জমকালো শাড়ি ও পাঞ্জাবি by রেজা ফারুক

ঈদের তুমুল উৎসবমুখর গুঞ্জরণ এখন চারিদিকে। কারও যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। যে যার মতো সেরে নিচ্ছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। বিশেষ করে কেনাকাটার ধুম লেগেছে ফ্যাশন হাউস থেকে শুরু করে বিভিন্ন শপ হাউসে। এই ধুম চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।


ঈদের কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় পোশাক আর এই পোশাকের মধ্যে শাড়ি হলো অন্যতম। বাঙালী নারীর কাছে শাড়ির কদর সব থেকে বেশি। অন্যান্য ড্রেসের সঙ্গে শাড়ি থাকবেই। শাড়ি না হলে যেন নারীর ঈদটাই থেকে যায় অপূর্ণ। তাই শপিংমলসহ বিভিন্ন মার্কেটের শাড়ির দোকানে যেন এখন পা ফেলারও যায়গা নেই। দেশীয় শাড়ির পাশাপাশি বিদেশী শাড়িও ঈদের কেনাকাটার তালিকায় স্থান পায়।
দেশীয় শাড়ির মধ্যে সর্বাধিক চাহিদা হলো টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ও জামদানি শাড়ির। এর পাশাপাশি মিরপুরের বেনারসি, কাতানের রয়েছে বিপুল সমাদর। জর্জেট, অর্গেসুতা, কামিতভরমসহ অভিজাত নামের সব বাহারি শাড়ি ও বিভিন্ন ড্রেস হাউসে। তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। টাঙ্গাইলের শাড়িতে সাম্প্রতিক ডিজাইনের বৈচিত্র্য এবং সহনীয় দাম নারীদের এই শাড়ির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার অন্যতম মূল কারণ। সুতি, সিল্ক, হাফসিল্কসহ নানা নামের টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ঈদের সময় থাকে নারীর কালেকশন লিস্টের শীর্ষে। এর পরই থাকে জামদানি এবং মিরপুরের বেনারসি-কাতান। জামদানি কিছুটা বেশি দামের হলেও মিরপুরের বেনারসি-কাতানের দামটাও রয়েছে নাগালের মধ্যে। যার ফলে টাঙ্গাইলের তাঁত পল্লী, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ তাঁত পল্লীসহ সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনার গাঁয়ের জামদানি ফ্যাক্টরি এবং মিরপুরের বেনারসি পল্লীতে চলছে তাঁত শিল্পীদের অবিশ্রান্ত ব্যস্ততা। ঈদের মাস কয়েক আগে থেকেই দেশীয় শাড়ির এই চেনা অঞ্চলগুলোতে গিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে তাই অনর্গল তাঁতের খটাংখট শব্দের মুখরতা কানে আসাটা স্বাভাবিক। যার তরঙ্গ-বীথি এই ঈদে এসে ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীসহ বিভাগীয় জেলা এবং উপজেলা শহরের শাড়ি সমৃদ্ধ শপিং হাউসগুলোতে। সুতির আটপৌরে শাড়ি থেকে শুরু করে জমকালো শাড়ি-সবই ডিসপ্লেতে সাজিয়ে বসেছে শাড়ি হাউসগুলো। আর সেখানে নারীদের ভিড়টাও লক্ষণীয়। সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের শাড়িটি কিনে-তার পর যেন পরিতৃপ্তির নিশ্বাস ফেলে ঘরে ফেরার পালা। রোজার শুরু থেকে ঈদের পূর্বরাত পর্যন্ত চলবে এই মহা কেনাকাটা।
ঈদের উৎসবকে ঘিরে শপিংমল থেকে শপিংমলে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা চলে প্রতি ঈদেই। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বাঙালী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় উৎসবে মনের আনন্দটা যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসে চোখে মুখের অভিব্যক্তিতে। নারীদের মধ্যে এই অভিব্যক্তিটা আরও উজ্জ¦লতা পায় মনের মতো শাড়ি কেনার পর-যার আনন্দঘন রেশটা অবশ্যই অভূতপূর্ব। ৮০০ থেকে ৫০০০ হাজারের মধ্যে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। ৩০০০ হাজার থেকে ২০,০০০ হাজারের মধ্যে জামদানি শাড়ি এবং মিরপুরের বেনারসি-কাতানও সহনীয় দামে কিনতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন দামের অন্যান্য শাড়িও সংগ্রহ করা যাবে শপিং হাউসগুলো থেকে।
ফ্যাশন হাউসগুলো পিছিয়ে নেই এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি তৈরিতে। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস যে সব পাঞ্জাবি প্রস্তুত করেছে এর মধ্যে সিল্ক, এ্যান্ডি সিল্ক, সূতি, জয়সিল্ক, এবং এ্যান্ডি কটন অন্যতম। এবারে একেক টি ফ্যাশন হাউস ৭০ থেকে ৭৫ টি ডিজাইনের পাঞ্জাবি এসেছে বাজারে। রয়েছে রঙের ভেরিয়েশন। শর্ট এবং সেমি লং পাঞ্জাবির আধিক্যতা রয়েছে এবার। লং পাঞ্জাবির চাহিদা তুলনামূলক কম। ঈদ আয়োজনে আড়ংও তাদের ডিজাইনের ঝুলিতে যোগ করেছে ২০-২৫ টি নতুন ডিজাইন। সিল্ক, এ্যান্ডি সিল্ক, সুতি এবং মসলিনকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এবারে প্রায় প্রতিটি শো রুমেই চোখে পড়বে এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবির। আড়ং, অঞ্জন’স, কে ক্র্যাফট, রঙ, নগরদোলা, নিপুন, লুবনান, ইনফিনিটি, রেক্স, ভাসাবি এবং জারা তে চোখে পড়বে এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি। এছাড়া আজিজ সুপার মার্কেট সেজেছে আপন মহিমায়। সাধ ও সাধ্যের এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি সহজেই খুজে পাওয়া যাবে। আড়ং এর পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৯০০ টাকা থেকে ৮৫০০ টাকা। লুবনান, ইনফিনিটিতে পাওয়া যাবে ১২৫০ টাকা থেকে ৯০৫০ টাকা। ভাসাবি কিংবা জারা তে পাওয়া যাবে ১৮০০ টাকা থেকে ২৫০০০ টাকার মধ্যে। আজিজ সুপার মার্কেটে পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ৬৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।
মডেল : রাসেল, জোয়েনা ও নাদিয়া নদী
পোশাক : হোয়াইট কার্ড ও ডিজাইন মেলা

No comments

Powered by Blogger.