কৃষকদের সঙ্গে এই পরিহাসের অর্থ কী?-কার নলকূপ কে বরাদ্দ পায়

সরকারি দল মানেই যে সবকিছু নিজেদের! ‘বগুড়া ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন কর্মসূচি’র ক্ষেত্রে আর আলাদা কিছু হওয়ার সুযোগ কোথায়। যে নলকূপগুলোর মালিক হওয়ার কথা কৃষকদের, তা হয়ে গেছে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের।


এখন ধান দিয়ে নলকূপের পানির দাম শোধ করতে হচ্ছে কৃষকদের। সরকারি দলের নেতা-কর্মী বলে কথা!
বছর দুই আগে বগুড়ায় সেচ উন্নয়নের জন্য যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল কৃষকের সেচসুবিধা নিশ্চিত করা। কৃষকদের অংশীদারির ভিত্তিতে তা স্থাপন করার কথা। কিন্তু গত অর্থবছরে নলকূপ স্থাপন করার সময় তা বরাদ্দ দেওয়া হয় ক্ষমতাসীন দল ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামে। কারণ, স্থানীয় সাংসদ নলকূপগুলো বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন যাঁদের নামে তাঁরা সবাই তাঁর দল অর্থাৎ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আর স্থানীয় সাংসদ যখন ‘সুপারিশ’ করেছেন, তখন এর বাইরে যাবে এমন ‘সাহস’ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের লোকজনের হবে কোথা থেকে।
যে ৪৫টি নলকূপ বসানো হয়েছে তার ৩৩টিই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বগুড়া-১ আসনের সাংসদ আবদুল মান্নানের সুপারিশে। এখন স্থানীয় সাংসদ বা বগুড়া বিএডিসির (সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী একই সুরে কথা বলছেন। ‘দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুই করা হয়নি’ বা ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকেই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি’ এই হচ্ছে তাঁদের বক্তব্য। অস্বীকার করলেই তো সব শেষ, সরকারি দলের লোকজন যখন সুবিধাভোগী, তখন অনিয়ম হলেও যে ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই!
৪৫টি নলকূপ বসাতে সরকারের খরচ হয়েছে সাড়ে নয় কোটি টাকার ওপর। কৃষককে সেচসুবিধা দেওয়ার নাম করে এই যে কর্মসূচি নেওয়া হলো, তার সুফল পাচ্ছে এখন সরকারি দলের লোকজন। কৃষকের ধান চলে যাচ্ছে তাদের গোলায়। কৃষকেরা বলছেন, সেচখরচের নামে কৌশলে কৃষকদের কষ্টে ফলানো ধান ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তুলে নিচ্ছে নিজেদের গোলায়। সেচ ‘উন্নয়ন’ কর্মসূচি পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের ভাগ্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে।
কৃষকদের সঙ্গে এই পরিহাসের অর্থ কী?

No comments

Powered by Blogger.