জনজীবনের দুর্ভোগ নিয়ে সভা-নিম্ন আয়ের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে

নারীনেত্রীরা বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, সামাজিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা সমস্যা রাজধানীকে ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। নিম্ন আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সমাজে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছেন নিম্ন আয়ের কর্মজীবী নারীরা।


‘বর্তমান ঢাকা: নিম্ন আয়ের জনজীবনে দুর্ভোগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তাঁরা এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার নারী সংগঠন কর্মজীবী নারী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
নারীনেত্রীরা বলেন, পোশাককর্মীসহ বিভিন্ন পেশার নিম্ন আয়ের মানুষেরা বাসস্থান, যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। নিম্ন আয়ের মানুষের কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার অনেকের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব ব্যাপক। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সমন্বয়ক রাহেলা রব্বানী।
সভায় উপস্থিত রহিমা নিজের অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি তেজগাঁও এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। অতিরিক্ত সময় কাজ করে সব মিলিয়ে বেতন পান প্রায় চার হাজার টাকা। বেগুনবাড়ীতে আরও সাতজনের সঙ্গে একটি বাড়িতে থাকেন। থাকা ও খাওয়া মিলিয়ে তাঁর খরচ হয় তিন হাজার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। মাসের শেষে গ্রামে মা-বাবাকে পাঠানোর মতো কিছুই থাকে না। কখনো ৫০০ টাকা পাঠাতে পারলে ‘শান্তি মেলে’। চিকিৎসকের কাছে গেলে বা অন্য সমস্যা হলে ধার নিতে হয়।
আয়োজক সংগঠনের জরিপে দেখা গেছে, গত তিন বছরে নগরজীবনে নিম্ন আয়ের কর্মজীবী নারীর যাতায়াত খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। অসুস্থতা ও চিকিৎসা বাবদ খরচ বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। খাওয়ার খরচ বেড়েছে আড়াই গুণ, বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় দেড় গুণ।
কর্মজীবী নারীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, নগরজীবনে বাড়িভাড়া, যাতায়াত, খাদ্য-বাজার ও অসুস্থতা বাবদ সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। দাম বাড়ায় শোচনীয় অবস্থায় পড়েছে নারী ও শিশু।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা বিভাগের চেয়ারম্যান এ কে এম আবুল কালাম বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নগর উন্নয়ন করা হচ্ছে। জনসংখ্যার চাপে রাজধানীর অবস্থা দুর্বিষহ। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত বাড়িঘরে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাঁদের স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা নেই।
দৈনিক সমকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান নিম্ন আয়ের যুবসমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কাজের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা দিতে পারলে তাঁদের মাদক থেকে দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরিন আখতার বলেন, অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছেন নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী। কিন্তু সরকারের নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনায় ওই জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় আনেন না।
আলোচনা সভায় সরকারের কাছে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। বলা হয়, নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা ভেবেই বাড়িভাড়া আইনের বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পূর্ণাঙ্গ রেশনিং ব্যবস্থা চালু, পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের কারখানার শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
সভায় সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, স্থাপত্যবিদ সালমা শফি, নারীশ্রমিক জোটের সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

No comments

Powered by Blogger.