বিশেষ সাক্ষাৎকার-অবিশ্বাসের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে by এম সাখাওয়াত হোসেন

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, বরিশালে। ১৯৬৬ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাখাওয়াত হোসেন পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।


১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকায় ৪৬ ব্রিগেডে স্টাফ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৯-৮১ সালে ঢাকায় সেনা দপ্তরে অপারেশন ডাইরেক্টরেটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর তিনি দুটি ইনফেন্ট্রি ব্রিগেড ও একটি আর্টিলারি ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন। এর আগে পাকিস্তান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর সাখাওয়াত হোসেন ২০০৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
 সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান

প্রথম আলো  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ৩০ অক্টোবর। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। কেউ কেউ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন। এখন নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ কী?
সাখাওয়াত হোসেন  যেকোনো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দুই ধরনের প্রস্তুতি থাকে। প্রথমত, লোকবল ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন পরিচালনা। প্রথম দফার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সেখানে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এমন একজনকে রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছে, যিনি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ অধিকাংশ পৌর নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার পদে নিজস্ব কর্মকর্তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সেখানে নয়জন ম্যাজিস্ট্রেট শুরু থেকে কাজ করছেন। মোট ২৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে নয়জন জুডিশিয়াল সার্ভিসের।
জেলা প্রশাসক সম্পর্কে আপত্তির বিষয়টি আমরা আগেই জেনেছিলাম। সে কারণেই তাঁকে রিটার্নিং অফিসার করা হয়নি। তিনি নির্বাচনের সময় দেশেও থাকছেন না।
প্রথম আলো  নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকারে আপনারা কী করেছেন?
সাখাওয়াত হোসেন  প্রচারণার শুরুতে বিভিন্ন মেয়র প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রেখেছেন। আমরা তাঁদের সতর্ক করে দিয়েছি। এ ছাড়া একজন সাংসদ প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখলে আমরা তাঁকেও সতর্ক করে দিয়েছি। এরপর কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে আর সতর্ক করা হবে না। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রথম আলো  আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
সাখাওয়াত হোসেন  আমরা নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি। প্রতিটি থানার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ কোনো অভিযোগ আনলে তা আমলে নেওয়ার জন্য বলেছি। জেলা পুলিশ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। এর পাশাপাশি সাড়ে চার হাজার অতিরিক্ত সদস্য পাঠানো হবে। এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন আনসার, পুলিশ, এপি ব্যাটালিয়ন ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনী কাজ তদারকির জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে ২৭ জন পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে। ৩০টিরও বেশি ভিডিও ক্যামেরা এবং ২৫-৩০টি কেন্দ্রে সিসি টিভি বসানো হবে, যার সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের সরাসরি সংযোগ থাকবে। গণমাধ্যমের কর্মীদের জন্য তা উন্মুক্ত থাকবে।
প্রথম আলো  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি উঠেছে। এ ব্যাপারে আপনাদের পদক্ষেপ কী হবে?
সাখাওয়াত হোসেন  নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যা যা প্রয়োজন, তার সবই করা হবে। প্রয়োজনে সেখানে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, অবস্থা বুঝেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রী ও তাঁদের পদমর্যাদার কেউ নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারবেন না। সাংসদেরা গেলেও দুই দিন আগে সেখান থেকে চলে আসতে হবে। অর্থাৎ নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকে সেখানে এমন কেউ থাকতে পারবেন না, যাঁরা সিটি করপোরেশনের ভোটার নন।
প্রথম আলো  ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে। বিষয়টি আপনারা কীভাবে দেখছেন?
সাখাওয়াত হোসেন  চুরি করা সম্ভব হবে না বলেই তাঁরা ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলায় কেউ কেউ বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে নিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু আমরা ইভিএম পদ্ধতির কথা বলে আসছি ২০০৯ সাল থেকে। যেসব দেশে ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে, সেসব দেশে সেন্ট্রাল সার্ভারের ব্যবস্থা ছিল না। আমরা ইভিএম পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছি নির্বাচন-প্রক্রিয়াকে আরও সুষ্ঠু ও গতিশীল করতে। এ ব্যাপারে কোথায় ত্রুটি আছে, সেটি বলুন। আমরা সংশোধন করব। কিন্তু কিছু না দেখে এর বিরোধিতা করা সমীচীন নয়। আমাদের দেশের সংস্কৃতি হচ্ছে একদল সমর্থন করলে অন্যদল বিরোধিতা করবে।
আর যারা ইভিএমের বিরোধিতা করছে, তারা তো নির্বাচন কমিশনকেই মানতে চাইছে না। অথচ নিরপেক্ষভাবে দেখলে আমরা যতগুলো নির্বাচন করেছি, সেগুলো অতীতের যেকোনা নির্বাচন থেকে অবাধ ও সুষুম হয়েছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় মানের বলে উল্লেখ করেছেন। পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনও অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলেই বিরোধী দল প্রায় ৫০ ভাগ আসন পেয়েছে। এর আগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দল ১০-১২ শতাংশের বেশি আসন পায়নি। আমরা প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েন করেছি। কিন্তু এম এ সাঈদ সাহেবের আমলে বিএনপি অনেকবার দাবি করার পরও তা করা হয়নি।
প্রথম আলো  এই কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নতুন নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হতে পারে?
সাখাওয়াত হোসেন  বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তাতে সব দল একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে তেমন আশা করা যায় না। এ কারণেই আমরা বলেছিলাম একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হোক এবং ওই কমিটি কতগুলো নাম প্রস্তাব করবে এবং সেসব নাম সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচিত হবে। আমাদের এই প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও কথা বলেছি। অনেকেই একমত হয়েছেন। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বৈঠকে আসেনি। সরকারি দল আওয়ামী লীগ বৈঠকে এলেও কোনো মতামত দেয়নি। আমরা ডিসেম্বরের মধ্যেই আমাদের সুপারিশগুলো সরকারের কাছে পেশ করব, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে, কীভাবে নতুন নির্বাচন কমিশন হবে।
প্রথম আলো  সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে।
সাখাওয়াত হোসেন  আমরাও মনে করি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত হচ্ছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস প্রবল। কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। এই অবিশ্বাসের সংস্কৃতি থেকে আমাদের আগে বেরিয়ে আসতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে ৩৫ বছর পর যে নির্বাচনে বিরোধী দল ক্ষমতায় এসেছে, সেই নির্বাচনটি কিন্তু ক্ষমতাসীন বামফ্রন্টের অধীনে হয়েছে। সেখানে কেউ নির্বাচনী ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ পরাজয় মানতে চান না।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী করার জন্য অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা জরুরি। রাজনৈতিক পর্যায়ে হয়তো এ ব্যাপারে তেমন বাধা নেই। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক বাধা আছে। বাজেটে নির্বাচন কমিশনকে বরাদ্দ দিলেও তা ছাড় করাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। যেখানে পাঁচ কোটি টাকা খরচ করা প্রয়োজন, সেখানে বরাদ্দ পাওয়া যায় এক কোটি টাকা। যে কারণে অনেক সময় নিরাপত্তাকর্মী ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত অন্যান্য কর্মীর পাওনাও পরিশোধ করা যায় না।
প্রথম আলো  ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েও আপনারা ব্যর্থ হলেন কেন?
সাখাওয়াত হোসেন  এখানে আইনগত যে বাধা আছে, তা দূর করা প্রয়োজন। আইনে আছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন কমিশন এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে চাইলে কোনো বাধা নেই। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে কী হবে, তা আইনে লেখা নেই। ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। ফলে এখন এর নির্বাচন করতে হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছি। মন্ত্রণালয় বলল, তারা ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভাগ করে দুটি করপোরেশন করবে। কিন্তু এখনো এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আবারও চিঠি দেব। সম্ভব হলে আমাদের মেয়াদের মধ্যেই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করে যাব।
প্রথম আলো  নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে আইনগত কি বাধা আছে?
সাখাওয়াত হোসেন  নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হওয়ার অর্থ নির্বাচনসংক্রান্ত তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা চাই, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত আইনি সুরক্ষা। এখন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রার্থী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। ফলে আমাদের অনেক সিদ্ধান্তই কার্যকর হয় না। বিশেষ করে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে এই রিটের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কমিশন প্রার্থিতা বাতিল করলেও কয়েকজন প্রার্থী রিট করে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জনপ্রশাসনের ব্যাপারে আমাদের প্রস্তাব হলো, নির্বাচনের সময় অন্তত চারটি মন্ত্রণালয় যেন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়। মন্ত্রণালয়গুলো হলো জনপ্রশাসন, মন্ত্রিপরিষদ, স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র। নির্বাচন কমিশনের কাজের সঙ্গে এই মন্ত্রণালয়গুলো কোনো না কোনোভাবে জড়িত। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সুযোগ থাকে।
প্রথম আলো  এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?
সাখাওয়াত হোসেন  নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। জয়ের জন্য প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলো কোনো অন্যায়, অপকৌশল ও অপকর্মের আশ্রয় নিতে দ্বিধা করেন না। কালোটাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহারও সাধারণ রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আমরা অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করেছি। তবে সবটা পেরেছি দাবি করব না। আর সবকিছু আইন দিয়ে প্রতিরোধ করাও যায় না। এ জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো পরাজয় স্বীকার করতে না পারা। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনের ফলাফল পরাজিত দল মেনে নেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনের রায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো জনপ্রশাসন। নির্বাচনী কাজ তো একা নির্বাচন কমিশন করে না। জনপ্রশাসনকে নিয়েই তাকে কাজ করতে হয়। সে কারণে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে জনপ্রশাসনে তার অভাব প্রকট। যে কারণে নির্বাচন সামনে এলেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের লোকদের বদলি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি ওঠে। আসলে এটি জনপ্রশাসনের প্রতি মানুষের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।
প্রথম আলো  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন?
সাখাওয়াত হোসেন  আমরা মনে করি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। কমিশন সেই লক্ষেই সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো রকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি মানার ব্যাপারে শুরু থেকে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। নির্বাচনে টাকাপয়সা দিয়ে কেউ যাতে প্রভাবিত করতে না পারে, সে জন্য এডিসির নেতৃত্বে একটি মনিটরিং টিম কাজ শুরু করেছে, যাতে এনবিআরের কর্মকর্তারাও আছেন। কোন প্রার্থী কত খরচ করছেন, এই টিম হিসাব তার নেবে। সাত দিন পর পর তারা কমিশনকে রিপোর্ট দেবে, সে রিপোর্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা ব্যবস্থা নেব।
প্রথম আলো  আপনাকে ধন্যবাদ।
সাখাওয়াত হোসেন  ধন্যবাদ।

No comments

Powered by Blogger.