নদীপথে ডাকাতি-নৌ-নিরাপত্তা দূর অস্ত!

নাব্যতা সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবহন অব্যবস্থাপনায় নাকাল নদীপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির অঘটন গোদের উপর বিষফোড়া হিসেবেই বিবেচিত হবে। বস্তুত নদীপথ গোটা বিশ্বে প্রকৃতির অমূল্য আশীর্বাদ বিবেচিত হলেও আমাদের দেশে তার কতটা অবমূল্যায়ন হয়ে থাকে, বারবার আন্দোলন সত্ত্বেও ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি তার একটি উদাহরণ। আমাদের মনে আছে, ২০০৯ সালে নৌযান শ্রমিকরা যেসব দাবিতে ধর্মঘটের ডাক


দিয়েছিলেন, সেখানে নৌ-ডাকাতি বন্ধের বিষয়টিও ছিল। কিন্তু বন্ধ হয়নি। শনিবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও হাওরাঞ্চলে ডাকাতের আক্রমণে সর্বস্ব হারাচ্ছেন লঞ্চ ও ট্রলারযাত্রী, নৌ-শ্রমিক। ঢাকার উপকণ্ঠে প্রবাহিত এবং বালু পরিবহনে ব্যস্ত বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও মেঘনায় ডাকাতি অপেক্ষাকৃত কম হলেও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য চরমে। আবার দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ অঞ্চলে রয়েছে জলদস্যুদের উপদ্রব। আমাদের প্রশ্ন, নৌপথ কি সমাজবিরোধীদের অভয়ারণ্য? সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও এটা ক্ষতিকর। আর নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সরকার নৌপথের নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বছরের পর বছর ধরে নদীপথগুলো অরক্ষিতই পড়ে থাকছে। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হলে নদীপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা অসম্ভব নয়। সমকালের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনার ৪০-৫০ কিলোমিটার পথই গোটা উত্তরাঞ্চলে ডাকাতির জন্য কুখ্যাত। সড়কপথের বিড়ম্বনা এড়াতে ও সময় বাঁচাতে আশপাশের কয়েক জেলার যাত্রীরা ওই নদীপথ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ঈদুল আজহার আগের দিনগুলোতে সেখানে অন্তত ১০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। নদীপথে সর্বস্ব হারিয়েছে উৎসবে ঘরমুখো মানুষ। ওই সামান্য এলাকায় ডাকাতি বন্ধ কি প্রশাসনের পক্ষে অসম্ভব? আমরা বিশ্বাস করি না। শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বুড়িগঙ্গায় কারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তা ওপেন সিক্রেট। প্রয়োজন আসলে উদ্যোগ। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে তৎপর হবেন। অন্যথায় সমকালে প্রকাশিত নৌ-শ্রমিকদের এই অভিযোগই ভিত্তি পাবে যে, এসব ডাকাতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে প্রশাসনেরই একটি শ্রেণী জড়িত।

No comments

Powered by Blogger.