ভাঙার পর সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেই

চলাচলের উপযোগী সড়কটি চার বছর আগে সংস্কারের উদ্যোগের নামে ভেঙে ফেলা হয়। পরে আর সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগ, ঠিকাদার ও মন্ত্রণালয়ের রশি টানাটানিতে ভাঙাচোরা পড়ে আছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের সড়কটি।


কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহীদুল আলম অভিযোগ করেন, সড়কটি আগে চলাচলের উপযোগী ছিল। চার বছর আগে সংস্কারের নামে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। দফায় দফায় অনুরোধ করলেও এটি সংস্কারে উদ্যোগ নিচ্ছে না গণপূর্ত।
তবে গণপূর্ত বিভাগ বরিশাল মেডিকেল কলেজ উপবিভাগের প্রকৌশলী বরুণ কুমার বিশ্বাস ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে জানান, বরাদ্দ আসার আগেই ঠিকাদার কাজ শুরু করেছিলেন। পরে বরাদ্দ না দেওয়ায় ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। তারপর আর অর্থ ছাড় না হওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মেডিকেল কলেজের ওই সড়কটি মেরামতের জন্য ৪৯ লাখ টাকার সম্ভাব্য খরচের হিসাব করার পরপরই ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন কাজ শুরু করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় পরে অর্থ বরাদ্দ না করায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়েক দফা প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও অনুমোদন হয়নি। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কলেজ পরিদর্শনে এসে সড়কটি দ্রুত নির্মাণের নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০০৮ সালে কলেজের অধ্যক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগের মৌখিক নির্দেশে তিনি কাজ শুরু করেন। কিন্তু তিন-চার বছরেও কোনো বরাদ্দ না দেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে কারও সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর নেই। ইতিমধ্যে ওই সড়কে তাঁর ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। গণপূর্ত বরিশাল মেডিকেল কলেজ উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বরুণ কুমার বিশ্বাস জানান, বর্তমানে সড়কটির কাজ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করার জন্য ৬২ লাখ টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.