বিআরটিএ-এর দুষ্ট চক্র ভেঙে দিতে হবে


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভূমিকার সমালোচনা করলেন খোদ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার তেজগাঁও (এলেনবাড়ি) বিআরটিএয়ের সদর দপ্তরে পেশাজীবী গাড়িচালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালায় তিনি এ সমালোচনা করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘বিআরটিএয়ের ইমেজ ভালো নয়। তাদেরকে দুর্নাম থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, এ প্রতিষ্ঠানে একেকজন ১০ থেকে ১৫ বছর চাকরি করে


দুষ্ট চক্র গড়ে তোলেন। এসব দুষ্ট চক্র ভেঙে দিতে হবে। মন্ত্রী নির্দিষ্ট সময় পর পর তাঁদের বদলির কথা বলেন। এ ক্ষেত্রে কারও তদবির না শোনার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি কারও মুখের দিকে নয়, জনগণের মুখের দিকে তাকিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ঢাকার রাস্তায় অনেক আনফিট গাড়ি চলে। এমন লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি গ্রামেও চলে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘চালক ফিট হলেই হবে না। গাড়িকেও ফিট হতে হবে।’
টাকার বিনিময়ে গাড়ির ফিটনেস সনদপত্রের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে দেখেছি, মিরপুরে টাকা-পয়সার বিনিময়ে মধ্যস্বত্বভোগী দালালরা ভুয়া সার্টিফিকেট দেন। এটি বন্ধ করতে হবে।’
মানুষ আসলে কাজ দেখতে চায় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মানুষ আমাদের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয় না। বেশি আশ্বাস, অতি কথনের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আজকে জনগণের একটি বড় অংশ মনে করছে না, এক বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্ভোগ কমেছে, দুর্ঘটনা কমেছে, যানজট কমেছে—মুখে বললে হবে না, এসব দৃশ্যমান করতে হবে। আমি আশ্বাস দিতে চাই না, কাজ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই।’
চালকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, গাড়ি ঠিক আছে কি না—দেখে চালানো শুরু করবেন। ঘুম-চোখে গাড়ি না চালানোরও অনুরোধ জানান তিনি।

No comments

Powered by Blogger.