পবিত্র কোরআনের আলো-আল্লাহর কাছে ঈসা (আ.)-এর উদাহরণ হচ্ছে আদম (আ.)-এর মতো

৫৬. ফাআম্মাল্লাযীনা কাফারূ ফাউআ'য্যিবুহুম আ'যা-বান শাদীদান ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আ-খিরাতি; ওয়ামা- লাহুম্ মিন না-সিরীন। ৫৭. ওয়াআম্মাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া আ'মিলুস্ সা-লিহাতি ফাইউওয়াফ্ফীহিম উজূরাহুম; ওয়াল্লাহু লা-ইউহিব্বুজ্ জ্বালিমীন।


৫৮. যা-লিকা নাতলূহু আ'লাইকা মিনাল আ-ইয়া-তি ওয়ায্ যিকরিল হাকীম।
৫৯. ইন্না মাছালা ঈ'সা- ই'নদাল্লাহি কামাছালি আ-দামা; খালাক্বাহূ মিন তুরা-বিন ছুম্মা ক্বা-লা লাহূ কুন ফাইয়াকূন। [সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৫৬-৫৯]

অনুবাদ
৫৬. যারা সত্য ও ন্যায়কে অস্বীকার করেছে, আমি তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোরতম শাস্তি দেব; তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।
৫৭. অন্যদিকে যারা আল্লাহ তথা সত্য ও ন্যায়ের ওপর ইমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের পাওনা পুরোপুরি আদায় করে দেবেন; আর আল্লাহ তায়ালা জালেমদের কখনো ভালোবাসেন না।
৫৮. এই কিতাব যা আমি পড়ে শোনাচ্ছি, তা হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন এবং জ্ঞানগর্ভ উপদেশ।
৫৯. আল্লাহ তায়ালার কাছে ঈসার উদাহরণ হচ্ছে আদমের মতো। আদমকে আল্লাহ তায়ালা মাটি থেকে সৃষ্টি করলেন, অতঃপর বললেন, 'হয়ে যাও' সুতরাং হয়ে গেল।

ব্যাখ্যা
মারিয়াম ইবনে ঈসা মাসিহের (আ.) কাহিনী বর্ণনা করে এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞাতব্য উপদেশ বলা হচ্ছে। ৫৬ ও ৫৭ নম্বর আয়াতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বা সত্য ও ন্যায়কে অস্বীকার করেছে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে যারা ইমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে অফুরন্ত নিয়ামত রয়েছে। ৫৮ নম্বর আয়াতেও অনুরূপভাবে বলা হয়েছে, এই যে কোরআন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে_এই কিতাবের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর নিদর্শন এবং জ্ঞানগর্ভ উপদেশ। কোরআন মজিদ মূলত জ্ঞানগর্ভ উপদেশ গ্রন্থ; মানুষের আ@ি@@@ক ও মানবিক উন্নতির পথনির্দেশ। কোরআনে ইতিহাস আছে, সমাজনীতি আছে, বিজ্ঞান আছে, কিন্তু সর্বোপরি কোরআন উপদেশ গ্রন্থ এবং বিশেষ করে আ@ি@@@ক ও মানবিক উন্নতির উপদেশ গ্রন্থ।
৫৯ নম্বর আয়াতটির শানেনুজুল এ রকম : খ্রিস্টানরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে এ ব্যাপারে বিতর্ক করত যে ঈসা (আ.) আল্লাহর বান্দা নন বরং আল্লাহর পুত্র। তারা যুক্তি দেখাত, যদি তিনি আল্লাহর পুত্র না হয়ে থাকেন, তবে আপনিই বলুন তিনি কার পুত্র? দুনিয়াতে কি পিতা ব্যতীত কারো জন্ম হতে পারে? খ্রিস্টানদের এসব প্রশ্নের উত্তরে এ আয়াতটি নাজিল হয়। এ আয়াতে ঈসা (আ.)-এর জন্মকে আদম (আ.)-এর জন্মের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আদম (আ.)-এর জন্ম দৃশ্যত পিতা-মাতা ছাড়া। আদম (আ.)-এর জন্ম অবশ্যই প্রকৃতির নিয়মেই হয়েছে, যেভাবে প্রকৃতির নিয়মে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, তা হয়ে যেতে বলেন এবং তা হয়ে যায়। তবে পিতা-মাতা ছাড়াই আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছিলেন এবং ঈসা (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন পিতা ছাড়া। আল্লাহ তায়ালা কারো পিতা বা মাতা কোনোটাই নন। আল্লাহ এর ঊধর্ে্ব এবং পবিত্র।

গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments

Powered by Blogger.