মিটার কবে চালু হবে? by ইমরুল কায়েস

ঢাকা শহরের অধিবাসীদের যদি দুই ভাগে ভাগ করা যায়, এবং নিরিখটা যদি হয় রাস্তা তবে অবশ্যই এর এক ভাগে পড়বে এমন লোকেরা যাদের নিজের গাড়ি নেই। আরেক ভাগে পড়বে যাদের গাড়ি আছে তারা। অনেকেরই হয়তো নিজস্ব গাড়ি আছে, অনেকের গাড়ি না থাকলেও অফিসের ব্যবস্থাপনায় চলাচলের ব্যবস্থা আছে।


ঢাকার রাস্তায় গাড়িঅলা মানুষের সুখের অন্ত নেই। জ্যাম কাউকে ছাড়ে না, কিন্তু গন্তব্যে পেঁৗছানোর জন্য কাঙ্ক্ষিত গাড়িতে উঠে জ্যামে বসে থাকার ভাগ্য কয়জনের হয়? গাড়িঅলা ও গাড়িহীন মানুষদের মোটাদাগে দুই ভাগে ভাগ করে ফেললে কেউ কেউ হয়তো তর্ক তুলবেন। বলবেন, সবাই তো আর লোকাল বাসে ওঠে না। কিন্তু একদিনও যিনি রাস্তায় নেমেছেন তিনি ভালো করেই জানবেন, সবাইকেই লোকাল বাসে উঠতে হয়। দরকারের সময় লোকাল বাস কেন ভ্যানে উঠে বসতেও এ শহরের মানুষ কার্পণ্য করে না। সবচেয়ে বড় কথা, আইন-কানুনহীন রাস্তায় সব বাসই লোকাল আবার সব বাসই বিশেষ_ পথের ভাষায় ডাইরেক্ট। যখন যাত্রীর চাপ বেশি তখন লোকালবাসগুলোও বিরতিহীন হয়ে ওঠে। আর রাস্তায় যাত্রী কম থাকলে বিরতিহীন বাসগুলোও বিরতিমুখর হয়ে ওঠে। কাউন্টার সার্ভিসগুলোও এক কাঠি সরেস। টিকিটের হিসাব রাখলেও সিটের হিসাব তাদের করতে হয় না। সাধারণত এসব বাসে লোকে গাদাগাদি করে বাদুড়ঝোলা হয়েই চলাফেরা করে। ফলে, লোকাল বাসে গাড়িহীন মানুষকে উঠতেই হয়। কে দিনমজুর আর কে কর্মকর্তা সে হিসেব সেখানে থাকে না। হিসেবের চিন্তাই আসে না। এখন প্রশ্ন উঠবে, কেউ কেউ তো নিশ্চয়ই সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ট্যাক্সিক্যাবে যাতায়াত করে? কেউ যদি দাবি করে, ঢাকা শহরে ট্যাক্সিক্যাবের সুব্যবস্থা আছে। তবে নিশ্চয়ই তিনি ঠিক দাবি করেন না। কারণ, ঢাকা শহরে ট্যাক্সি যতটা চলে ট্রামও ঠিক ততটাই চলে। তবে হ্যাঁ, সবুজ সিএনজিচালিত অটোরিকশা বেশ চলে। অনেকেই অটোরিকশায় চাপেনও বটে। কিন্তু যারা চাপেন তারা কি প্রতিদিন নিয়ম করে অটোরিকশায় চেপে অফিসে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন? সাধারণত, কুড়িটা অটোরিকশাকে অনুরোধ করার পর একজন প্রার্থিত গন্তব্যে যেতে রাজি হয়। যিনি রাজি হন, সেই সদাশয় অটোরিকশা যে দাম হেঁকে বসেন তাতে অধিকাংশ যাত্রীর পোষাবে না। নিয়মিত চলাফেরা নয়, হাসপাতালে যেতে কিংবা জরুরি মিটিং ধরতে এমন বাড়তি দাম দেওয়া চলে। কিন্তু প্রতিদিনের জন্য এমন দাম যিনি দিতে সক্ষম, তিনি বোধহয় নিজের জন্য আলাদা গাড়িও কিনতে সক্ষম। কিছুদিন আগে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো বেশ নিয়মে এসেছিল। খানিকটা গাঁইগুঁই করলেও গন্তব্যে যেতে রাজি হতো। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়ার পর আগের অরাজকতা ফিরে এসেছে। গন্তব্যে যেতে রাজি করা কঠিন। রাজি হলেও এমন দাম হেঁকে বসে যে বিস্মিত হতে হয়। গ্যাসের দাম বাড়ার পর মিটার নতুন দাম অনুসারে ঠিক হবে এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু মাসের পর মাস যাচ্ছে, মিটার আর ঠিক হচ্ছে না। বিস্ময়কর ব্যাপার! সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাত্রীদের পকেট কাটছে দিনেদুপুরে অথচ কেউ দেখার নেই। অনেক ঝামেলার পর বাসের ভাড়া কিছুটা নিয়মে ফিরেছে কিন্তু অটোরিকশার অবস্থা করুণ। প্রশ্ন হলো, অটোরিকশাকে একটা নিয়মে না এনে এভাবে চলতে দেওয়া হবে কেন? মিটার চালু করে, নিয়মে আনতে কি খুব বেশি কষ্ট হয়?

No comments

Powered by Blogger.