রমজানে বিএনপির জেলা কমিটি গঠন শেষ করার তোড়জোড় by মোশাররফ বাবলু

সারা দেশে বিএনপির ৭৫ সাংগঠনিক জেলা কমিটির কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ জন্য রমজান মাসকে সাংগঠনিক মাস হিসেবে বেছে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি। ঈদের পর কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কৌশল।


নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে রমজান মাসে রাজনীতিক, পেশাজীবী, কূটনীতিক, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, বুদ্ধিজীবীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ইফতার পার্টির আয়োজন করছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও প্রথম রোজায় তিনি এতিম, আলেম ও ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে লেডিস ক্লাবে ইফতার করেন। আজ সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্মানে সংসদ ভবনের এলডি হলরুমে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছেন তিনি।
বিএনপির একটাই লক্ষ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে ঈদের পর আন্দোলন জোরদার করা। এ লক্ষ্যে ঈদের সময়ও দলের সিনিয়র নেতাসহ সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও সুধী সমাজের লোকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বলেছেন বলে দলের একটি সূত্রে জানা গেছে।
সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েই ৭৫ সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠন সম্পন্ন করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন দলীয় চেয়ারপারসন। গত ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রমজান মাসকে সাংগঠনিক মাস হিসেবে বেছে নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে জানান, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করছে। এই দাবি শুধু বিএনপির নয়, সারা দেশবাসীর। তিনি বলেন, আগের চেয়ে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা অনেক শক্তিশালী। এরপরও এই দাবিকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক অবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রমজান মাসকে দলের সাংগঠনিক মাস হিসেবে ধরা হয়েছে। সারা দেশের জেলা কমিটি গঠন সম্পন্ন করা হবে। সরকার দাবি মেনে না নিলে ঈদের পর কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামীতে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী হবে। ঈদের পর যে আন্দোলন হবে তা সফল করার লক্ষ্য নিয়েই দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সাজানো হচ্ছে। সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র দেশবাসী মোকাবিলা করবে। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। ঈদের পর পর্যায়ক্রমে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।'
দলের একটি সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের বিএনপির ৭৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ঢাকা জেলা, মানিকগঞ্জ জেলা, ময়মনসিংহ (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং শেরপুর জেলা কমিটি গঠন বাকি রয়েছে। যেসব জেলা কমিটি এখনো গঠন করা হয়নি তা দ্রুত গঠন করতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।
এদিকে রমজান মাসে ইফতার পার্টির মধ্য দিয়েও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার হবে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। ২৫ জুলাই পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের সম্মানে, ২৬ জুলাই বিকল্পধারা, ২৮ জুলাই এনপিপি এবং ২৯ জুলাই এলডিপির ইফতার পার্টিতে যোগ দেবেন খালেদা জিয়া। ৩০ জুলাই ড্যাবের উদ্যোগে সংসদ ভবনের এলডি হল রুমে এবং ৩১ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রূপসী বাংলা হোটেলে ইফতার পার্টিতে যোগে দেবেন তিনি। ১ আগস্ট রূপসী বাংলা হোটেলে কূটনীতিকদের সম্মানে, নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে ২ আগস্ট ইফতার করবেন তিনি। ৪ আগস্ট ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এবং ৫ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের আয়োজনে ইফতার পার্টিতে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া।

No comments

Powered by Blogger.