উৎসবে সালোয়ার কামিজ

অপরূপ সুন্দর আমাদের এই বাংলাদেশ। এই সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ষড়ঋতুর ছোঁয়ায়, ঋতুভিত্তিক বাংলাদেশ অনেক বেশি বর্ণিল। কতই না রং। কি অনবদ্য শিল্পীর ছোঁয়া, রং রূপের যেন এক মহাসম্মিলন ঘটে এই দেশে। যে দেখে সেই ভালোবেসে ফেলে এই দেশটাকে। সেই সাথে যদি যোগ হয় কোন উৎসব তাহলে তো কথাই নেই।


উৎসবের রঙিন আকাশের বর্ণিল আভা যেন ছড়িয়ে পরে চারদিকে। তেমনি এক উৎসব হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতর, মুসলমানপ্রধান ধর্মীয় উৎসব। যে কারণে মুসলিমপ্রধান এই দেশে এ উৎসবের মাত্রা যেন বহু গুণে বৃদ্ধি পায়, এ উৎসবে একে অপরকে উপহার দেয়াটাও একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আর এ উপহারের তালিকায় পোশাক হচ্ছে অন্যতম। আর ক্ষেত্রে নিত্য ব্যবহার্য পোশাক সালোয়ার কামিজে রয়েছে বৈচিত্র্যতা। শুধু যে সালোয়ার কামিজে তা নয় নামেও রয়েছে বৈচিত্রতা। নামগুলোও বেশ মজার। খুশি, আওয়ারা, এজেন্ট বিনোদ, সারিকা, কারিশমা ইত্যাদি মজার মজার সব নাম। পাজামা, ওড়না ও কামিজের ভিন্নধর্মী নকশা সালোয়ার কামিজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে যা সহজেই দৃষ্টি কাড়ে ক্রেতাদের । ভয়েল, পপলিন, প্রিন্ট, আদ্দি কটন, কটন জর্জেট, টিসি সিনথেটিক কালার ইত্যাদি কাপড়ের সমন্বয়ে এবার প্রস্তুত হয়েছে সালোয়ার কামিজ। আবহাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে সালোয়ার কামিজের কাপড় সিলেকশন করা হয়েছে।
সালোয়ার কামিজের পাশাপাশি ওড়নার বৈচিত্র্য এবার লক্ষণীয়, এর কাটিং ডিজাইন এবং লেআউটে রয়েছে ভিন্নতা। সুতার কাজ, ক্রিস্টাল, মেটাল আইটেম এবং কড়ি দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে সালোয়ার কামিজ এবং ওড়নায়। তাছাড়া শিপন জর্জেটের স্ট্রাইপ পাঠানের হেভি কাজের সালোয়ার কামিজ প্রচুর উঠেছে বাজারে। স্টোন এবং স্ট্রিং পাইপের ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ এবার বাজারে বেশ। সুতি কাপড়ের চাহিদাও এবার বেশ রয়েছে। পাইপিন এবং টারসোলর সমন্বয়ে কটন এবং এন্ডি কটনের ডিজাইন করা হয়েছে। এ সম্বন্ধে ডিজাইনার হৃদি হাসান বলেন, সব বয়সী মেয়েদের জন্য সালোয়ার কামিজ প্রস্তত হলেও নতুন নতুন ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ মূলত তরুণীদের কথা মাথায় রেখে করা হয়। সেভাবেই কাপড় এবং ডিজাইন প্রস্তত করে থাকি। তাছাড়া প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে ডিজাইন ভেরিয়েশনের কোন বিকল্প নেই, এবারের ঈদেও নতুন কিছু ডিজাইনের ড্রেস এসেছে যা খুবই আকর্ষণীয় এবং ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় এবং বেচাকেনাও বেশ ভালো বলে বিক্রেতারাও সন্তুষ্ট।
কটন ও তাঁত কাপড়ে তৈরি সালোয়ার কামিজের মূল্য পড়বে ৮৫০ টাকা থেকে ১৮৫০ টাকা, জর্জেট এবং শিপনের মাঝারি সাইজের সালোয়ার কামিজ পড়বে ১১০০ টাকা থেকে ২৮০০ টাকা এবং হেভি কাজ পড়বে ১৬০০ টাকা থেকে ৪২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও আদ্দি ভয়েল, এপ্লিক মোটা সুতার কাজ পড়বে ১০০০ থেকে ১৬০০ টাকা। দেশীয় ফ্যাশন হাউজ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি শপিং মলেই বিক্রি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সমন্বয় করেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সালোয়ার কামিজের।
মাসুদ রানা

No comments

Powered by Blogger.