বছর পরিকল্পনা by তৌফিক অপু

দিন সপ্তাহ মাস গড়িয়ে কেটে যায় একটা বছর। নতুন বছরের শুভ সূচনার অপেৰা করে সবাই। শুরম্ন হয় নতুন করে পথচলার প্রস্তুতি। শহুরে জীবনে অভ্যসত্ম নাগরিকরা বছরের শুরম্নতেই পুরো বছরের হিসাব-নিকাশ সেরে ফেলেন। কারণ সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় না ঘটালে এই দু'মর্ূল্যের বাজারে পথচলা মুশকিল।


চাকরিজীবীদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আর যারা শহরে লাইফ ট্রিট করছেন তাদের অধিকাংশই চাকরিজীবী। যার ফলে চাকরির টাকায় সংসার চালানোর ৰেত্রে হিসেব-নিকেশটা একটু বেশিই প্রয়োজন। আগের তুলনায় বর্তমান মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেশি। ২০০৯ সালটা যেমনই কাটুক ২০১০ সালটা যেন তার চেয়ে ভাল কাটে সে নিয়েই উদগ্রীব সচেতন মানুষরা। তবে এ কথা সতি হিসেব-নিকেশ করে পথ চললে ভুল-ভ্রানত্মি কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে কারণেই ইয়ার পস্ন্যান্ডি করার সময় কিছু গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা উচিত। যেমন বছরের শুরম্নতেই সনত্মানদের স্কুল-কলেজে ভর্তির ধুম পড়ে যায়। পূর্বপ্রস্তুতি না থাকাতে অনেক অভিভাবকই ছেলে-মেয়েদের ভর্তি নিয়ে বিপাকে পড়েন। যেমন প্রত্যেক বাবা-মা-ই চান তাদের সনত্মান ভাল স্কুলে লেখাপড়া করম্নক। বর্তমানে শিৰাথর্ীদের তুলনায় ভাল স্কুলের সংখ্যা কম থাকায় ভাল স্কুলে সনত্মানদের ভর্তি নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ শুরম্ন হয়ে যায়। সম মেধা থাকলেও সবারই তো আর সুযোগ হয় না নামী স্কুল-কলেজে ভর্তি হওয়ার। এর ফলে অনেক শিৰাথর্ীই বাদ পড়ে যায়। এই সব শিৰাথর্ী পরবতর্ীতে কোন স্কুলে বা কলেজে ভর্তি হবে তা নিয়ে অনেক অভিভাবকই আগে থেকে কোন চিনত্মা করেন না। ফলে তা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। অথচ পূর্বপরিকল্পনা থাকলে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া ভর্তিসংক্রানত্ম কাজে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আগে থেকে বাজেট করে রাখলে খুব সহজেই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব। শিৰিত মানুষের সঙ্গে বই-এর সম্পর্ক থাকবে না তা তো হয় না। ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রম্নয়ারি, মার্চ মাসে বিভিন্ন ধরনের বইমেলা হয়ে থাকে। ফলে বইপ্রেমিক মানুষ বই কেনার জন্য আলাদা বাজেট রেখে দেন। আপনি যদি মনে করেন আপনার বই কেনার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাহলে এ বছরই বই সংগ্রহের জন্য আলাদা বাজেট প্রস্তুত করম্নন। এরই সঙ্গে গৃহস্থালির পসরা সাজিয়ে বড় বড় যে মেলা হয় সেখান থেকে গৃহস্থালির প্রয়োজনে কি কি কিন্রেবন তারও একটা বাজেট করে রাখা ভাল, কারণ অনেকেরই ধারণা, মেলা থেকে কম দামে ভাল জিনিস কেনা যায়। যেমন ঢাকার বাণিজ্যমেলায় নিত্যনৈমিত্তিক অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। অনেকেই এই মেলা থেকে পণ্যসামগ্রী কিনবেন বলে আগে থেকেই বাজেট করে রাখেন। এ ছাড়া শীতকালে উৎসব আয়োজন বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে। আত্মীয়স্বজনদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া পিঠাপুলি তৈরি করা, দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি। প্রতিবছরই যেহেতু এ ধরনের উৎসবে যোগ দেয়া হয় তাই উৎসব এবং ঘুরে বেড়ানোর বাজেট করে রাখা ভাল। পুরো বছরের শুকনো মৌসুমে অনেকেই গৃহনির্মাণ কাজে হাত দেয়। অনেকে আবার গৃহের ত্রম্নটি মেরামতের কাজ করেন। এর জন্য বাজেটের কোন বিকল্প নেই। বছরের প্রতিটি মাসেই সে আতঙ্ক তাড়া করে তা হচ্ছে অসুস্থতা। চিকিৎসা বাবদ একটা ফান্ড সব সময় প্রস্তুত রাখা উচিত। কারণ বলে কয়ে অসুখ-বিসুক হয় না। চিকিৎসার মতো সারা বছরের আরেকটি ভাবনা হচ্ছে সনত্মানদের টিউশন ফি, বই কেনা এবং পরীৰার ফি। এ বাবদ সারা বছরই অর্থের যোগান রাখতে হয়। ফলে বাজেট ছাড়া এ ব্যয়ভার সামালানো মুশকিল। প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব স্পেশাল কিছু দিন তারিখ থাকে। বছরের সেই দিন তারিখগুলো আলাদা করে সেসব দিনে যদি খরচাপাতির ব্যাপার থাকলে তা আগেই হিসেব করে নেয়া ভাল। এ ধরনের বাজেট মূলত দৈনন্দিন খরচাপাতি অর্থাৎ মাস খরচের বাজেটের বাইরের বাজেট। অর্থাৎ মাস চলতে নিত্যনৈমিত্তিক যে কেনাকাটা বা খরচাপাতি তা বছরের বাজেট প্রাপ্তির অনত্মভর্ুক্ত হবে না। এগুলো মাসিক বাজেটের মধ্যে অনত্মভর্ুক্ত করতে হবে। এ ছাড়াও ঋতুভিত্তিক জামা-কাপড় কেনাকাটা এবং গহনা সামগ্রীর খরচের হিসেব ইয়ার পস্নানিং রাখা উচিত। যদিও মাসিক বাজেট ইয়ার বাজেটের একটা অংশ। মাসিক এই বাজেটগুলোর মোট পরিমাণ ইয়ার বাজেটের অনত্মভর্ুক্ত করে সারা বছরের বাজেট প্রস্তুত করতে পারেন। আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেট প্রস্তুতের ফলে পারি দিতে কোন বেগ পোহাতে হবে না। সেই সঙ্গে সঞ্চয়ের একটা খাত রাখতে হবে। সকল খরচ বাঁচিয়ে যেভাবেই হোক সঞ্চয় বৃদ্ধি করা উচিত, যা যে কোন অনাকাঙ্ৰিত ঘটনা সামাল দেয়ার কাজে আসবে। বার্ষিক বাজেটে ব্যবসাবাণিজ্য বিনিয়োগ বিদেশ যাওয়া ইত্যাদি বড় ধরনের খরচ আসবে না। কারণ এগুলো ঘুরে ঘুরে প্রতিবছর আসে না। কারণ উপার্জিত আয় দিয়ে এ ধরনের খরচ বহন সম্ভব নয় বিধায় তা বার্ষিক বাজেটে অনত্মভর্ুক্ত হয় না। বার্ষিক বাজেট প্রস্তুত করার ৰেত্রে অবশ্যই খরচের খাতগুলো চিহ্নিত করার পর তা গুরম্নত্বের দিক বিবেচনা করে তালিকা করতে হবে। সেই তালিকা অনুযায়ী খরচ নির্ধারণ করে মোট খরচের বাজেট প্রস্তুত করতে হবে, তবে তা অবশ্যই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। মোট খরচের নিট বাজেট বা বাজেট উদ্ধৃত বেরম্নবে যা সঞ্চয়ের জন্য রেখে দেয়া শ্রেয়। যদিও হুবহু বাজেট অনুযায়ী চলা অনেক সময় মুশকিল হয়ে পড়ে তথাপি বাজেটের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ খরচের স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। ফলে অতিরিক্ত বা বাড়তি খরচ হ্রাস পায়।

No comments

Powered by Blogger.