নিম্নতম বেতন-ভাতাও পূর্ণাঙ্গভাবে সব কারখানায় দেওয়া হয় না। অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তুলনায়, বিশেষ করে পোশাক কারখানার মালিকদের মধ্যে শ্রমিকদের প্রতি কেন এত অবহেলা? যেখানে এই শ্রমিকেরাই তাঁদের বিপুল মুনাফার উৎস। তাহলে কেন তাঁদের ন্যায্য পাওনা দিতে গড়িমসি করা হবে এবং প্রতিবছরের মতো এবারও শ্রমিকদের বেতন-ভাতার জন্য রাস্তায় নামতে হবে? ঈদ-রোজা কি তাঁদের জন্য নয়?
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন (দুই হাজার ২৯২ কোটি ৪৪ লাখ) ডলার রপ্তানি-আয় দেশে এসেছে; যার ৮০ শতাংশ এসেছে নিট পোশাক রপ্তানি খাত থেকে। অথচ এই বাড়তি আয়ের কারণে শ্রমিকদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার নজির খুবই কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করলে কর কর্মকর্তারা উৎসাহ-বোনাস পেয়ে থাকেন। খেলাপি ঋণ আদায় করলে ব্যাংকাররা পান বাড়তি সুবিধা। বেশি রপ্তানি করলে রপ্তানিকারকেরা সরকারের কাছ থেকে পান রপ্তানি ট্রফি। পান সিআইপির মর্যাদা। কিন্তু বেশি উৎপাদন ও মুনাফা নিশ্চিত করার অবদানের জন্য শ্রমিকেরা কী পেলেন?
গত বছর শ্রমিকদের বেতন যে হারে বেড়েছে, বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে এর থেকে বেশি হারে। এসব বিবেচনায় তৈরি পোশাক খাতের এই বিশাল কর্মী বাহিনীর ন্যায্য পাওনা দিতে গড়িমসি করা অন্যায় হবে। বেতন-সুবিধা ঠিকমতো পেলে শ্রমিকের দক্ষতা ও কারখানার উৎপাদন বাড়ে, এটা অর্থনীতির তত্ত্ব। এটা মানলেও এই দুর্মূল্যের বাজারে, সমাজের সবচেয়ে তলায় পড়ে থাকা পোশাকশ্রমিকদের ব্যাপারে সরকারেরও কর্তব্য থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প ক্ষেত্রে নতুন অসন্তোষ কারও জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। তার আগেই শ্রমিকদের বিক্ষোভে কান পাতুন এবং ২৫ রোজার আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা-বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

No comments

Powered by Blogger.