মহাসড়ক দখল করে ট্রাকস্ট্যান্ড, যানজট

ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়ক দখল করে ঠাকুরগাঁও শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ট্রাকস্ট্যান্ড। সেখানে যত্রতত্রভাবে ট্রাক রাখায় সড়ক ছোট হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শহরবাসীসহ দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দখল করে ট্রাক রাখা হয়েছে। ট্রাকের ইঞ্জিন মহাসড়কের মূল অংশে না থাকলেও বডি গিয়ে পড়ছে রাস্তার ওপর। ফলে ওই স্থানগুলোতে মহাসড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে যানজটের।
এলাকাবাসী জানান, ট্রাকস্ট্যান্ডের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ের ট্রাকচালকেরা পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার ট্রাক বন্দোবস্তকারী সমিতির কার্যালয়ের সামনে ট্রাক গ্যারেজ নির্মাণ শুরু করেন। এর পর থেকে জায়গাটি অলিখিত ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিণত হয়। মহাসড়কের উভয় পাশে স্কুল-কলেজ, মসজিদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কাঁচাবাজার, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিক অবস্থিত। রাস্তার ওপর এলোমেলোভাবে ট্রাক রাখায় পথচারী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। অবৈধ এই স্ট্যান্ডে ট্রাক প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।
ট্রাকচালক মো. রহিম বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি গাড়ি মেরামতের গ্যারেজ। এসব গ্যারেজে গাড়ি রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপরেই চালকেরা ট্রাক রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আকবর হোসেন বলেন, তাঁর সময়ে যত্রতত্র ট্রাক রাখা বন্ধ করতে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সে উদ্যোগ আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। ঠাকুরগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) বেলায়েত হোসেন বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ডের জন্য সম্ভাব্য জায়গা দেখতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা মোটর মালিক সমিতির নেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এ ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেননি।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র এস এম এ মঈন বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও মোটর মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে যৌথ কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি ট্রাকস্ট্যান্ডের জন্য উপযুক্ত জায়গার খোঁজ করছে। জায়গা পেলেই দ্রুত ট্রাকের জন্য আলাদা স্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

No comments

Powered by Blogger.