নীলফামারী-ডোমার-আজ মানববন্ধন ও অবরোধ


নীলফামারী-ডোমার ২২ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে নীলফামারী জেলাবাসী। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি পালনে এই এলাকায় মাইকে প্রচার ও প্রচারপত্র বিতরণ ছাড়া পথসভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নীলফামারী থেকে ডোমার পর্যন্ত ২২


কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরা। আধা ঘণ্টার রাস্তা বাসে বা মোটরসাইকেলে পাড়ি দিতে এখন সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। ভাঙা রাস্তার কারণে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস চলছে সীমিতসংখ্যক।
মাইক্রোবাসচালক জাভেদ আলী বলেন, এ পথে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়। এ কারণে বেশি ভাড়া নিতে হয়।
বাসযাত্রী রুহুল আমিন বলেন, নীলফামারী থেকে ডোমারে গিয়ে অফিস করতে সকাল সাতটায় বের হয়েও সময়মতো পৌঁছা যায় না। রাস্তার যে অবস্থা, তাতে আরও ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরে গেলেও এত সময় লাগবে না।
এলাকার লোকজন জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কটির অবস্থা এমন হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ডোমারের আইয়ুব আলী (৫০) বলেন, আগে একটু-আধটু রাস্তায় প্রলেপ দিতে দেখা গেলেও পাঁচ বছর ধরে ওই সড়কে এক কোদাল মাটিও দেওয়া হয়নি।
জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো গাড়ির মালিক ওই পথে গাড়ি চালাতে চান না। প্রায় প্রতিদিন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয় অথবা গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আমরা মালিকদের অনুরোধ করে যান চলাচল অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু আর পারা যাচ্ছে না। শিগগিরই রাস্তাটি মেরামত না হলে বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে।’
সংস্কারকাজ বন্ধ: প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আরএনআই এমপি-২ নীলফামারী প্রকল্পের আওতায় ওই সড়কের উন্নয়নকাজের দরপত্র-প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজই শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ সময়ের মধ্যে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই প্রকল্পে ঋণ-সহায়তা দিচ্ছে এডিবি। ঋণ দেওয়ার সময় শেষ হবে ৩০ জুন ২০১২। কিন্তু এত কম সময়ের মধ্যে ২২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এক বছর ঋণের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। নইলে তারা এ কাজ করতে পারবে না।
এ অবস্থায় জেলাবাসীর পক্ষে গত শনিবার নীলফামারী চেম্বার ভবনে জরুরি সভা হয়। সভায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। সড়কটি সংস্কারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মাহবুবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় এডিবির ঋণ-সহায়তায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া ৩১ কিলোমিটার ও নীলফামারী-ডোমার হয়ে পঞ্চগড়ের বোদা পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটারসহ মোট ৮২ কিলোমিটার সড়কের কাজ ১৯৭ কোটি টাকায় নির্মাণের জন্য ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে তিন বছরের সময় নির্ধারণ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দিনাজপুর ও পঞ্চগড় অংশের কাজ সময়মতো শেষ হলেও নীলফামারী-ডোমার ২২ কিলোমিটার সড়কের জায়গা সময়মতো বুঝে দিতে না পারায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তাই ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত এডিবির ঋণের সময় বাড়ানোর দাবি করা হচ্ছে।
প্রকল্পের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন বছর আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হয়েছে।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, ‘দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের অংশের কাজ শেষ হলেও নীলফামারীর কাজটি শুরু না হতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

No comments

Powered by Blogger.