চীন সাগর বিরোধ নিয়ে আলোচনা

ন্দোনেশিয়ার বালিতে অঘোষিত বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও। গতকাল শনিবার অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনের (আসিয়ান) সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন ওবামা এবং জিয়াবাও। গত এক সপ্তাহে দেশ দুটির মধ্যে বাকযুদ্ধের পর বৈঠকে মিলিত হলেন তারা। বৈঠকের পর কোনো সংবাদ সম্মেলন হয়নি। বৈঠকের আলোচ্যসূচিও জানানো হয়নি। খবর : এএফপি, বিবিসি অনলাইন।


তবে বিবিসি জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দক্ষিণ চীন সাগর, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং চীনের মুদ্রামান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম ডনিলন বলেছেন, উভয় নেতা মূলত সৌজন্য সাক্ষৎ করেছেন। এ সময় তাদের মধ্যে অর্থনীতি ও দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, বেইজিং দক্ষিণ চীন সাগরের পুরো মালিকানা দাবি করে। অন্যদিকে আসিয়ানের চারটি সদস্য দেশ এ সাগরের অংশবিশেষ দাবি করে আসছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত শিপিং লেনগুলোর মধ্যে কয়েকটি দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত এবং এ সাগরে প্রচুর তেল ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে। ইউ আকৃতির এ সাগরের বেশিরভাগ অংশ দাবি করছে চীন। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ব্রুনেইও এ সাগরের দাবিদার। কয়েক মাস ধরে চীন ক্রমশ তার দাবির পক্ষে জোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে তারা এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়ার জন্য চীনের ওপর চাপও সৃষ্টি করছে।
আসিয়ান সম্মেলনের আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে ওবামা জানান, নিরাপত্তা নীতিতে এ অঞ্চলকেই যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। ওবামা বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এ অঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীর ভূমিকা বাড়ানো হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠকের একদিন আগে চীনা প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ার করে বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে বিদেশি শক্তির উপস্থিতি এবং হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বেইজিং।

No comments

Powered by Blogger.