আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি-নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কঠোর হাতে

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যে ঘটছে, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে সেটা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। একদিকে বাড়ছে নীরব চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা, অন্যদিকে চলছে মাদক সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ে অশান্তি চলছে।


বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে গত কয়েক দিনে। এর পাশাপাশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। ওদিকে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পুরস্কারঘোষিত সন্ত্রাসীরা ফিরছে রাজধানীতে। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
কয়েক দিন আগে রাজধানীর উপকণ্ঠে আমিনবাজারে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রাথমিকভাবে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা অনেকটাই কমে গেছে। রাজধানীতে প্রতিদিন যে পরিমাণে অপরাধ সংগঠিত হয়, তার সামান্যই পুলিশের নথিভুক্ত হয়। অনেক সময় পুলিশের সাহায্য নিতে যাওয়াকেও মানুষ বিড়ম্বনা বলে মনে করে। ফলে চুরি-ছিনতাইসহ অনেক ঘটনাই থানায় নথিভুক্ত হয় না। অসততার কারণে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ক্রমেই কমছে। এই আস্থাহীনতার কারণে কিংবা হয়রানির ভয়ে অনেকেই থানায় যান না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীতে ছিনতাই, ধর্ষণ এবং অন্যান্য কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে যতজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তাঁদের মধ্যে ২ শতাংশও থানায় মামলা বা জিডি করেন না। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যায়, থানা-পুলিশের নথি দেখে কখনো অপরাধের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয় করা যাবে না। পাশাপাশি এটাও ঠিক যে মানুষ এখন নিজেদের নিরাপত্তার কথা নিজেরাই ভাবতে শুরু করেছে। অন্যদিকে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারাও যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তৃপ্ত হন, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যায় না। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চোখে না দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও গা ছাড়া ভাব দেখা দেওয়াটাই স্বাভাবিক।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনেকটাই দলীয় বাহিনীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি অনেক সময় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশের বিশেষ শাখা, সংবাদমাধ্যম এবং হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, 'অপরাধের হার গত বছরের তুলনায় এবার বেড়েছে। বিশেষ করে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ইভ টিজিং আগের চেয়ে বেশি ঘটছে। বেড়ে গেছে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা।' খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, 'গত ছয় মাসে সারা দেশে সাংবাদিকদের মোটরসাইকেলই চুরি হয়েছে ৬৪টি। এর মধ্যে ঢাকায়ই ঘটেছে ১৭টি চুরির ঘটনা। বেশির ভাগ ছিনতাই, চাঁদাবাজি, চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ মামলা নেয় না।' পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে এ ব্যাপারে রেড সিগন্যাল দেওয়া আছে_এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে খবরে। উপরন্তু রাজধানীতে পুরস্কারঘোষিত দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর গোপন অবস্থানের খবরও রীতিমতো আতঙ্কজনক। এভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফিরতে শুরু করলে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, এটা যেমন সত্য; পাশাপাশি এটাও সত্য যে পরিস্থিতি এখনো আয়ত্তের বাইরে চলে যায়নি। শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের এখনই সময়। সময় থাকতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক হতে হবে। ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তখন আর কিছুই করার থাকবে না।

No comments

Powered by Blogger.