বিএইচআরএফের সেমিনারে ব্যারিস্টার রফিক-উচ্চ আদালতে আইন দেখে বিচার করা হচ্ছে না

সংবিধান বিশেষজ্ঞ সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আইন দেখে বিচার করার জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'আইন না মানা সবার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাইকে আইন মানতে হবে। দুই নেত্রীকে একে অপরের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।'বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ) আয়োজিত 'এঙ্সে টু জাস্টিস' শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার


রফিক-উল হক এ কথা বলেন। গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল হক মলি্লক।
ব্যারিস্টার রফিক বলেন, 'উচ্চ আদালতে আইন দেখে বিচার করা হচ্ছে না। মানুষের মুখ দেখে বিচার করা হচ্ছে। আমরা চাই, আইন দেখে বিচার করা হোক। তাছাড়া সমাজের অরাজকতা বন্ধ হবে না। তিনি দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিজস্ব আদালত গঠন করার ক্ষমতা দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট এলিনা খানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক মো. আল মামুন, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আলী আসগর স্বপন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মিডিয়া ও লিগ্যাল উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মো. সোহাইল, সিআইডির সিনিয়র এএসপি সাদিয়া, ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম, অসীম শেখ ও সাবরিনা আলী, বিএইচআরএফের মহাসচিব রাজিব সামদানী, অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সহকারী পরিচালক এম রবিউল ইসলাম, অপরাজেয় বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্পিতা দাস। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ এম জিয়া হাবিব আহসান।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, 'হাইকোর্টে মুখ দেখে বিচার করা হচ্ছে। মামলার বাদী বা বিবাদী কে কিংবা তাঁর আইনজীবী কে, তিনি কোন দল করেন_তা দেখে বিচার হচ্ছে। গত দুই-তিন বছর ধরে এমন প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে, আমি মামলা করলেও সঙ্গে এমন সব আইনজীবী রাখতে হচ্ছে, যাঁদের দেখে হয়তো আদালত খুশি হবেন'। তিনি বলেন, 'এ বক্তব্যের জন্য আমার আদালত অবমাননা হতে পারে। এর পরও বলছি, এসব বিষয়ে বিচারকরা প্রভাবিত হচ্ছেন কি না জানি না। তবে আইনজীবীরা মনে করছেন, বিচারকরা প্রভাবিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?'

No comments

Powered by Blogger.