অচলাবস্থার অবসানই কাম্য

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এখানে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা অধ্যয়নের সুযোগ পায়। বহু শ্রম ও সাধনার ফলশ্রুতিতে তারা প্রকৌশল ও কারিগরি বিদ্যার এই উচ্চতম শিক্ষায়তনে ভর্তি হয় অনেক স্বপ্ন আর উচ্চাশা নিয়ে।


তাদের এই স্বপ্ন আর উচ্চাশার সঙ্গে মিশে থাকে অভিভাবকদের স্বপ্ন আর কষ্টার্জিত অর্থের বিষয়টিও।
বুয়েটকে আগে মনে করা হতো অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি ও নির্ঝঞ্ঝাট বিশ্ববিদালয়। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্দোলন-অস্থিরতা এখানে তেমন ছিল না। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখানেও যেন অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুয়েটে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই প্রমাণ। বুয়েটের ভিসি-প্রোভিসির পদত্যাগসহ অন্যান্য দাবিতে বুয়েট শিক্ষক সমিতির ব্যানারে কিছুদিন আগে যে আন্দোলন শুরু হয়, সেটি এখন দৃশ্যত স্থগিত থাকলেও বুয়েট পরিস্থিতি তথা ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের ওপর তা কোন অনুকূল প্রভাব ফেলেনি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে শিক্ষক সমিতি প্রকাশ্যে আন্দোলনে যাচ্ছে না। বুয়েটের ভিসি-প্রোভিসিও যথাস্থানে রয়েছেন। এতে দেশের একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত যে প্রগাঢ় অন্ধকারের আবর্তে হাবুডুবু খাচ্ছে; এর জন্য জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, সে চিন্তা কি কেউ করছি? উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যতিরেকেই ভিসি-প্রোভিসিকে বরখাস্ত করার দাবি যাঁরা করছেন তাঁরা বুয়েটেরই শিক্ষক, ছাত্রজীবনে উজ্জ্বলতম মেধার স্বাক্ষর রেখেই তাঁরা এখানে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়েছেন। সেই মেধাবী শিক্ষকবৃন্দ একবারও চিন্তা করছেন না যে তাঁদের ছাত্রজীবনে এমনটি হলে তাঁদের বা তাঁদের অভিভাবকদের অবস্থা কেমন হতো! প্রধান বিবেচ্যÑএসব সম্ভাবনাময় মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত। শিক্ষক সমিতি বনাম ভিসি-প্রোভিসির অনড় যুক্তিতর্কের যুদ্ধ শিক্ষার্থীদের কি কোন কাজে এসেছে? আসেনি। এই ডামাডোলের মাঝে তাদের জীবন থেকে ইতোমধ্যে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘ দেড় মাস পর বুয়েট খুললেও তাদের সামনে আশার আলো এখনও দেখা যাচ্ছে না। এখনও ক্লাস চলছে না। বিভিন্ন বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তিচ্ছুদের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ারও কোন উদ্যোগ নেই। এটা কিসের আলামত? কতদিন উজ্জ্বল মেধাবী সন্তানদের জীবনের মূল্যবান সময় এভাবে নষ্ট হতে থাকবে?
জানা যায়, শিক্ষক সমিতির কিছু নেতার সরকারবিরোধী নানা কানেকশন রয়েছে। অভিযোগ আছে ভিসি-প্রোভিসির পক্ষে সরকারী আনুকূল্যেরও। এসব অভিযোগ সত্য-মিথ্যা যা-ই হোক না কেন, সেজন্য কোন বিবেচনায়ই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে শিক্ষামন্ত্রী আলোচনায় বসেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে দেখা গেছে। এমনকি আন্দোলন বন্ধ করে বুয়েট খুলে দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশও দিয়েছে। কিন্তু সার্বিক অচলাবস্থা যেমন ছিল প্রায় তেমনই আছে। বুয়েট খুলেছে। কিন্তু স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। বস্তুত আন্দোলন-সংগ্রামের পেছনে এত শ্রম আর সময় ব্যয় করতে থাকলে একাডেমিক কাজে মনোযোগ দেয়ার সময় পাবে কোথায়!
যে ব্যক্তি বা মহলই অচলাবস্থা সৃষ্টির পাঁয়তারা করুক না কেন, এর সার্বিক দায়ভার কিন্তু সংশ্লিষ্টদের ওপরই বর্তাবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে অতিসত্বর বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য কার্যক্রম সচল করা জরুরী।

No comments

Powered by Blogger.