চায়ের বাজারও যাচ্ছে-উৎপাদন ও মান বাড়াতে পদক্ষেপ নিন

চা রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশে প্রতিবছরই চা আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। এর আগে আমরা পাটের আন্তর্জাতিক বাজার হারিয়েছি। চিংড়িসহ হিমায়িত মাছ রপ্তানিরও শোচনীয় অবস্থা। এভাবে একের পর এক বাজার হারাতে থাকলে দেশটির অর্থনীতিতে ধস নামবে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।


পাটের বাজার হারানোর পর চা ছিল আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী প্রধান কৃষিপণ্য। কিন্তু সেটিও সম্ভবত আমরা আর ধরে রাখতে পারছি না। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে যেখানে চা রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি, ২০০৯-১০ অর্থবছরে সেখানে রপ্তানি হয়েছে মাত্র পাঁচ লাখ ৯০ হাজার কেজি। আগের অর্থবছরের তুলনায়ও তা প্রায় অর্ধেক। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ১০ লাখ ২০ হাজার কেজি। চায়ের বাজার ধরে রাখতে না পারার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে স্থানীয় চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং সেই বর্ধিত চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে চায়ের উৎপাদন না বাড়া অথবা ক্ষেত্রবিশেষে কমে যাওয়া উল্লেখযোগ্য। ফলে উৎপাদিত চায়ের একটা বড় অংশই স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে চলে যায়। আবার স্থানীয় বাজারে চায়ের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দামও বেশি পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই তা আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি। ফলে উৎপাদকরা রপ্তানির চেয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেই বেশি আগ্রহী থাকেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের চায়ের মানও ক্রমাগতভাবে নিম্নমুখী হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে চা নিত এমন অনেক দেশই এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতের চা উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছে। কোনো কোনো দেশ এখন প্রতিযোগিতামূলক দামে চা রপ্তানিও করছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন তথা অতিরিক্ত খরা, অতিরিক্ত কুয়াশা এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ বেড়ে যাওয়াকেও অনেকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণ বলে মনে করছেন। উৎপাদন কমার জন্য মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং অযত্ন-অবহেলাকেও অনেকে দায়ী করছেন। সর্বোপরি, প্রচুর চা বাগানের মালিক চায়ের চেয়ে লাভজনক মনে হওয়ায় অন্যান্য আবাদের দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ছেন। চা বাগানের জন্য লিজ নেওয়া সম্পত্তিতে অনেক মালিকই লেবু, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান করছেন অথবা রাবারসহ অন্যান্য অর্থকরী গাছের বাগান করছেন। চা বোর্ড তথা সরকারকে এ ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি চা গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। চায়ের মান ও উৎপাদন বাড়াতে বাগান মালিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। আমরা এভাবে একের পর এক বাজার হারাতে পারি না, বৈদেশিক মুদ্রার উৎসগুলোকে ধ্বংস করতে পারি না।

No comments

Powered by Blogger.