বাসচাপায় ছাত্রের মৃত্যু বিক্ষোভ যান ভাংচুর আগুন-চার ঘণ্টা পর মিরপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

রাজধানীর মিরপুরে বাসচাপায় এক কলেজ ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের প্রতিটি কলেজের কমপক্ষে ৬০০ ছাত্র রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। উত্তেজিত ছাত্ররা প্রায় ৪ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকালে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি যানবাহন ভাংচুর করা হয় ।


উত্তেজিত ছাত্ররা অন্তত ৫টি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর পুরো এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোন ধরনের অরাজক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকল্প পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-জ-নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাস মিরপুর-১২ নম্বরের দিকে যাচ্ছিল। ওই বাসের যাত্রী ছিল ঢাকা কমার্স কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাওন হোসেন মুন (২৩)। তার পিতার নাম ইকবাল আহমেদ। তিনি ব্যবসায়ী। শাওনের মামত ভাই প্রিন্স জানায়, শাওনদের বাসা মিরপুর ১০ নম্বর বেনারসী পল্লীতে। শাওন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তিনি বিহারী।
শাওন ইনডোর স্টেডিয়াম এলাকায় বাস থেকে নামছিল। বাসটি পুরোপুরি না থামায় বাস থেকে নামতে গিয়ে মনু বাসের ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। বাস চালক কোন কিছু না দেখেই বাসটি দ্রুত গতিতে চালিয়ে দেয়। এতে মনু বাস চাপায় মারাত্মক আহত হয়। বাসটিকে স্থানীয়রা ধাওয়া করে ধরে ফেলে। এ সময় বাসের চালক ও হেলপাররা পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের একটি দল বাসটিতে ভাংচুর শুরু করে। এ সময় অন্যরা মনুকে প্রথমে মিরপুর ১০ নম্বর আল হেলাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে মিরপুর আজমল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মনুর মৃত্যু হয়।
মনুর মৃত্যুর খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায় পুরো এলাকায়। বিশেষ করে মনুর বাসা মিরপুর বেনারসী পল্লীতে হওয়ায় সেখানে মনু মারা যাওয়ার খবর যায়। খবর চলে যায় কর্মাস কলেজসহ আশপাশের প্রতিটি কলেজে। বাসচাপায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এমন খবরে আশপাশের অন্তত ৫টি কলেজের ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসে।
উত্তেজিত ছাত্ররা রাস্তায় নেমে রাস্তা অবরোধ করে দেয়। বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। আর তাদের সঙ্গে যোগ দেন এলাকাবাসী। তারা লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নামে। রাস্তায় নেমেই যানবাহনে ভাংচুর শুরু করে। পুরো এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শত শত লোক রাস্তায় নেমে আসে। এমন দৃশ্য দেখে দোকানিরা দোকানপাট ফেলে চলে যায়। যে যার যার মতো নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে থাকেন।
মুহূর্তেই পুরো এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা যানবাহন দেখামাত্র ভাংচুরে উদ্যত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মিরপুর ১০, ১১, ১২, ফায়ার সার্ভিস এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, মিরপুর বেনারসী পল্লী, মিরপুর-১ নম্বর, মাজার রোডসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহনে বেপরোয়া ভাংচুর চালায়।
বিক্ষোভকারীরা অন্তত ২০ থেকে ২৫টি ভাংচুর করে। চিড়িয়াখানা রোডসহ বেনারসী পল্লী ও তার আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। পুরো এলাকার জীবনযাত্রা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যানবাহনের চলাচল। এ সময় উত্তেজিত ছাত্র ও জনতা অন্তত ৫টি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কিশোর সরকার জনকণ্ঠকে জানান, বিকেল সাড়ে ৪টায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত।
তারপরও যেকোন ধরনের অরাজক পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক। যানবাহন চলছে। কোন অসুবিধা নেই। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক। ঘটনার বিষয়ে মামলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দোষী বাস চালকসহ হেলপারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

No comments

Powered by Blogger.