ছাত্রলীগের টানা তাণ্ডবে অস্থির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়োগ-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগকর্মীরা দিনভর বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি পরিচালকের অফিস, মেডিক্যাল, প্রকৌশলী ও পরিবহন অফিস এবং প্রশাসনিক ভবনে ভাঙচুর চালায়।


ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের এ তাণ্ডবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত দুই কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একের পর এক তাণ্ডবের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। চলমান অস্থিরতার কারণে যেকোনো সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১৭তম সিন্ডিকেট সভায় ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি এবং পরিসংখ্যান বিভাগে চারজন শিক্ষক ও ১১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেট অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আলাউদ্দিনের কাছে প্রায় ২০০ জনের একটি তালিকা দিয়ে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু সিন্ডিকেট দেওয়া নিয়োগে জাহাঙ্গীর-তুহিন গ্রুপের অনেকেই চাকরি না পাওয়ায় গ্রুপের অনেক নেতা-কর্মী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর আগে দুই দিন এ নিয়ে তারা নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। সর্বশেষ গতকাল শামসুজ্জামান তুহিনের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ছাত্রলীগকর্মী ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে থাকে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম তোহার কক্ষ ভাঙচুর করে। সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসেও তারা ভাঙচুর চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী দুপুর ১২টায় ভাঙচুর হওয়া বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের ধাওয়ার মুখে পড়েন। দ্রুত গাড়িতে করে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, 'ইবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কোনো ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।' বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আলাউদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, 'শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থাকায় আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। ক্যাম্পাসে ফিরে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।'
উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার কাছ থেকে জানা যায়, ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের সুপারিশ করা বেশির ভাগ প্রার্থীর চাকরি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় তুহিন গ্রুপের কয়েকজন কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মেহের আলীর কক্ষের চেয়ার, টেবিল, টেলিফোন, কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্স ঝিনাইদহ শহরে পৌঁছালে ছাত্রলীগের কর্মীরা সেটি ভাঙচুর করে। এরপর রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক এলাকার ডরমেটরির গাড়ির স্ট্যান্ডে একটি পেট্রল বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস পুড়ে যায়। আরো একটি বাসের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। একাধিক ছাত্র সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতারা এসব ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন।

No comments

Powered by Blogger.