ঢাকার আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়ার প্রস্তাব সুশীল সমাজের- রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপে বসার তাগিদ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সুশীল সমাজ এবং এনজিও প্রতিনিধিদের সংলাপে ঢাকার আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা। কয়েকজন প্রতিনিধি সংসদীয় আসন সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেন।


ইসির প্রথম সংলাপে বক্তাদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয় নির্বাচন কমিশন। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না থাকায় আলোচকরা আলোচনা করতে সমস্যার সম্মুখীন হন। সংলাপের বিষয় সীমানা নির্ধারণ হলেও অধিকাংশ বক্তা বিষয়ের বাইরে গিয়ে আলোচনা করেন। সংলাপে সিইসিকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলেও কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি সংলাপের আকস্মিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সুশীল সমাজের সঙ্গে এ সংলাপ হওয়ার কথা থাকলেও এতে অধিকাংশই ছিল বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি।
সংলাপের শুরুতেই সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মোঃ আবু হাফিজ, মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক, মোঃ জাবেদ আলী, মোঃ শাহ নেওয়াজ ও কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক। এছাড়াও কমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সুশীল সমাজ ও এনজিও প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, অধ্যাপক মনিরুজ্জাামান মিয়া, এ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন, এম হাফিজ উদ্দিন খান, ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলাম, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, শারমিন মুরশিদ, ফরহাদ মাজহার, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, ড. তারেক শামসুর রেহমান, এ্যাডভোকেট সালমা আলী, তালেয়া রেহমান, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, রাশেদা কে চৌধুরী, এরোমা দত্ত, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মনিরা খান, তারিকুল গনি, মাহমুদুল হক, শহিদুল ইসলাম, রোকেয়া কবির, মোহাম্মদ সামাদ, এম এম আকাশ, ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, রেখা চৌধুরী, জনা গোস্বামী, মোরশেদ আলম, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ড. জহুরুল আলম, এ এইচ এম নোমান, খুশি কবির, আ স ম আরেফিন, ড. রশিদ-ই মাহবুব, এম রেজাউল করিম চৌধুরী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, রঞ্জন কর্মকার, দিলারা চৌধুরী, হুমায়ুন কবির, সেলিনা খালেক ও ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার।
ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেন, একই জেলার সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রকম ভোটার চিত্র বিদ্যমান। এ জন্য আসন অনুযায়ী ভোটার বৈষম্য দূর করার তাগিদ দেন তিনি।
অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে তা আমরা জানি না। আলোচনায় এসব বিষয় উল্লেখ থাকলে ভাল হতো।
এ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন বলেন, শুধু জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ না করে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, সংবিধানে কমিশনকে যে স্বাধীনতা দেয়া আছে ইসির কাজে তা অনুপস্থিত। তিনি বাংলাদেশে কখনও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি দাবি করে বলেন, ভোটাররা স্বামী বা স্ত্রীর চাপে, চেয়ারম্যান-মেম্বার ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের চাপে এখনও ভোট দেন। সিইসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংবিধানই আপনাদের প্রধান দিক নির্দেশনা হওয়া উচিত।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বিগত কমিশনের প্রস্তাবকে সমর্থন করে বলেন, ঢাকার আসন সীমিত রাখা দরকার এবং কোন জেলার আসন যেন দুটির চেয়ে কম না হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে যেন ন্যূনতম একটি করে আসন রাখা হয়। ডিসিসি নির্বাচন না হওয়ায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিধি বিধান না মেনে সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই ডিসিসির তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠানের তাগিদ দেন তিনি।
ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, সারাদেশ থেকে ইসিতে কী বিষয়ে অভিযোগ এসেছে তা আমরা জানি না। বিষয়টি আলোচ্যসূচীতে উল্লেখ থাকলে ভাল হতো।
সৈয়দ আবুল মকসুদ কমিশনকে প্রশ্ন রেখে বলেন, নাম পরিবর্তন এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমে দেখেছি নির্বাচন কমিশনেরও নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এসব নাম পরিবর্তন করা আপনাদের দরকার কী?
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, জনসংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এখন আসন সংখ্যা ৩শ’ থেকে বাড়িয়ে ৬শ’ করার দাবি জানান তিনি।
এম এম আকাশ বলেন, সীমানা নির্ধারণের মূল স্টেক হোল্ডার রাজনৈতিক দল। তাই সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরী।
তারেক শামসুর রেহমান বলেন, আলোচ্য বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) নির্বাচনী অনেক গুরত্বপূর্ণ বিষয় নেই কেন? রাজনৈতিক দল হলো মূল স্টেক হোল্ডার। সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের চেয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসার তাগিদ দেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান কমিশনকে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলপত্র করার তাগিদ দেন। সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলকে প্রাধান্য দেয়ার তাগিদ দেন তিনি।
এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনের সীমানা বিভাজন করার ক্ষেত্রে যাতে যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে। শারমিন মুরশিদ বলেন, বিগত কমিশনের সময় যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল তা যেন অক্ষুণœœ থাকে। জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে ইসিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তালেয়া রেহমান সংসদীয় আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানান। ফরহাদ মাজহার বলেন, সংবিধানের মধ্য থেকে সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনিও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসার তাগিদ দেন। এ্যাডভোকেট সালমা আলী পর্যায়ক্রমে নাগরিক সমাজের পরামর্শ নেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সারাদেশের নাগরিক সমাজ এক সঙ্গে এক-দেড় ঘণ্টা সময়ে কোন সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিতে পারবে না।

No comments

Powered by Blogger.