বিশেষ সাক্ষাৎকার : মাহমুদুর রহমান মান্না-সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা অনেক বেশি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুইবারের নির্বাচিত ভিপি, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা, সরকারের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রিপরিষদ, শেয়ারবাজার এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।


পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের টানাপড়েন এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে দেশের খারাপ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
কালের কণ্ঠ : বর্তমান সরকার সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
মাহমুদুর রহমান মান্না : সরকার ভালো করছে, এটা বলার জায়গা তুলনামূলকভাবে কম। সরকারের যখন তিন বছর পূরণ হলো, তখন বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান জরিপ চালিয়েছিল। জরিপে তারা দেখিয়েছিল যে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে। সাফল্যের তুলনায় ব্যর্থতার পরিমাণ অনেক বেশি। এটা ছিল ছয় মাস আগের কথা। এই ছয় মাসে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে সরকার এমন দাবি করলেও কুইক রেন্টাল দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে বৈদেশিক কারেন্সির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে- যেটা সহ্য করা কঠিন।
কালের কণ্ঠ : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছু বলেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না : আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক। দলের কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা নেই। যেটুকু যা হচ্ছে, তা লোকদেখানো। দল যদি ঠিকমতো না চলে, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের ঠিকমতো চলা মুশকিল। এখন দল বা সরকার কোনোটাই ঠিকমতো চলছে না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একটিতেও জেতেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারেনি। সংসদীয় আসনের নির্বাচনে দলের একটা আসন হারিয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিল।
কালের কণ্ঠ : এবার আওয়ামী লীগ নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা নিয়ে সমালোচনা শোনা যায়। এ সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মাহমুদুর রহমান মান্না : মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে আলাদা করে বললে এক-দুজন মন্ত্রী ছাড়া বাকিরা মার্ক দেওয়ার মতো কিছু করতে পারেননি। সরকারের মন্ত্রীরা যে যার মতো করে চলছেন। একই ইস্যুতে একেক মন্ত্রী একেক কথা বলছেন। পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাখছেন। আবার মন্ত্রী এক রকম বলেন, আবার উপদেষ্টা বলেন আরেক রকম। সব কিছু মিলিয়ে সরকারের নাজুক অবস্থা। মন্ত্রীদের কথাবার্তায় প্রমাণ করে সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকট।
কালের কণ্ঠ : সব কিছুতে, সব সমস্যায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপকে কিভাবে দেখেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না : হ্যাঁ, সব কিছুতে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এটা হবে কেন? আবার প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়, সেটাও ঠিক না। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন ব্যক্তি। তিনি কোনো কিছুতে হস্তক্ষেপ করার আগে সেই বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপের আগে সেই বিষয়ে হোমওয়ার্ক করা হয় না। কেউ কি কখনো প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন না যে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করতে হবে, এই বিষয়ে করা উচিত হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে বুয়েটের ভিসির সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি তাঁকে বললেন, আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। এটা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে হবে কেন? ভিসি যখন আলোচনার প্রস্তাব দিলেন তখন আন্দোলনকারীরা ভিসির সঙ্গে কোনো আলোচনা করতে রাজি না হয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করলেন। ভিসি তো প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। আর প্রধানমন্ত্রী কেন প্রথমেই ভিসিকে সময় দিলেন? সব কাজে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করতে হয়, না হলে হয় না- এমন অবস্থা প্রধানমন্ত্রী বাদে অন্য মন্ত্রীদের জন্য অপমানজনক। আবার প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলে সব সমাধান হয়, সেটাও সত্য নয়।
কালের কণ্ঠ : শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
মাহমুদুর রহমান মান্না : শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আর এই ব্যবসাকে কৃত্রিমভাবে এত চাঙ্গা করা হয়েছিল একসময়ে যে এটাকে এখন আর বাড়ানোর জায়গা নেই। পৃথিবীর সব জায়গায় শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন আছে; কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে উঠেছে সেটা কোথাও হয় না। অভিযোগও আছে, শেয়ারবাজারের টাকার একটা বিরাট অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এই টাকা ফিরে এলে শেয়ারবাজারকে একটা স্থিতিশীল জায়গায় নেওয়া যেত; কিন্তু এই টাকা ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। এখন টাকা কম, শেয়ার বেশি। সুতরাং এ মুহূর্তে বাজার আর বেশি উঠবে বলে মনে হয় না। ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার যদি ব্যবস্থা নিত, তাহলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হয়তো আস্থা তৈরি হতো; কিন্তু এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আগেই বলেছেন, তারা এত প্রভাবশালী যে তাদের নাম প্রকাশ করা যাবে না। দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল উইন্ডো ক্যাপিটাল মার্কেট এখন খাবি খাচ্ছে। কখন ডুবে যায় সেই অবস্থা।
কালের কণ্ঠ : পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের একটা দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছে। কিভাবে দেখেন এই ইস্যুটিকে?
মাহমুদুর রহমান মান্না : পদ্মা সেতু এই সরকারের বড় ইস্যু ছিল; কিন্তু এই বিষয়ে সরকার এমন কিছু করতে পারেনি, যাতে সরকারের স্বচ্ছতা প্রমাণ করে। বিশ্বব্যাংকের তরফে সরকারকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এগুলো সম্পর্কে জনগণ কিছুই জানে না। সরকার এই ইস্যুতে কী বলছে, জনগণ শুধু সেটাই জানে। এখন আবার সরকার বিশ্বব্যাংককে দুর্নীতিগ্রস্ত বলছে। সব কিছু মিলিয়ে এগুলো শুধু হতাশাজনকই নয়, অর্বাচীন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার দ্বিধাদ্বন্দ্বে ও চাপের মধ্যে আছে। এর জন্য সরকারকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সমর্থন হারাতে হবে।
বিশ্বব্যাংক ধোয়া তুলসীপাতা এমন নয়, আবার তাদের দিকে আঙুল তোলা যাবে না, এমনও নয়; কিন্তু আমরা তো তাদের কাছে টাকা ধার করতে গেছি। বিশ্বব্যাংক কিছু আইনকানুনের মধ্যে চলে; কিন্তু অভিযোগ যখন তারা করেছে হয়তো একজন-দুজন বা কিছু লোক হয়তো এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত; কিন্তু এখন বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের কারণে কালিমা পড়েছে সারা জাতির ওপর।
বিশ্বব্যাংক এত বড় সিদ্ধান্ত না নিলে কি পারত না, এটা একটা মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। বিশ্বব্যাংক তো টাকা দিতেই চেয়েছিল। প্রথম থেকে যদি আমরা ব্যাপারটা নিয়ে আরো গুরুত্ব দিতাম, তাহলে হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিত না; কিন্তু বিশ্বব্যাংক এত দূর যাওয়ার কারণে সারা জাতি একটা শাস্তি পেয়েছে- এটা দুঃখজনক। এর জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে দায়ী করব। বিশ্বব্যাংককে দায়ী না করলেও তারা আরো নরম থাকতে পারত।
কালের কণ্ঠ : বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বাংলাদেশের পণ্য কেনার ঝুঁকি নেবে না- এ বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না : যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কথায় বিস্মিত হয়েছি। একজন শ্রকিম নেতা খুন হয়েছেন- এ রকম খুন যুক্তরাষ্ট্রেও হচ্ছে। তবে এটা নয় যে আমি কোনো মৃত্যুর পক্ষে। তবে যখন এই খুন নিয়ে মার্কিন সরকারের তরফে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তখন বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত ছিল। এখানেও আমাদের কূটনৈতিক দক্ষতার ঘাটতি নিন্দনীয়। তবে এই একটি মৃত্যুকে নিয়ে যেভাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কথা বলেছেন, সেটাও বিস্ময়কর। তবে সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন এটা বোঝা গিয়েছিল।
কালের কণ্ঠ : এ পরিস্থিতিতে আপনার কি মনে হয় দিন দিন বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে?
মাহমুদুর রহমান মান্না : অবশ্যই বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। সরকারকেও দেখছি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবার সঙ্গে ঝগড়া করে সবার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, একমাত্র ভারতের সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক; কিন্তু ভারতের সঙ্গেও যে খুব সুসম্পর্ক, সেটাও তো মনে হচ্ছে না। তাহলে আমরা কেন তিস্তার পানি পাচ্ছি না, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে জটিলতার অবসান হচ্ছে না কেন, বর্ডারে বাংলাদেশিরা হত্যার শিকার হচ্ছে কেন? সুসম্পর্ক নয়, আমরা একপক্ষীয়ভাবে ভারতকে শুধু দিয়ে যাচ্ছি, আলোচনা করে কিছু নিতে পারছি না- এটা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা।
কালের কণ্ঠ : কিছুদিন আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়েছেন। এত দিনে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি- কিভাবে দেখছেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না : ইলিয়াস আলী ইস্যুতে রাষ্ট্রের কোনো মাথাব্যথা আছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। বিএনপিকেও এ ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। ইলিয়াস আলী বিরোধী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, তাঁকেই যখন নিরাপত্তা দিতে পারছে না সরকার, তখন হাজারটা প্রশ্ন তৈরি হয়ে যায় দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে।
শুধু এটা নয়, সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার ইতিবাচক কিছু দেখাতে পারেনি। বরং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেডরুম পাহারা দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের কাছে মানুষ এমনটা আশা করে না।
কালের কণ্ঠ : পরবর্তী নির্বাচন কোন ব্যবস্থায় হবে- এটা নিয়ে মুখোমুখি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি। আপনার কি মনে হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব? তা ছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কী?
মাহমুদুর রহমান মান্না : এখনো পর্যন্ত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি। বিএনপিকে প্রস্তাব আনতে সরকারের আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি কেন প্রস্তাব আনবে? সংলাপ করলে সংলাপ। সরকার বিএনপিকে সংসদে সংলাপ করার আহ্বান জানাচ্ছে; কিন্তু সংসদ সংলাপের উপযুক্ত জায়গা নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যখন প্রথম গঠন হলো তখন আওয়ামী লীগের দাবি ছিল; কিন্তু আওয়ামী লীগ তো সংসদেই ছিল না। বিএনপি নিজেরা প্রস্তাব এনে নিজেরাই পাস করেছিল। সরকার বিএনপিকে প্রস্তাব উত্থাপনের কথা বলছে এবং বিবেচনার আশ্বাস দিচ্ছে। তাহলে সরকার তো নিজেই প্রস্তাব এনে বিবেচনা করতে পারে।
কালের কণ্ঠ : দেশে বিপরীতমুখী দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক সমাজের ভূমিকা কী হতে পারে?
মাহমুদুর রহমান মান্না : দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নাগরিক সমাজকে আরো বেশি কথা বলা উচিত। যাতে সরকার আরো পরিশীলিত হয়, আচার-আচরণে আরো বেশি গণতান্ত্রিক হয়। সর্বোপরি দেশটাকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে, না হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
কালের কণ্ঠ : দলে আপনার বর্তমান অবস্থান কী? আপনি এখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না : ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের সদস্যপদ নবায়নের মধ্য দিয়ে দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছিলেন; কিন্তু আমি করিনি, তাই আমি দলের প্রাথমিক সদস্যও নই এখন। তবে অন্যরাও করেননি, তাঁরাও প্রাথমিক সদস্য নেই। তবে তাঁরা সবাই দলে আছেন বলে দলের সদস্য; সুতরাং আমিও সদস্য। এ বিষয়গুলো যে জানতে চাইব কিন্তু কার কাছে, সেটাও বুঝতে পারছি না। আর সদস্য সংগ্রহ অভিযান ২০১০ সালে শুরু হলেও বেশির ভাগ জেলায় এটা শুরু হয়নি। নতুন প্রজন্ম বলে আওয়ামী লীগ চিৎকার করে; কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাউকে কি সদস্য বানানো হয়েছে? যে দল বঙ্গবন্ধুর দল, যে দল মুক্তিযুদ্ধের দল, সেই দলের ওপর আস্থা রাখার মতো কিছুই করছে না। দলের গুণগত পরিবর্তন না এলে সেটা সম্ভব নয়।
কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ
মাহমুদুর রহমান মান্না : আপনাকেও ধন্যবাদ।

No comments

Powered by Blogger.