জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি-বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ by মো. মুজিবুর রহমান

আজ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী। গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলবি মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং মা মেহেরুন্নেসা খানম। তাজউদ্দীনরা ছিলেন চার ভাই ও ছয় বোন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামের মক্তবে।


এরপর ভুলেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি শৈশব থেকে প্রতিবাদী ও বিপ্লবী মনোভাব পোষণ করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং গ্রহণ করেন। তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৪২ সাল থেকে বয়েজ স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
ব্রিটিশ শাসকদের শোষণ থেকে জাতির মুক্তির লক্ষ্যে মুসলিম লীগের হয়ে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মশাল হাতে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। আর পরিসমাপ্তি ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরে জেলখানায় খুনিদের গুলিতে।
১৯৪৩ সালে মুসলিম লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৪৪ সালে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়। সেই দলের একজন নেতা হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। সেই সময়কার তরুণ নেতা শেখ মুজিবের সানি্নধ্য লাভ, তাঁর সঙ্গে বাঙালি জাতির মুক্তির লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়াই গণমানুষের এ নেতার অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কাপাসিয়া নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৬ সালে তাজউদ্দীন আহমদ লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলীয় সম্মেলনে যোগদান করেন। এই সম্মেলনেই বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা পেশ করেন। ওই বছরই তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ৭ মে তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তাজউদ্দীন আহমদ জাতীয় পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমিতে সাংগঠনিক দিকগুলো পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থাভাজন সহযোগী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ অতুলনীয় দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণার পর তিনি গ্রেপ্তার হন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে পুরো মুক্তিযুদ্ধে যিনি নেতৃত্বে দেন, তিনি হলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাজউদ্দীন আহমদকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি করা হয়। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে আরো তিন নেতার সঙ্গে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মো. মুজিবুর রহমান

No comments

Powered by Blogger.