আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরম্ন হচ্ছে এ মাসে- আজ কেন্দ্রীয় কমিটির জরম্নরী সভা

দেশব্যাপী সংগঠনকে চাঙ্গা ও শক্তিশালী করতে এ মাসেই আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরম্ন হচ্ছে। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছে দলটি। আজ সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বর্ধিত সভার দিনৰণসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধানত্ম হবে।


তবে সারাদেশের তৃণমূল নেতাদের ঢাকায় এনে গণভবন কিংবা বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একই দিন বিশেষ বর্ধিত সভা এবং সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরম্নর ব্যাপারে সিদ্ধানত্ম হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে এ মাসের ২২ জানুয়ারি বর্ধিত সভা করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে ওইদিন বিশ্ব এজতেমা থাকায় বর্ধিত সভাটি করা সম্ভব না হলে চলতি মাসেরই ২৯ তারিখে এটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। জানা গেছে, বর্ধিত সভা এবং সদস্য সংগ্রহ অভিযান একই দিন হবে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনেই দু'দিনব্যাপী এই বর্ধিত সভা আয়োজনের কথা ভাবছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। বিকল্প হিসাবে বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রও ভেনু্য হিসাবে রাখা হচ্ছে।
গুরম্নত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরম্নর দিনৰণ চূড়ানত্ম করতে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর সরকারী বাসভবন যমুনায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির জরম্নরী সভা আহ্বান করা হয়েছে। আর এই বৈঠকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর, তৃণমূল পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে বেশকিছু সাংগঠনিক সিদ্ধানত্ম আসবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ রবিবার জনকণ্ঠকে জানান, আজকের বৈঠকে সরকারের এক বছরের কাজের মূল্যায়ন ছাড়াও বর্ধিত সভা, সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফরসহ বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধানত্ম হতে পারে।
বর্ধিত সভায় দেশের সকল মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা অংশ নেবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই বর্ধিত সভাতেই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিকল্পনাগুলো নেয়া হবে। বিশেষ করে দেশের তরম্নণ প্রজন্মকে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই দলটির পতাকাতলে শামিল করতে নতুন পরিকল্পনায় মাসব্যাপী দেশব্যাপী এই সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালাবে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি বর্ধিত সভায় প্রধানমন্ত্রী দলের তৃণমূল নেতাদের দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন স্থান পাওয়া তরম্নণ নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। এ ছাড়া এই বর্ধিত সভায় সারাদেশ থেকে আগত তৃণমূল নেতাদের দলের নতুন গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, নির্বাচনী ইশতেহার তুলে দিতে ইতোমধ্যে তা ছাপানো শুরম্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আজকের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন এবং ২১ ফেব্রম্নয়ারি আনত্মর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচীও চূড়ানত্ম করা হতে পারে। ১০ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং বিকেলে বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভার আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাতে ভারত সফরে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যমুনায় চৌদ্দ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখানেও সরকারের এক বছরের মূল্যায়নসহ সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিসত্মারিত আলোচনা হবে।

যুদ্ধাপরাধীদের ৰমা নেই নৌমন্ত্রী
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে শহীদদের আত্মার সঙ্গে বেইমানি করা হবে। তাই দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হবে। তিনি বলেন, মুখে ইসলামের কথা বললেও জামায়াতে ইসলামীর অনত্মরে ইসলামের চেয়ে মতাই বড়।
রবিবার রাজধানীর ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপল েআওয়ামী ওলামা লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, অনেকেই '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের কথা ভুলে যেতে বলেন। যাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এত বছর পরে ওই বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে পারলে বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরে কেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে পারবে না?
আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায় বলেন, জনগণের বিশ্বাস আছে তাদের জন্য একমাত্র আওয়ামী লীগই কিছু করতে পারবে। তাই হতাশ, ভীত বা পিছপা হওয়ার কিছু নেই। এই দেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চিনত্মা-চেতনা প্রতিষ্ঠিত হবেই।
দৈনিক সমকালের প্রকাশক একে আজাদ জামায়াতে ইসলামীর ধর্মের নামে রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দাড়ি টুপি আমাদের শ্রদ্ধার। সেই শ্রদ্ধার জায়গা নিয়ে জামায়াত রাজনীতি করে।
ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শাহ মোঃ শহিদুলস্নাহ, মাওলানা নুর মোঃ আহাদ আলী, মাওলানা মোঃ ওমর ফারম্নক, মাওলানা আশিকুল ইসলাম মিলন যুক্তিবাদী, এ্যাডভোকেট মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা আসহাব উদ্দীন, মাওলানা আহসান আজমীর প্রমুখ। সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রতিবাদ
শেখ হাসিনার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়ার বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। রবিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, কাঁটা বিছিয়ে দেয়া ইহুদীদের ধর্ম। ইহুদীরাই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর ধর্ম প্রচার ও সকল শুভ কর্মের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিতেন। ইহুদী এক কুটনী বুড়ি কতর্ৃক নবীজীর পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়ার ইতিহাস সর্বজনবিদিত। খালেদা জিয়া সেই ইহুদী কুটনী বুড়ির অনুসরণেই শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের পথে কাঁটা বিছানোর হুমকি দিয়েছেন। নেতারা বলেন, অতীতের মতোই এ দেশের জনগণ খালেদা জিয়া ও তাঁর স্বামীর বিছানো কাঁটা পদদলিত করে বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন_ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, নজরম্নল ইসলাম বাবু এমপি, এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, শাহজাদা মহিউদ্দিন, সাইফুজ্জামান শিখর, রফিকুল ইসলাম কোতয়াল, মারম্নফা আক্তার পপি, জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, অসিতবরণ বিশ্বাস, পনিরম্নজ্জামান তরম্নণ, সালাউদ্দিন মাহমুদ, মেহেদী জামিল, আলমগীর হাসান প্রমুখ।

No comments

Powered by Blogger.