অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিলেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রে বিরাজমান অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত মঙ্গলবার রাতে স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের পক্ষে টানার জন্য নানা প্রতিশ্রুতিতে সাজানো ছিল বারাক ওবামার এই ভাষণ। ভাষণে নির্বাচনী প্রচারণার বক্তব্যই প্রাধান্য পেয়েছে। ওবামার ভাষণের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করা।


তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ধনী-গরিব সবার জন্য একই আইন করার আহ্বান জানিয়েছেন। ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং ওয়াল স্ট্রিটের মুনাফার লাগাম টেনে ধরার দাবি জানিয়ে ভাষণে তিনি নিজেকে মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেন।
উচ্চ ও নিম্নবিত্তদের জন্য অভিন্ন আইনের প্রস্তাবের অংশ হিসেবে তিনি উচ্চবিত্তদের ওপর কর বৃদ্ধিসহ বন্ধকী ঋণের সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ওবামা উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কর-ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেন। উচ্চবিত্তদের ওপর অন্ততপক্ষে ৩০ শতাংশ কর বৃদ্ধির প্রস্তাব এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া যাঁদের বাৎসরিক আয় আড়াই লাখ ডলারের কম, তাঁদের ওপর কর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ৯৮ শতাংশ আমেরিকানদের মতো আড়াই লাখ ডলারের কম আয় করেন, তবে আপনাদের ওপর কর বৃদ্ধি করা হবে না। আপনারা তাঁদেরই একজন, যাঁদের জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে গেছে। আপনারা তাঁদের একজন, যাঁদের এসব সমস্যা থেকে স্বস্তির প্রয়োজন।’
এ ছাড়া ওবামা ধনীদের ওপর বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিশুযত্ন এবং অবসরের ওপর কর রেয়াত সুবিধা তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। দেশটির কর-ব্যবস্থায় মধ্যবিত্তদের তুলনায় উচ্চবিত্তদের করের হার কম। চলতি বছর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ‘কর’ একটি প্রধান ইস্যু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০৭-০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে ভাষণে দাবি করেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির মালিকদের বন্ধকী ঋণ থেকে রেহাই দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাবও ভাষণে পেশ করেন তিনি। তাঁর এ প্রস্তাব জনপ্রিয় হবে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
প্রথা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বছরের শুরুতেই কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে থাকেন। এ ভাষণে বছরব্যাপী মার্কিন প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার কর্মসূচিগুলো প্রাধান্য পেয়ে থাকে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়েই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কথা প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই উল্লেখ করেন।
দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনে ওবামা আবার উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কয়েক দশকব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র পণ্য উৎপাদনের কাজটি চীনের মতো বড় দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেয়। ওবামা বলেন, উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে পরাজিত এবং ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেভেলকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
ইরানকে যেকোনো উপায়ে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ইরান যদি তাদের মনোভাব পরিবর্তন করে এবং আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের প্রতি শ্রদ্ধা দেখায়, তবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরাজমান সংকট নিরসন সম্ভব।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত নয়টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ভাষণ দেন ওবামা। তাঁর এ ভাষণ বেতার ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.