গ্রামীণফোনের পুনর্গঠন ॥ ৪৮ কর্মী ছাঁটাই-নিয়ম মেনেই হয়েছে ॥ কর্তৃপক্ষ

ছাঁটাই নয়, পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত কর্মী প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ পড়ছেন এবং নিয়মানুযায়ী তাদের প্রাপ্য সব সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ। দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের একদল কর্মী কর্মচ্যুতির কথা জেনে রবিবার সকালে বসুন্ধরায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় জিপি হাউসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।


বিক্ষোভকারীরা অন্য কর্মীদের কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয় বলেও জানিয়েছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ। দুপুরে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কর্তৃপক্ষ।
আলোচনার পর গ্রামীণফোনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির সাড়ে ৩টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনা চলছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
গ্রামীণফোন কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুসরণ করেই ৪৮ কর্মচারীকে কর্মচ্যুতির নোটিস দেয়া হয়।
‘গ্রামীণফোনে কর্মী ছাঁটাই আইন অনুযায়ী হয় এবং এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে,’ বলেন মনিরুল কবির।
কর্মচ্যুতির বিষয়টি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই রিফর্ম প্রসেস করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে যাঁরা পারেন না, তাদের আইন অনুযায়ী ছাঁটাই করা হয়।’
যে ৪৮ কর্মচারী কর্মচ্যুত হয়েছেন, তাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি জানিয়ে মনিরুল কবির বলেন, ‘তাদের আইন অনুযায়ী নোটিস দেয়া হয় এবং এরপর থেকে তাঁরা ছুটিতে ছিলেন। রবিবার সকালে তাঁরা অফিসে প্রবেশ করতে না পেরে অন্য কর্মচারীদের প্রবেশে বাধা দেয়।’
সকালে কার্যালয়ের মূল ফটকে বিক্ষোভের সময় কিছু বহিরাগত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
বাধার মুখে সকালের শিফটের যাঁরা কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি, তাঁদের বাসায় বসে অনলাইনে কাজ করতে বলা হয় বলে জানান গ্রামীণফোন কর্মকর্তা।
আগামীতে আরও কর্মী ছাঁটাই হবে কি না, জানতে চাইলে মনিরুল কবির বলেন, ‘গ্রামীণফোন টার্গেট নিয়ে ছাঁটাই করে না। টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি একটি ডায়নামিক ইন্ডাস্ট্রি, সেখানে সব সময় প্রযুক্তির পরিবর্তন হচ্ছে। তাই এর জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং প্রশিক্ষণের পর যাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন না, তাদের চলে যেতে হয়।’
অতিরিক্ত জনবল বাদ দেয়ার পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির জন্য নতুন কর্মী নিয়োগও দেয়া হয় বলে জানান তিনি।
গ্রামীণফোনের উচ্চপদস্থরা ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় আসেন না বলে যে অভিযোগ উঠেছে জবাবে মনিরুল কবির বলেন, ‘উচ্চপদস্থ থেকে সাধারণ কর্মী সবাইকে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, গত কয়েক বছরের হিসাব করলে দেখা যাবে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তাও এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’
গ্রামীণফোন গত এক বছরে জনবল ১৫০ জন কমিয়েছে বলে জানান তিনি।
গ্রামীণফোনে কোন এমপ্লয়িজ এ্যাসোসিয়েশনের রয়েছে কি না জানতে চাইলে মনিরুল কবির বলেন, ‘এই বিষয়ে এ্যাসোসিয়েশনের একটি ই-মেইল আমরা আজ সকালে পেয়েছি। টেলিনরের আইন অনুযায়ী, এ্যাসোসিয়েশন করার সুযোগ রয়েছে। তবে তা হতে হবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে।’
কর্মচ্যুত কর্মচারীরা গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ এ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে জিপি হাউসের সামনে অবস্থান নেন।
নিজেকে এমপ্লয়িজ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে শফিকুর রহমান মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পাঁচটি দাবি রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ অনৈতিকভাবে ছাঁটাই করছে। কর্মচ্যুতির বিষয়টিও জানানো হয়েছে মৌখিকভাবে।
এটি বন্ধসহ তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছেÑ যৌক্তিকহারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করা, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া, ৫ শতাংশ মুনাফা লভ্যাংশসহ বকেয়া প্রদান, কোম্পানির সব বেআইনী কার্যক্রমের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার।

No comments

Powered by Blogger.