পাঠদানের নতুন রীতি-সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সহায়তা

মাধ্যমিক ও সমপর্যায়ের মাদ্রাসা শিক্ষায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগ বাড়বে এবং তারা পাঠ্য বিষয় সহজে আত্মস্থ করতে পারবে। এমনকি ব্যাক-বেঞ্চার হিসেবে পরিচিত শিক্ষার্থীদের জন্যও এ পদ্ধতি ফলদায়ক হবে বলে আশা করা যায়। এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ।


বলা হয়ে থাকে, যার নিয়ন্ত্রণে এ সুবিধা অনেক কিছুই তার বশে চলে আসে। আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পেঁৗছে দেওয়া গেলে তারা নিজেদের জ্ঞানভাণ্ডার দ্রুত সমৃদ্ধ করতে পারবে এবং তা কাজে লাগবে দেশ, সমাজ ও পরিবারের কল্যাণে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল পাঠদান পদ্ধতি নতুন। এর সফল রূপায়ণের জন্য একদিকে দরকার বিশদ পরিকল্পনা এবং একই সঙ্গে বিপুল বিনিয়োগ। বিনিয়োগ হতে হবে একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের পেছনে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেমন প্রযুক্তির নানা উপকরণ পেঁৗছানোর ব্যবস্থা করতে হবে, তেমনি চাই বিদ্যুৎ সংযোগ। সব প্রতিষ্ঠানে এক সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা করা সহজ নয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বৈষম্য হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। শহরে বিদ্যুৎ সুবিধা তুলনামূলক বেশি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করাও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য তুলনামূলক সহজ হবে। এ বাস্তবতায় গ্রামের বিশেষ করে দুর্গম এলাকাগুলোর স্কুল ও মাদ্রাসা যেন পিছিয়ে না থাকে, তার প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ মনোযোগ থাকা চাই। শুক্রবার সমকালে 'বদলে যাচ্ছে মুখস্থবিদ্যার প্রচলিত পাঠদান রীতি' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে :'বর্তমানে দেশের ১৪টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রশিক্ষণ চলছে। এতে কম্পিউটারে মাল্টিমিডিয়া ফাইল অপারেটিং এবং প্রজেক্টরের মাধ্যমে তা পর্দায় প্রদর্শনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাত্র এক-দু'সপ্তাহের প্রশিক্ষণেই শিক্ষকরা বিষয়টি বুঝতে পারছেন। শিক্ষকদের ডিজিটাল পাঠক্রম তৈরির বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।' শিক্ষকরা অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন পাঠদান পদ্ধতি বুঝতে পারছেন_ এটা উৎসাহব্যঞ্জক। এ প্রশিক্ষণ যাতে সুচারূপে সম্পন্ন হয় সেজন্য কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, বছর দুয়েকের মধ্যেই সারাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা সম্ভব হবে। আমরা এ উদ্যোগের সাফল্য কামনা করি। তবে এটাও মনে রাখা চাই যে, প্রযুক্তিগতভাবে অনেক এগিয়ে থাকা দেশগুলোও কিন্তু সুশিক্ষিত মানবসম্পদের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের ভাণ্ডার শক্তিশালী করার জন্য প্রধান ভূমিকা রাখেন শিক্ষকরা। প্রযুক্তি হচ্ছে তাদের সহায়ক। ছাত্রছাত্রীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করে তোলার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে চাই শিক্ষাজীবনে মেধা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা তরুণ-তরুণীদের। তারা শিক্ষার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হবে, এটা প্রত্যাশিত। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, শিক্ষকতা পেশায় তাদের আকৃষ্ট করার জন্য ভালো বেতন এবং অন্য সুবিধা প্রদান অপরিহার্য। দেশে শিক্ষার বিস্তার ঘটছে এবং এর পেছনে সরকারসহ বিদ্যোৎসাহী সমাজের প্রভূত অবদান রয়েছে। এখন যুগের দাবি হচ্ছে শিক্ষার মান বাড়ানো। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এর সহায়ক। এ সুবিধা দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকদের হাতে পড়লে তা থেকে আমরা অনেক বেশি সুফল পাব, তাতে সন্দেহ নেই।
 

No comments

Powered by Blogger.